বরগুনায় অবস্থিত দেশের একমাত্র বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরটি খুলে ফেলা হচ্ছে।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জেলা বিএনপির নেতা আমিনুল ইসলাম স্বপন ও মুরাদুজ্জামান টিপন ১০-১২ জন শ্রমিক এনে জাদুঘরটি সামনের অংশ খুলে নিয়ে যান।
তারা জানিয়েছেন, জাদুঘরটির বাকি অংশ তারা রবিবার নিয়ে যাবেন। তাদের দাবি, এই জাদুঘরকে কেন্দ্র করে সাবেক জেলা প্রশাসক লুটপাট করেছেন। জাদুঘরটি সরকারি জায়গায় বানানো। তাই তারা খুলে নিচ্ছেন।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকার নদ-নদীতে চলাচল করা নৌকা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করানোর পাশাপাশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তৈরি করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর’। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরগুনা পৌর গ্রন্থাগার ভেঙে ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের নৌকার আদলে দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়েছিল।
তৎকালীন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। ওই সময় জাদুঘরটির পাশাপাশি নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশুদের বিনোদনের জন্য রাইড, থিয়েটার, ক্ষুদ্র ক্যাফেসহ নানা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের আশ্বাস ছিল। তবে উদ্বোধনের চার বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বরগুনা জেলার ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান টিপন বলেন, নৌকা জাদুঘরের নামে ১০টা জাদুঘরের সমান চাঁদা উঠানো হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখল করে নৌকা জাদুঘর করা হয়েছে। তাই জনগণ এটা ভেঙে ফেলেছেন।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদ খান বলেন, নৌকা জাদুঘরটিকে বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর নাম দেওয়ার কারণে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ ৫ আগস্ট এটিকে আগুন দিয়ে পোড়ানোর পর খালি হাতে ভাঙতে ব্যর্থ হলে সরঞ্জাম নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন এটিকে শহিদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার তৈরি করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানাই।
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজবিউল কবির বলেন, এখানে পৌর গণ-পাঠাগার ছিল। সেটা ভেঙে বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর বানানো হয়েছে। এখান থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তৎকালীন সরকারের তেলবাজী করার জন্য এটি বানানো হয়েছে। এখন জনগণ এটিকে ভেঙে ফেলছেন, যারা ভাঙছেন তারা দেশপ্রেমিক।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ওই জেলা প্রশাসকের নামে চাঁদাবাজির মামলা হবে। আমি বাদী হব। এখানে শহিদ জিয়া পাঠাগার বানানো হোক। এ বিষয় জানতে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।