নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইফতার আয়োজনের অর্থ কোথায় পায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শুক্রবার (৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্ন তোলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
তারা বলেন, দেশের কিছু ধনী ব্যক্তি এনসিপিকে অর্থায়ন করেছেন বলে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক (নুরুল ইসলাম) গণমাধ্যমকে তাদের ইফতার কর্মসূচিতে দৈনিক তিন লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এনসিপির নেতারা বলেছেন, প্রতিদিন ইফতার করাতে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সে হিসাবে মাসে ৯০ লাখ টাকা খরচ হবে। আমরা জানতে চাই, সাধারণ ছাত্রদের একটি সংগঠনের পক্ষে তারা কীভাবে এই বিপুল টাকা উপার্জন করছেন। তাদের এই অর্থের উৎস কী, আমরা জানতে চাই।’
এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের একটি সাক্ষাৎকার গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাতে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশজুড়ে অনেক ‘সম্পদশালী’ (অ্যাফ্লুয়েন্ট) ব্যক্তি তাদের দলকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করছেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিবিরের সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমকে বলেছেন, তারা প্রতিদিনই ইফতারে ৩ লাখ টাকা করে ব্যয় করছেন। যদি ৩ লাখ করে প্রতিদিন ব্যয় করা হয়, তাহলে মাসে ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করছেন। এই ৯০ লাখ টাকা একটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন হিসেবে কীভাবে উপার্জন করছে, তাদের অর্থায়নের উৎস কী, এটাও জানতে চাই।’
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বুধবার এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সারজিস আলম এ ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তার এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। ছাত্রদলের নাম জড়ানো একটি দুরভিসন্ধিমূলক ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
রাকিব বলেন, “নবগঠিত গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন না করা এবং মধুর ক্যানটিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন সারজিস আলম। তাকে গেটের সামনে দেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ‘ঢাবির সিন্ডিকেট ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান দেন। এরপর সারজিস আলম সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।”
তিনি বলেন, “সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী এবং টোকাই’ হিসেবে উল্লেখ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অপমান করেছেন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন ত্যাগকে মর্যাদাহানি করা হয়েছে। আমরা তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ৫ মার্চ রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সারজিস আলমের সঙ্গে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরোধের শুরু জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বনাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে। দুঃখজনকভাবে সারজিস সেই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিতে ছাত্রদলকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে নতুন যে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে, সেখানে আমরা আসলে কোনো নতুনত্ব দেখতে পাইনি। কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন হয়নি। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ছাড়াও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সহসভাপতি এইচ এম আবু জাফর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।