উপজেলা নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নেওয়ায় নড়াইলে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার গোবরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশ না মানায় তার আক্রোশের শিকার হয়েছেন তারা। এ ছাড়া প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে জিডি করা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় দফার ভোটে আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার আনারস প্রতীকের হয়ে কাজ করায় তাদেরকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের তোপের মুখে পড়তে হয়। বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে গত ২৫ মে ভুক্তভোগী নিউটন গাজী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশের কাছে যাওয়ার কারণে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী নিউটন গাজী বলেন, ‘নির্বাচনের সময় থেকেই উজ্জ্বল শেখের আক্রোশের শিকার হই। জিডি করার পরও থানার ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো সাহায্যের জন্য থানায় গেলে খারাপ আচরণ করেন। রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাই, হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর রাতেই হামলা হবে। আমি কয়েক দফা সদর থানার ওসির কাছে সাহায্য চাই। কিন্তু তিনি কোনো সাহায্য না করে উল্টো ধমক দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ওই বাড়িতেও উজ্জ্বল শেখের লোকজন হামলা চালায়।’
নিউটন গাজীর দশ বছর বয়সী ছেলে সাব্বীর গাজী বলে, ‘আমি ঘরের মধ্যে ছিলাম। আমার মাকে মারধর করতে দেখে ঠেকাতে আসি। তখন ওরা আমাকেও মারধর করে।’ নিউটন গাজীর স্ত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘরে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় অর্ধশতাধিক লোক আমাদের বাড়িতে হামলা করে। কয়েকজন আমাকে মারধর করে ঘরে ঢুকে লুটপাট করে। অন্যরা প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়।’
আরেক ভুক্তভোগী লিটন শেখ বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাচনে তোফায়েল মাহমুদের ঘোড়া প্রতীকের হয়ে কাজ করতে বলেছিলেন। আমরা পছন্দের প্রার্থী আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার আনারস প্রতীকের হয়ে কাজ করি। তিনি জয়লাভ করেছেন। তার ইচ্ছায় কাজ না করার কারণে হামলা করেছে। জিডি করার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিংগা শোলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ বলেন, ‘তারা (ভুক্তভোগীরা) এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ান। রবিবার আমি থানায় গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেরিয়ে বিকেল ৪টার দিকে ঢাকায় চলে আসছি। ঘটনার পর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, এলাকার উত্তেজিত জনতা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মারধর, ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে।’
সদর থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। জড়িতরা পলাতক রয়েছেন। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।’ সাহায্য চাওয়ার পর খারাপ ব্যবহার করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।