ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

আওয়ামী লীগ আর কখনো পুনর্বাসিত হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম
আওয়ামী লীগ আর কখনো পুনর্বাসিত হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ
গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার, নিবন্ধন বাতিল এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে শাহবাগ জাদুঘরের সামনের সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: খবরের কাগজ

সাম্প্রতিক ইস্যুতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ অঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় না করানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। আপনারা জনগণকে আপনাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন না। আমাদের অবস্থান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। সেনাবাহিনীকে যারা অপব্যবহার করতে চায়, আমাদের অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সেনাবাহিনী আমাদের আস্থার প্রতিদান দেবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগ আর কখনো পুনর্বাসিত হবে না।’

গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার, নিবন্ধন বাতিল এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে শনিবার (২২ মার্চ) বেলা ১২টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর শাখার সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

বিচারের দাবি তুলে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘অভ্যুত্থানের ৭ মাস হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক কাজ শুরু করেনি। আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে লীগের বিচার শুরু করতে হবে। শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নয়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিদায় হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সুতরাং এই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন আর হবে না। যেই নৌকা ভেঙে বঙ্গোপসাগরে চলে গেছে সেই নৌকাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।’

এতে অন্যান্যদের মধ্যে সমাবেশে নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিন সরকার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, রফিকুল ইসলাম আইনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়াও বিগত আওয়ামী শাসনামলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের প্লাটফর্ম ওরিয়র্স অব জুলাই, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জুলাই মঞ্চ।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতরা। ছবি: খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সংগঠন ওরিয়র্স অব জুলাই। এর মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

শনিবার দুপুর ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জড়ো হতে থাকেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আহতরা। 

আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার বিচারের দাবি জানিয়ে প্লাটফর্মটির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সেক্টরে খুনি হাসিনার দোসররা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। দুই হাজার লাশ এবং হাজারো আহতের অঙ্গহানির উপর রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে। অবিলম্বে খুনি হাসিনার বিচারসহ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অভ্যুত্থানে আহত আরমান হোসেন বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা না হয় তাহলে আমরা ৬৪ জেলা থেকে জুলাই যোদ্ধা শহিদ পরিবার ঢাকামুখী হব। আবার একটি গণঅভ্যুত্থান হবে। এই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হবেই আওয়ামী লীগকে যারা সমর্থন করছে, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে। একইসঙ্গে যারা তাদের সমর্থন করেছে তাদেরকে অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’

পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। এর আগে তারা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মিলিত হন। 

এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘বিপ্লবী ছাত্র-জনতা যারা দিল্লি না, ঢাকা স্লোগান দিয়ে এই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রশাসন লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছিল, তারা এই বক্তব্য (প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য) প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর নিন্দা জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই আপনার। তাহলে কীসের পরিকল্পনা আছে আপনার। এই রক্ত এবং জীবনের বিনিময়ে আপনারা সেখানে বসেছেন। দিল্লির নির্দেশে আগামীতে এই দেশে নির্বাচন হবে সেজন্য কি আপনাদের বসানো হয়েছে? আমরা চাই, অবিলম্বে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী মানুষকে উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘একটা গোষ্ঠী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বলব, আপনাদেরকে যদি কেউ অন্ধকারে ঢিল মারতে বলে আপনারা ঢিল মারবেন না। কারণ, অন্ধকারে ঢিল মেরে অনেকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে।’

এদিকে শুক্রবারের ন্যায় জুলাই মঞ্চের ব্যনারে একদল তরুণ শাহবাগ মোড়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবিতে ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে। ব্লকেড কর্মসূচি পালন করলেও শাহবাগে যানচলাচল স্বাভাবিক ছিল। 

আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ

 

ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা!

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা!
ছবি: সংগৃহীত

যেকোনো সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এ নিয়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। পদ পেতে কেন্দ্রে সিভিও জমা দিয়েছেন তারা। তবে নতুন কমিটি গঠন হওয়ার আগেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ পেতে যাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ফলে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ত্যাগী ও সক্রিয় নেতা-কর্মীদের। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে পদপ্রত্যাশি নেতা-কর্মীরা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন কর্মী পদ পেতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে লবিং করছেন। এমনকি তারা কেন্দ্রে সিভিও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পদে আসার গুঞ্জনে থাকা ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন- আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এনামুল হক ইমন ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফজলে রাব্বী আহমেদ ইসমাইল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মুফতাইন আহমেদ সাবিক, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফারুক আহমেদ ফারহান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওয়াশিকুর রহমান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সাদ উসমান, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হুজ্জাতুল্লাহ। 

ক্যাম্পাস সূত্রে, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা কর্মী সংকটে ভোগা ছাত্রদলে সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়ে। ৫ আগস্টের আগে শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে এসব কর্মীদের। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার নিউজ প্রকাশ হলেও ওসব ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দিয়েছেন সাহেদ-মিথুনের নেতৃত্বাধীন ইবি ছাত্রদল। এদিকে তারা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের এসব কর্মীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুন, সদস্য নূর উদ্দিন ও রাফিজ আহমেদ। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাইড করে রাখারও চেষ্টা চালিয়েছে তারা। 

এ বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী পুলক আহমেদ বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদলে পুনবার্সন করা হয়েছে। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও আহ্বায়ক কমিটির ২-১ জন সদস্য এসব কর্মীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং তাদেরকে সামনের সারিতে রাখে। অথচ একনিষ্ঠ জাতীয়তাবাদী আদর্শ বহনকারী সক্রিয় ও ত্যাগী ছাত্রদলের কর্মীদেরকে সাইড করে রাখা হয়েছে, সামনের সারিতে জায়গা দেওয়া হয়নি। আমি চাই কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর যাতে ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা না পায়।’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কর্মী অঙ্কন বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি ছাত্রলীগের কিছু ফ্যাসিস্ট ছাত্রদলে পদ পাওয়ার জন্য সিভি জমা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি আমার বিশ্বাস ছাত্রলীগ মুক্ত এবং ত্যাগি ও বঞ্চিতদের দিয়ে সুন্দর একটি কমিটি আমাদের উপহার দিবে। একই সঙ্গে যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তাদেরকেও কোনোভাবেই কমিটিতে স্থান দেওয়া উচিত নয়।’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘ছাত্রদলে ছাত্রলীগের কারও জায়গা নেই। তবে যারা জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের বিরোধিতা করেছেন এবং আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের তো বাদ দেওয়া যায় না। আমার প্রশ্রয়ে ছাত্রলীগের কেউ ছাত্রদলে আসেনি।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহির রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সত্যিকারে কেউ যদি ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট থাকে তারা কেউ ছাত্রদলের কমিটিতে আসতে পারবে না। তবে অনেকেই প্রথম বর্ষে থাকতে বাধ্য হয়ে মিছিল-মিটিংয়ে গিয়েছে।’ 

নিয়ামতুল্লাহ মুনিম/রিফাত/

সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকায় উত্তর জেলা ছাত্রলীগও মিছিল করেছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পৃথকভাবে এই মিছিল দুটি বের করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে হঠাৎ করেই কলেজের ভেতরে ১০-১৫ জনের একদল যুবক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষে স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের মূল ভবনসংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। হঠাৎ সংঘটিত এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই মিছিলকারীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন আকস্মিক তৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

২ নম্বর গেইটে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, নেতৃত্বে তপু

এদিকে নগরের ২ নম্বর গেইট এলাকায় শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের ব্যানারে আরেকটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসাইন তপু।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুপুরে হঠাৎ করেই একদল নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সড়কে বের হন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কয়েক মিনিট অবস্থান করার পর দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিছিল সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের একাধিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে জিইসি মোড় ও ২ নম্বর গেইটসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র আমিনুর রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযান চালাবে।’

রিফাত/

সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন পিরোজপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী শাকিল আহমেদ আয়ান এবং সোনারগাঁ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাকিল আহমেদ আয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 তিনি নয়াগাঁও গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

এদিকে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে সোনারগাঁও পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 তিনি পৌরসভার নোয়াইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

তাদের সোনারগাঁ থানায় করা রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মহাসড়কে মিছিল করে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইমরান হোসেন/এসএন

সরকার ও দলে উপেক্ষিত অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন বিএনপির অনেক নেতা
ছবি: সংগৃহীত

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, গুম, নির্যাতন ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন ছেড়ে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন আত্মগোপনে। নেতা-কর্মীদের অনেকের প্রত্যাশা ছিল–দল ক্ষমতায় এলে তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। তবে দল সরকার গঠনের পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত রাজপথের অনেক পরিচিত মুখ, ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতা এখন নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন। তাই অভিমানে তাদের অনেকে এখন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জুলাই বিপ্লবে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এত কিছুর পরও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি মির্জা আব্বাসের, সান্ত্বনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদ। মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় মির্জা আব্বাসের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের অনেকেই হতাশ।

অন্যদিকে, দুঃসময়ে রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসকে দেওয়া হয়েছে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’র চেয়ারম্যান পদ। এই নিয়োগের পর আফরোজা আব্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘তারপরও আলহামদুলিল্লাহ’। এর মাধ্যমে কার্যত তার হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে।

বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এখনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির প্রধান এবং নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। দলের দুঃসময়ের অন্যতম কান্ডারি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, শীর্ষ আইনজীবী নেতা জয়নুল আবেদীন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক ডাকসু ভিপি আমানুল্লাহ আমান এবং সাবেক জি এস খায়রুল কবির খোকনের মতো হেভিওয়েট নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাননি বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। সরকার গঠনের পরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব বা পদে তাকে দেখা যায়নি, যা নিয়ে তার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

বিএনপির ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ, বিগত দিনে আন্দোলনে যাদের দেখা যায়নি, এমন অনেক ‘হাইব্রিড’নেতা এখন বিএনপিতে জেঁকে বসেছেন এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, ত্যাগীরা হচ্ছেন উপেক্ষিত। বিএনপির এসব সিনিয়র নেতা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন না। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় নিয়মিতই হতাশা প্রকাশ করেন। বিএনপির এসব ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের সমর্থক নেতা-কর্মীরাও ক্ষুব্ধ।  

ঢাকা মহানগরের সাবেক এক বিএনপি নেতা আক্ষেপ করে খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের দুঃসময়ের সহযোদ্ধারা অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তিনি আশা প্রকাশ করছেন, আগামীতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে বিএনপির পরীক্ষিত সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের জায়গা হতে পারে। তখন তাদেরও মূল্যায়ন হবে।

সবচেয়ে বেশি হতাশা বিরাজ করছে বিএনপির সাবেক ছাত্রদল নেতাদের একটি অংশের মধ্যে। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক নয়ন বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা বহন করছেন। অথচ যারা একসময় আন্দোলনের ‘তথ্য ছাত্রলীগ ও পুলিশকে সরবরাহ করত’। তারাই এখন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে বহালতবিয়তে রয়েছেন।

অনুরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহনেওয়াজ সিনা। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা ‘ক্রসফায়ার’ তালিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় তার নাম ছিল এক নম্বরে। গ্রেপ্তার হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এই নেতা। এখন সরকার গঠনের পর তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে রাজনীতি করে এখন শুনতে হয়, আমরা নাকি গুপ্ত জামায়াত। তীব্র অভিমান থেকে তিনি এখন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তিনটি আসনে দলের পরাজয়ের বিষয়টি হাইকমান্ডের খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
দলের সাবেক ছাত্রনেতা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী হাইব্রিডদের কারণে এখন সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে নানা মহলে।

তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যন তারেক রহমান সরকার গঠন করেছেন মাত্র ৩ মাস। ধ্বংস হওয়া রাষ্ট্রকে নতুন করে গোছাতে হচ্ছে। তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করবেন। এখন সবার উচিত ধৈর্য ধরে সরকারকে সহযোগিতা করা।’

বিএনপির নেতারা মনে করেন, দলের ত্যাগী ও রাজপথের সহযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে যদি এই বার্তা যায় যে, ত্যাগের মূল্যায়ন হয় না। তবে তৃণমূলে স্থায়ী হতাশা তৈরি হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ফেসবুকে কান্না করা সেই নয়ন পেলেন ছাত্রদলে পদ
আহসান উল্লাহ নয়ন। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা পেলেন ফেসবুক লাইভে এসে কানা করা সেই আহসান উল্লাহ নয়ন।

আহসান উল্লাহ জেলার সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন সংগঠনের ত্যাগী কর্মী আহসান উল্লাহ (নয়ন)। 

তিনি বলেন, আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।

আহসান উল্লাহ বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন, যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার, এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম ছাত্রদল। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।

নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। অথচ তখন কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। এতে কষ্ট পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করেছি।

তিনি বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। সবকিছু বিবেচনা করে আমাকে মূল্যায়ন করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, আগের কমিটি ঘোষণা করার পর বঞ্চিত হওয়া কর্মীদের তালিকা করে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির আবেদন করেছিলাম। ওই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও প্রত্যাশা করছি।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা