অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, দলের তিন তিনবারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কয়েক দফা চেষ্টা করেও শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি পাননি। কারণ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা তার ওপরে প্রচণ্ড বিরক্ত। অনেকের মতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধও। এ কারণে তিনি সাক্ষাতের অনুমতি দেননি।
অবশ্য ওবায়দুল কাদেরের ওপরে ক্ষুব্ধ দলের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীও। এ কারণে ভারতে অবস্থান করলেও নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে তিনি আত্মগোপনে আছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ভারতে অবস্থান করলেও কৌশলগত কারণেই শেখ হাসিনার অবস্থান কাউকে জানানো হচ্ছে না। তবে ফোনে তিনি ঘনিষ্ঠ অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সেই সূত্র ধরেই শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে সফল হননি বলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের একাধিক নেতা খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।
যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি দলটির নেতারা। তবে কেন্দ্রীয় একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভারত আমাদের নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) তাদের দেশের প্রটোকল অনুযায়ী যথাযথ সম্মান দিয়েছে। নেত্রী যদি কারও সঙ্গে দেখা করতে চান, সে ব্যবস্থাও রয়েছে। ইতোমধ্যে তার কন্যাসহ অনেকের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে আপনি (প্রতিবেদক) যার কথা (কাদের) বলেছেন তার সঙ্গে এখনো নেত্রীর দেখা হয়নি।’ এর বেশি কিছু ওই নেতা বলতে চাননি।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন তিনজন নেতার সঙ্গে কথা হয় খবরের কাগজের। তাদের ভাষ্যে, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্ত্রীসহ একটি রিসোর্টে রয়েছেন। ভারতে প্রবেশের পর ফোন করে তিনি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনবার দেখা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এখনো চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে দেখা করার অনুমতি পাননি।’
তারা জানান, ওই রিসোর্টে ওবায়দুল কাদের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আনানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজনে অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এর বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। তার অবস্থানের সঠিক ‘লোকেশন’ জানানো হচ্ছে না। কারণ কলকাতায় অবস্থানরত অনেক নেতা-কর্মী তার প্রতি ক্ষুব্ধ। এখানে তার সঠিক অবস্থান জানতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটতে পারে।
২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। এরপর আরও দুবারসহ প্রায় আট বছর ধরে একই পদে রয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত এই নেতা। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও আওয়ামী লীগের ভেতরে-বাইরে এখন এই নেতার অত্যন্ত নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরাও তার প্রতি বেশ ক্ষুব্ধ রয়েছেন। সরকার পতনের পরপরই তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গোপনে ভারতে চলে যান। গত ১১ নভেম্বর থেকে স্ত্রীসহ কলকাতায় অবস্থান করলেও তা গোপনই রেখেছেন ওবায়দুল কাদের। কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও দলের সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাই তার সঠিক ‘লোকেশন’ সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, এটি জেনেই নেতা-কর্মীদের আক্রোশ কমানোর জন্য সময়ক্ষেপণ করছেন। সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন এই নেতা। পাশাপাশি শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সরকার পতনকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ওপর নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময় বেফাঁস কথাবার্তা বলে তিনি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন বলে আলোচনা আছে। আওয়ামী লীগের মতো একটি দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পেছনে কেউ কেউ তাকেও দায়ী করে থাকেন।