দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভা ‘পুণ্যভূমি’ সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে। আজ বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আসছেন। সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। জনসভামঞ্চে সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা থাকবেন।
জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সকালে সিলেট পৌঁছে মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিয়ম করবেন। পরে নগরীর কেন্দ্রস্থলে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটিই আওয়ামী লীগের প্রথম নির্বাচনী জনসভা।
চলতি মাসে আরও কয়েকটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট, রাজশাহী বিভাগের নাটোর ও পাবনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে ভার্চুযালি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টায় বরিশাল জেলা সদরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। পরের দিন ৩০ ডিসেম্বর শনিবার গোপালগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকায় (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) এবং মাদারীপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।
ভোটের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পর থেকে পুণ্যভূমি সিলেটকে নিয়ে একধরনের ‘মিথ’ প্রচলিত। বলা হয়, ‘সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার’। জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে। প্রচলিত এই মিথের জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষজনের ধারণা, হজরত শাহজালালসহ ৩৬০ আউলিয়ার পদচারণে ‘পুণ্যভূমি’ হিসেবে সমাদৃত সিলেট-১ আসনটি সব দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের প্রধানরা সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) এবং হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। সেই ধারায় এবারের জনসভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
শেখ হাসিনার অগমন উপলক্ষে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এলাকায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে জনসভামঞ্চ। সামনের রাস্তাসহ চারপাশ বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ স্থানীয় নেতারা। প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় এই নেতা।
জনসভা ঘিরে সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থক এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রায় সব প্রচার সিলেট থেকে শুরু হয়েছে জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করে সবার আগে সিলেট ছুটে এসেছিলেন। এরপর থেকে দেশে আওয়ামী লীগ যেসব জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সব কটির প্রচার শুরু হয়েছে সিলেট থেকে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছিলেন ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর। নানা কারণে এবারের নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং। নির্বাচনী বার্তা পেতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিলেট শহরে যাচ্ছেন।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা স্মরণকালের বৃহৎ জনসমাবেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হবেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সিলেটবাসী বরণ করে নিতে প্রস্তুত। সিলেট থেকেই শুরু হবে সারা দেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার। বঙ্গবন্ধুকন্যা যে নির্দেশনা দিয়ে যাবেন, সেই নির্দেশনাই আমরা পালন করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করব।’