বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের ওপর হামলাকারীকে আটকের পরে ক্ষমা করে দেওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফয়জুল করিম হামলাকারী স্বপন দাসকে ক্ষমা করে দেওয়ায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে পুলিশ ও ইসলামি আন্দোলন সূত্র জানিয়েছে।
স্বপনকে ক্ষমা করায় তার পরিবার নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বিসিসি নির্বাচনের দিন নগরীর কাউনিয়া মেইন
রোডের একটি ভোটকেন্দ্রে ঢোকা নিয়ে ফয়জুল করীমের ওপর হামলা চালানো হয়। সেই হামলার মূলহোতা ছিল স্বপন দাস। স্বপন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতে নৌকা প্রতিকের কর্মী ছিলেন।
৫ আগস্ট দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে স্বপন দাস আত্মগোপনে ছিলেন।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল স্বপন অনেকটা গোপনে তার নগরীর নগরীর বান্দ রোডের ওয়াপদা কলোনির বাসায় অবস্থান করেন। তার অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ওই বাসা ঘিরে রাখে। রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ইসলামী আন্দোলন জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক এইচএম সানাউল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্বপন দাসকে কর্মী-সমর্থকরা আটক করে পুলিশে দেন। পরে সিনিয়র নায়েবে আমিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে তিনি আমাদের জানান।
এজন্য দলের পক্ষ থেকে স্বপন দাশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে নায়েবে আমির ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়রা স্বপনকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। রাতে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু ফয়জুল করিম সাহেব মামলা না করে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এ ছাড়া আটকের বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ কিংবা মামলা না থাকায়
তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বরিশাল মহানগরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. নাসির উদ্দিন নাইস জানান, ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচনে ফয়জুল করিম মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ভোটের দিন হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকার ছাবেরা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অ্যাজেন্ট বের করে দেয়। এ খবর পেয়ে ফয়জুল করিম
সেখানে যান। কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর ৩০-৩৫ জন লোক ‘নৌকার’ স্লোগান দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। ওই ঘটনা দেশ বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃস্টি করে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীসহ দেশের ওলামা মাশায়েখ দের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি করে।
দলটির নেতা কর্মীরা জানান, সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিকে রক্তাক্তর করার পরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক ছিল তার ছেদ পরে। পরবর্তীতে ইসলামি আন্দোলন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শত চেষ্টা করেও ইসলামী আন্দোলনকে সংসদ নির্বাচনে
অংশগ্রহণ করাতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার।
সবুজ/মেহেদী/