আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে দেশের ৪৮তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধন পেয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির জন্য নির্ধারিত প্রতীক ‘মাথাল’ ও নিবন্ধন নম্বর ৫৩।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিবন্ধন সনদ দলটির নেতাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন নির্বাচন কমিশনের সচিব শফিউল আজিম। এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিবন্ধনসংক্রান্ত ইসির ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১৩৮০৫/২০১৮-এর বিগত ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনে দেওয়া রায় ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ চ্যাপ্টার ৬(এ)-এর বিধান অনুযায়ী গণসংহতি আন্দোলনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছে। দলটির প্রধান কার্যালয় ৩০৬-৩০৭ রোজ ভিউ প্লাজা, ১৮৫ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা ১২০৫।
গত ৫ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের আগে বিদায়ী হাবিবুল আওয়াল কমিশন আপিল না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে নির্বাচন কমিশনের করা আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। একই দিনে দলটির বিষয়ে কারও কোনো দাবি আপত্তি রয়েছে কি না, সে জন্য ছয় দিনের সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন। গত রবিবার ছিল তার শেষ সময়। ওই সময় দলটির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি উত্থাপিত না হওয়ায় মঙ্গলবার নিবন্ধনের প্রজ্ঞাপন করে নির্বাচন কমিশন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন চেয়ে ইসিতে আবেদন করে গণসংহতি আন্দোলন। গণ অধিকার পরিষদের নিবন্ধন নম্বর ৫১ হলেও এর আগে শর্ত পূরণে ব্যর্থ এবং আদালতের নির্দেশে পাঁচটি দলের (জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা) নিবন্ধন বাতিল করে। এরপর দলটির পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ সাকি হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল আবেদন করে। তবে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর কমিশন তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে দলটি ইসির নিবন্ধন পায়।
ইসির নিবন্ধন ছাড়া কোনো দল নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। গণসংহতি আন্দোলন নিয়ে বর্তমানে সংস্থাটির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৮। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের আগে প্রথম নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। সে সময় ১২৬টি দল আবেদন করলেও শর্ত পূরণ করে ৩৯টি দল নিবন্ধন পায়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪৩টি দল আবেদন করে। আরও তিনটি দল ২০১৩ সালে নিবন্ধন পায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ৭৬টি দল আবেদন করলেও একটি দলও নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়নি। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ছিল ৪৪টি।