ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বৃক্ষরোপণ যে আশ্বাস শুনলে সব ভয় দূর হয়ে যাবে বৈশ্বিক চিকিৎসাসেবায় বেক্সিমকো ফার্মার নতুন মাইলফলক নাফ নদীতে ২ নৌকাসহ ৭ জেলে আটক করেছে আরাকান আর্মি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বিশ্বকাপ উন্মাদনায় খবরের কাগজে প্রতিদিন ৪ পৃষ্ঠার বিশেষ আয়োজন কাজের আশায় রাশিয়ায়, প্রাণ গেল ড্রোন হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১১ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর: সেমিনারে বক্তারা জুলাই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জন নিহত মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু আইফোনের ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এয়ারপডসে হাংচৌতে চায়না এআই উদ্যোক্তা সম্মেলন শুরু রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম ইসাক-গাইকোরেস রসায়নে মুগ্ধ কোচ পটার মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান বাজেট কি শিশুবান্ধব ও শিশুর খাতে দৃশ্যমান? পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ হল ছাড়লেন জাকসুর জিএস, সময় চাইলেন ভিপি হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে
Nagad desktop

আজিজ-বেনজীরের দুর্নীতির অংশীদার সরকারও : দুদু

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৪:৫৮ পিএম
আজিজ-বেনজীরের দুর্নীতির অংশীদার সরকারও : দুদু
ছবি : খবরের কাগজ

সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অংশীদার সরকারও বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, ‘ডাইরেক্টলি না হলেও ইন্ডাইরেক্টলি এই সরকারও তাদের সঙ্গে জড়িত। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। তার মাধ্যমে ২০১৮ সালে আপনারা নদী পার হয়েছিলেন। পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য বলেছে কোর্ট। সে শুধু আপনাদের সমর্থকই ছিলেন না, তার ঘাড়ে চেপে পুলিশের সমর্থনে আপনারা সরকার গঠন করেছেন।’
  
শুক্রবার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

দুদু বলেন, ‘সরকার বড় বিপদে আছে। গতকাল বর্তমান এই দখলদার প্রধানমন্ত্রী সাদা চামড়া প্রসঙ্গে যে কথা বলেছেন সেটি অত্যন্ত মারাত্মক। আজকে প্রধানমন্ত্রীকে জাতির সামনে এই কথাকে স্পষ্ট করে বিবৃতি দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। সাদা চামড়া বলতে আপনি (শেখ হাসিনা) কাদেরকে বুঝিয়েছেন।’
  
তিনি বলেন, ‘আজকে আপনি দেশের রাস্তাঘাট, বন্দর পার্শ্ববর্তী দেশকে দিয়ে দিয়েছেন। আপনি নিজেও স্বীকার করেছেন ভারতকে আপনি এমন কিছু দিয়েছেন যেটি ভারত কখনোই ভুলতে পারবে না। সাদা চামড়া বলতে আপনি কাদেরকে বুঝিয়েছেন? যে আপনার কাছে দাবি করেছে যে সাদা চামড়ারা নতুন রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছে- এই কথাটি আপনাকে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এই কথার মধ্যে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব থাকবে কি না সেটা দেখা দিয়েছে।’
 
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের প্রসঙ্গ টেনে দুদু আরও বলেন, ‘আনার স্বর্ণ চোরাচালানসহ অনেক অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি আপনি একটি নির্বাচন দেখিয়ে ক্ষমতায় আসার তিন মাসের অবস্থায় আপনি অস্থির হয়ে গেছেন। বাকি সময় এখনো পড়ে আছে। চারদিকের যে পরিস্থিতি, এখন সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে টান পড়েছে। সরকার থাকবে কি না, কবে যাবে, কত তারিখে পদত্যাগ করবে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরপরও আমি শেখ হাসিনাকে বলব, আপনি পদত্যাগ করে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুস্থ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রক্ষা করার জন্য জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে দিয়ে দেন। তা হলে হয়তো রেহাই পেলে পেতেও পারেন।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘এই দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে যারা মিথ্যা মামলায় তথাকথিত বিচারের নামে ছয়টি বছর জেলখানায় বন্দি রেখেছে, তাদের আগামী দিনে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এ দেশের ব্যাংকগুলো লোপাট করে দেশটাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। দেশকে রক্ষা করার জন্য হলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

আয়োজক ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ্ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, ওলামা দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা আবুল হোসেন, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর, মৎস্যজীবী দলের সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/জোবাইদা/

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বৃক্ষরোপণ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বৃক্ষরোপণ
ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ- কমিটির ব্যানারে চট্টগ্রামে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের কাছে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ- কমিটির সদস্য সাবরিনা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আজ প্রথম দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের পরামর্শে
চট্টগ্রামে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আয়োজন। ফুল ও ঔষধী গাছের চারা লাগানো হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির সদস্য সাবরিনা চৌধুরী, সীতাকুণ্ড পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন মারুফ, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সংগঠক ফাতেমা নাসরিন প্রিমা, চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের নাসরিন সুলতানা মুন্নী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড সৈয়দপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাওন, বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীয়তুল হাসান আকাশ, বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবা, ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জিসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বিজয়, মাহিন, মেহেদী, সাইমনসহ ২০-৩০জন নেতা-কর্মী অংশ নেন।

রিফাত/

বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ
ছবি: খবরের কাগজ

বাগেরহাটে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে শহরের দড়াটানা ব্রিজের নিচে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল, বাগেরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি সরদার মো. রেজাউল কবির রতন ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ বালি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কর্মজীবী দলের মহিলা সভাপতি ফাতেমা পান্না, সদর থানা নেত্রী তাসলিমা বেগম, বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা আক্তার এবং পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সর্দার জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রিফাত/নাঈম

কালীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে মুখোমুখি বিএনপির দুই গ্রুপ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
কালীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে মুখোমুখি বিএনপির দুই গ্রুপ
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে নেমেছে বিএনপির দুই গ্রুপ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অপসারণ দাবিতে এক পক্ষ মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করলেও অন্য পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।

দুই গ্রুপের একটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। অপরটির নেতৃত্বে রয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়।

জানা গেছে, গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজার রহমানকে নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলাটির এজাহারে তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় আনা হলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ওসিকে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। এ সময় তাকে জানানো হয় যে, তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এরপর থেকেই ওসির সঙ্গে বিএনপির ওই গ্রুপের দূরত্ব তৈরি হয়।

এদিকে, একই মামলায় গত বুধবার রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কপন্থি নেতারা দাবি করেন, রমজান আলী গোড়ল ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার না করে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকের অপসারণ দাবি করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তারের পর ওসির অপসারণ দাবিতে বিএনপির একাংশের আন্দোলনের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এমপি বাবুল সমর্থিত গ্রুপ। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান বলেন, নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করায় ওসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তিনি প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি বলে মন্তব্য করছেন।

টিটুল ইসলাম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলির পাঁঠা হচ্ছেন কালীগঞ্জের ওসি।”

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে আজিজার রহমান তার আত্মীয়। তবে গ্রেপ্তারের দিন ওসিকে ফোন করেছিলেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। গ্রেপ্তার ব্যক্তি তার নিকটাত্মীয় হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি কার আত্মীয়, সেটি আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।”

বকুল/নাঈম

ধর্ষণচেষ্টায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ধর্ষণচেষ্টায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানার পুলিশ।

কাশেম আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান।

তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রবিবার সারা রাত অভিযান চালায়। এরপর সোমবার ভোরে শাহজাদপুর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরদিন ১২ জুন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল রবিবার সকালে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আবুল কাশেমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এহতাশামুল হক রাজিব এবং সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: জিএম কাদের

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: জিএম কাদের
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘গতানুগতিক’, ‘জনতুষ্টিমূলক’ এবং ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বাজেট নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কখনোই অর্জিত হয়নি এবং ধারাবাহিকভাবে তা নিম্নমুখী।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ মাসের তথ্য অনুযায়ী, বছর শেষে রাজস্ব আহরণ সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটেও এর চেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের ঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাজেটের দর্শন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, বাজেটের আয় ও ব্যয়ের যে বিশাল ফারাক দেখানো হয়েছে, তা মূলত অতিরিক্ত ঋণনির্ভর। বাজেট বাস্তবায়নে যে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

জিএম কাদেরের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা কমানোর সুযোগ নেই। ফলে রাজস্ব আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ধরলে সরকারের পরিচালন খরচেই ঘাটতি থাকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এর সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা যোগ করলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৫০ শতাংশ। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অত্যধিক নির্ভর হয়ে পড়বে, যা অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

জি এম কাদের বলেন, বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় এবং রপ্তানি আয় নিম্নমুখী। এরই মধ্যে প্রায় ৪০০টি মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার বেশিরভাগই শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল।

সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করলেও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি তা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে এবং তাদের সমর্থকদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম ও সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজেটে এই সংকট মোকাবিলায় ভর্তুকির পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে বিনিয়োগ আসবে না, আবার ভর্তুকি না দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং দরিদ্র মানুষ আরও বিপাকে পড়বে। কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত না করলে খাদ্য সংকটেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

জয়ন্ত সাহা/থিও