ড. ইউনূসকে আইনের আওতায় আনা উচিত: জেড আই খান পান্না, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী
সংবিধানের ১৪৬ ও ১৪৭ অনুচ্ছেদ পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায়, একজন প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান বা প্রধান উপদেষ্টা বা একজন মন্ত্রী/উপদেষ্টা কী করতে পারবেন বা পারবেন না। সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় থেকে তার ব্যক্তিস্বার্থে যা যা করেছেন, গণমাধ্যমের কল্যাণে এখন তা স্পষ্ট। এটাও স্পষ্ট যে, এসব কাজ ছিল সংবিধানবিরোধী, আইনবিরোধী, নীতি-নৈতিকতাবিরোধী।
সরকারের উচিত ব্যক্তিস্বার্থে করা এসব কাজের জন্য ড. ইউনূসকে আইনের আওতায় আনা। যদিও সরকার তা করছে না, বরং তার এসব কাজের বৈধতা দিচ্ছে। সরকারের কোনো দুর্বলতা আছে হয়তো, যে কারণে সরকার আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে এসব কাজের বৈধতা দিচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, একসময় কেউ না কেউ এসব বিষয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে।
ওনার ব্যক্তিস্বার্থে করা কাজগুলো বুঝতে খুব তো বেগ পাওয়ার কথা নয়। যেমন তার সময় রাজস্ব আইনে নতুন করে যোগ করা হয়, ‘কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত নোবেল’সহ বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত সুবিধা পাবে। তো ইতোপূর্বে এই পুরস্কার তো তিনিই পেয়েছেন। এসব পুরস্কার তো গড়পড়তা মানুষ পান না, তার মানে এটি ব্যক্তিবিশেষের সুবিধার্থে করা। অথচ আইন করতে হয় রাষ্ট্রের স্বার্থে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের স্বার্থে।
ড. ইউনূসের কোনো নীতিনৈতিকতা নেই, ধর্ম নেই। নাস্তিকেরও একটা ধর্ম থাকে, ওনার তাও নেই। ক্ষমতায় থাকতে তিনি ছিলেন মূলত তৌহিদী জনতার নেতা, যা আসলে স্বাধীনতাবিরোধীদের একটা সম্মিলিত জায়গা।
ন্যায্যতা ও সমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: বদিউর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর
একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেশের জনগণ যে উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। প্রথমত, কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তার ভাবমূর্তিকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা দেখেছি, তিনি অতীতে কর-সংক্রান্ত মামলায় আদালত পর্যন্ত লড়াই করে পরাজিত হয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে তাকে বাধ্য হয়ে কর দিতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর উনি খুব সহজে বিষয়গুলো তার পক্ষে নিয়ে আইন তৈরি করে বিপুল অঙ্কের প্রায় ৬৬৪ কোটি টাকার কর দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস প্রকৃতপক্ষে একজন অর্থলোভী এবং ক্ষমতালোভী মানুষ। আর আমার মতে, তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম সরকার। কেননা এই সরকার জনগণের মঙ্গলের চেয়ে ডক্টর ইউনূসের ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং স্বার্থ নিশ্চিত করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল।
কর-সংক্রান্ত ঘটনায় একজন সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টিতে ন্যায্যতা ও সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একজন সাধারণ করদাতা যেখানে নিয়ম মেনে কর দিতে বাধ্য, সেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই কর ন্যায্যতার বিষয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমার অভিমত হলো, এই ধরনের ঘটনা কর-ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করতে পারে। আর এর দায় পুরো অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরেই বর্তায়।
দ্বিতীয়ত, একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছে প্রত্যাশা থাকে যে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন অথবা সেগুলো নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য রেখে দেবেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর নিজের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য আইনগত বা নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহণ করেছেন; যা সুশাসন, ন্যায়পরায়ণতা এবং ফেয়ার গভর্ন্যান্সের মৌলিক ধারণার পরিপন্থি।
তৃতীয়ত, গ্রামীণ ব্যাংককে কেন্দ্র করে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত। তবে এর পরিচালনা কাঠামো, সরকারের অংশীদারত্ব এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতভেদ রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, যা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চতুর্থত, তিনি নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা সমঝোতার পথে হেঁটেছেন। একজন নিরপেক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে এই ধরনের ধারণা তৈরি হওয়াও তার গ্রহণযোগ্যতার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রভাব থাকলে তা দীর্ঘ মেয়াদে নীতি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
একজন রাষ্ট্রনায়কের মূল শক্তি হলো জনগণের আস্থা। ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনই সেই আস্থাকে সুদৃঢ় করে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু পদক্ষেপ সেই আস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একজন নোবেলজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার প্রতি প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও নৈতিক নেতৃত্বের–যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমি মনে করি, বর্তমান সরকারের এই বিষয়গুলো গভীর ও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, যাতে সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা অটুট থাকে।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর
‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়’–এই নীতি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি। একটি কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। কর মূলত একটি পুনর্বণ্টন প্রক্রিয়া, যেখানে সামর্থ্যবান নাগরিকরা রাষ্ট্রকে কর দেবেন এবং রাষ্ট্র সেই অর্থ ব্যবহার করে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশের বাস্তবতায় এই আদর্শ চিত্রটি অনেকাংশেই ব্যাহত হচ্ছে।
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এটা বলব যে, রাষ্ট্রের যেকোনো ব্যক্তিই হোক না কেন, তিনি যদি কর দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপারে অন্যায় করেন অথবা কর না দেন, তিনিও আইনের দৃষ্টিতে অবশ্যই সমান অপরাধী। এখন কোনো দেশের আইন হয়তো ভয় পেয়ে সেই বিশেষ ব্যক্তির বিষয়ে কিছু নাও বলতে পারে, কিন্তু প্রাকৃতিক আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের যেহেতু সমান অধিকার, সেহেতু তিনিও এটার আওতায় আসবেন। প্রাকৃতিক আইনের মূল কথাই হলো কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রপ্রধান বা অত্যন্ত প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি যদি কর ফাঁকি দেন বা কর নিয়ে কোনো অনিয়ম করেন, তিনিও এই আইনের আওতায় আসবেন।
কর সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো আইনের অসম প্রয়োগ। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে সমাজের প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা কর ফাঁকি দিয়েও নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যাচ্ছেন, তখন তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে–তারা কেন নিয়ম মেনে কর দেবেন?
কর সংস্কৃতি গড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো– কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে, সমাজের প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা কর ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন সাধারণ করদাতারা প্রশ্ন তোলেন, তারা কেন কর দেবেন? এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে অবিচার ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং মানুষকে কর দিতে নিরুৎসাহিত করে।
এর পাশাপাশি দুর্নীতি একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে কাজ করছে। নাগরিকরা যখন অনুভব করে যে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় না হয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে অপচয় হচ্ছে, তখন কর দেওয়ার প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট হয়। কর তখন আর দায়িত্ব বা কর্তব্য বলে মনে হয় না, বরং একটি অর্থহীন বোঝা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাষ্ট্রীয় সেবার অভাব। মানুষ কর দেয় এই প্রত্যাশায় যে তারা বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী মূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে কোচিং করতে হচ্ছে এবং সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। ফলে নাগরিকদের ওপর ‘ডবল খরচ’-এর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মানুষ যখন কম খরচ করে, তখন বাজারে লেনদেন কমে যায় এবং রাষ্ট্রও পরোক্ষভাবে ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে কর ফাঁকি কেবল নৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক সমস্যাও বটে!
সুশাসনের অভাব, রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে না পারা এবং দুর্নীতির কারণে নাগরিকরা কর দেওয়ার বিনিময়ে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা বাংলাদেশে একটি সুস্থ কর সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পথে প্রধান অন্তরায়। তাই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর কর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। আইনের সমান প্রয়োগ, দুর্নীতির কঠোর দমন এবং মানসম্মত রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদান–এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকদের মধ্যে কর দেওয়ার প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। তখনই প্রকৃত অর্থে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
ব্যক্তিস্বার্থে করা কাজগুলো ছিল অনৈতিক ও অবৈধ: মনজিল মোরসেদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলনামা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উনি সরকারপ্রধানের নিরপেক্ষ চেয়ারে বসে নিজের পক্ষে নিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের কর মওকুফসহ যা যা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার তা পাস করিয়ে নিয়েছেন। অথচ উনি ছিলেন বিচারকের আসনে, মানে রাষ্ট্রের জন্য যা যা কল্যাণকর তা বিচার-বিবেচনার মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এমন একটি জায়গায় থেকে কী অবলীলায় তিনি নিজের স্বার্থে যা দরকার, সব পাস করিয়ে নিয়েছেন। এসব কাজ বেআইনি। Conflict of Interest. ব্যক্তিস্বার্থে করা ওনার কাজগুলো ছিল অনৈতিক ও অবৈধ।
সরকার চাইলে এসবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। হয়তো করবে না। তবে জনগণ সরকারের কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করে। চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তদন্ত করতে পারে। এখন না হলেও কোনো একদিন, কেউ না কেউ নিশ্চয়ই এসব অনৈতিক ও অবৈধ কাজকে আইনের মুখোমুখি করবে।


.jpg)