চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও নানা টার্মিনালে বিদেশি সংস্থার নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ে বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ আরও অনেকে।
সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। এর সঙ্গে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। বন্দরের তত্ত্বাবধানে টার্মিনালটি গত ১৭ বছর লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভালোভাবে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও বিদেশি কোম্পানির কাছে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো সেটা স্পষ্ট নয়।’
বাম জোটের সভায় রাখাইন রাজ্যের মানবিক করিডরের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় প্রস্তাবে বলা হয়, ‘আরাকানে মানবিক করিডর প্রদানের সিদ্ধান্ত একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা, সামরিক ঝুঁকি, সার্বভৌমত্ব, এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর এ বিষয়ে অবস্থানসহ নানা বিষয় যুক্ত। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’
বাম জোটের নেতারা বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করে উপস্থাপন করা ছাড়া এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকার একক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ ছাড়া এই ধরনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর যুদ্ধ চক্রান্তের শিকার হতে পারে বাংলাদেশ।’
সভায় বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে শ্রমিকনেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানানো হয়।