পিলখানা হত্যাযজ্ঞ, ২৮ অক্টোবর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ শেখ হাসিনা নির্দেশিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে জানিয়েয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতের অগণিত মানুষকে হত্যা ও গুম করেছে। অন্যায় ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও বহু নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে।
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ‘পিলখানা হত্যা, ২৮ অক্টোবর হত্যাযজ্ঞ এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে’ গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল হালিম বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের মানুষ ঘরে-বাইরে শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি। গুম-খুন এবং হত্যার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পরিচালনা করেছিল। দেশের সব হত্যা হয়েছে ভারতের পরিকল্পনায় এবং শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে। এবার সব হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফেরত এনে বিচার কাজ সম্পন্ন করুন। জনগণের দাবি এখন শেখ হাসিনার বিচার করা।
সভাপতির বক্তব্যে জাগপা সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৫ বছর বাংলাদেশ রক্তের স্রোতের ওপর পরিচালিত হয়েছে। একটি দানবীয় স্বৈরশাসক বাংলাদেশকে গণহত্যা ও গুম-খুনের রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আমরা সেই দানবীয় খুনী শেখ হাসিনার বিচার চাই। অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত এনে দ্রুত বিচার কাজ শেষ করতে হবে।’
তিনি বলেন, পিলখানায় ৭৪ সেনাহত্যা, ২৮ অক্টোবর শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে হত্যার হুকুমদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হতে হবে। সব হত্যাযজ্ঞের দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাহলেই আগামীর বাংলাদেশ হবে শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ।
জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে ও যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, হাজী মো. হাসমত উল্লাহ, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, শ্রমিক কল্যাণ ফেড়ারশনে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুস সালাম, জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রহমান ফারুকী, জাগপা ঢাকা মহানগর নেতা আশরাফুল ইসলাম হাসু, নাসির উদ্দীন, আসাদুজ্জামান বাবুল, আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।
শফিকুল ইসলাম/অমিয়/