সরবরাহ লাইনের বিকল্প রুট খুঁজতে হবে: ব্রি. জে. একেএম শামসুল ইসলাম (শামস), প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা হামলার ঘটনা এখনো আকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। স্থলযুদ্ধ শুরু হয়নি। তার আগেই যদি সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হয় তাহলে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। ইতোমধ্যে তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে ইরানকে রাজি করানো এবং দেশটিতে সরকার পরিবর্তন করা। যুক্তরাষ্ট্রের এটা যদি লক্ষ্য হয়ে থাকে এবং ইরানের জনগণ যদি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের আমদানি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজারে যাতে এর প্রভাব না পড়ে, সে ব্যাপারে সরকারকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সরবরাহ লাইনের বিকল্প রুট খুঁজে বের করতে হবে।
নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই ইরানে সন্ত্রাসী হামলা: মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত
যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ভালো নয়। আবার মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো সাফল্য দেখা যাচ্ছে না। এই দুই দুর্বলতা ঢাকতেই ইরানের ওপর তারা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করেছে, যাতে নিজের দেশের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। এবারের এই হামলার বিশেষ কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। তবে এই হামলায় ইরানের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সর্বোচ্চ ক্ষতি করতে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। এর সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের দামও বাড়বে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের অনেকেই কাজ হারাবেন। রেমিট্যান্সপ্রবাহও কমে যাবে। কারণ যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যায়।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে: মে. জে. (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান, প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ
ইরানে এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে ইরানের বাইরে এই হামলা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের ক্ষতি হয়েছে। আকাশপথও ভেঙে পড়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটবে, এতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। এ কারণে বাংলাদেশের সব আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারে স্থবিরতা দেখা দেবে। এতে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাবে। ফলে পরিস্থিতি আরও নাজুক ও জটিল হবে। এ জন্য আমাদের সব ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। আমাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিকল্প সাপ্লাই চেইন প্রস্তুত রাখতে হবে: ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক, ঢাবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবার বড় আকারে ইরানের ওপর হামলা করেছে। এই হামলা কত দিন চলবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের জনগণের ওপর। এবারের হামলার লক্ষ্য পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের চাইতে সরকার পতনের দিকে। কাজেই ইরানের জনগণ ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সরকার পতনের আন্দোলন কত দিনে শেষ করবে, তার ওপর নির্ভর করছে যুদ্ধের মেয়াদ। এর আগে ইরানের ওপর হামলায় ইসরায়েল নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং যুদ্ধ চলেছিল ১২ দিন। এবার ইরানে হামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নেতৃত্বে, যাতে ইরানের সরকারবিরোধী জনগণ সরকার পতনে খুশি হয়। তবে যুদ্ধ বেশি দিন চললে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ও শ্রমবাজারের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এতে রেমিট্যান্স কমে আসবে এবং পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। এ জন্য বিকল্প সাপ্লাই-চেইন প্রস্তুত রাখতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
.jpg)


