নোয়াখালীর সুবর্ণচরে হোটেলের কক্ষে নারীর সঙ্গে শফিকুল ইসলাম পলাশ নামে এক ছাত্রদল নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
শনিবার (৩ মে) রাতে ভিডিওটি নিজের দাবি করে পলাশ খবরের কাগজকে বলেন, আমি ভুল করেছি। একটি পক্ষ ভিডিওটি প্রচার করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমার দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরকেও পাঠিয়েছে।
পলাশ স্থানীয় সৈকত সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, 'ভিডিওটি চার বছর আগের। সম্প্রতি সৈকত সরকারি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি ব্যক্তিত্বের প্রশ্নে কখনও আপোষ করি না।'
এর আগে ৩০ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে শফিকুল ইসলাম পলাশ হোটেলের একটি কক্ষে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে লিপ্ত আছেন। ওই কক্ষের পাশ থেকে কেউ মোবাইলে ভিডিওটি ধারণ করেন।
ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেতাদের এমন আচরণে অনেকে কলেজের ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফাতেমা বেগম কাজল নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি যুক্ত করে তার স্ট্যাটাসে লিখেন, এ পলাশের কারণে সৈকত কলেজে আমার বোনরা সবসময় আতঙ্কিত থাকে, এদেরকে জরুরী আইনের আওতায় আনা উচিত।
আরেকজন লিখেছেন, কয়েকদিন আগে স্কাউটসের এক মেয়েসহ ধরা খায় খাসেরহাট বাজারে। পলাশও স্কাউটের একজন সক্রিয় সদস্যা। গ্রুপ লিডার ওই পদবি ব্যবহার করে সৈকত কলেজে মেয়েদের সঙ্গে বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে। এর বিচার হওয়া দরকার।
আবির আহমেদ জনি নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, সূবর্ণচরে ছাত্রদল নেতাদের চরিত্র এতে বাজে কেন। এদের হাতে তো কেউ নিরাপদ নয়, আর ওর মতো ছেলে ছাত্রদলের একটা কলেজের আহ্বায়ক হয় কীভাবে তাও বুঝি না।
জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ বলেন, এ নিয়ে নতুন গঠিত কমিটির অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসছে। বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম চরজব্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আইনের সহায়তা চেয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
মেহেদী/