আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৩ জানুয়ারি। ২০১৯ সালের এই দিনে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ।
দলটির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, তার মৃত্যুতে যে ক্ষতি হয়েছে তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি আওয়ামী লীগ। কারণ সৈয়দ আশরাফের জনপ্রিয়তা শুধু আওয়ামী লীগের মধ্যেই নয়, বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ভিন্ন মতের রাজনীতিকদের কাছেও তিনি ছিলেন খুবই গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও আর্থিক কেলেংকারির কোনো অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে। ওবায়দুল কাদেরের মতো বিতর্কিত কথা বলে সমালোচিতও হননি তিনি।
জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফের গুরুত্ব নিয়ে নিজ দলের পাশাপাশি বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখনো আলোচনা হয়।
অনেকেই বলছেন, সৈয়দ আশরাফ সাধারণ সম্পাদক থাকলে দলের আজকের বিপর্যয় ঠেকাতে কোনো না কোনো উদ্যোগ তিনি নিতে পারতেন। এমনকি বিএনপির সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিএনপিরই এক নেতা বাসায় সমঝোতার জন্য বৈঠকে বসেছিলেন সৈয়দ আশরাফ।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের ভাষ্য, ২০১৬ সালে সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরকে বসানোর পর থেকে দলটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। যার মাশুল দিতে হয়েছে ২০২৪ সালে এসে। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে ওবায়দুল কাদের যেসব মন্তব্য করেছেন- সৈয়দ আশরাফ থাকলে তা বলতেন না। দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবসময় উত্তেজনা পরিহার করার জন্য দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিতেন।
ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তার চলাফেরা ও অঙ্গভঙ্গি বদলে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পেছনে ওবায়দুল কাদের দায়ী বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। কলকাতায় পালিয়ে গেলেও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন ওবায়দুল কাদের। এমনকি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।