নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে বহনকারী পুলিশের গাড়িতে শুক্রবার ( ৯ মে) সকালে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিক ও ফুড ব্লগারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার চার দিন পর গত সোমবার রাতে সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর আত্মীয়স্বজন ও নেতা-কর্মীসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও দেড় থেকে দুই শজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশের গাড়িতে হামলা, পুলিশকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলায় হাসিবুর রহমান জিসান, শওকত মিথুন, হানিফ মিয়া নামে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়া হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইয়ুম খান।
গ্রেপ্তার হওয়া হাসিবুর রহমান জিসান স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল প্রেস নারায়ণগঞ্জের সংবাদদাতা। আর শওকত মিথুন ফেসবুকে ফুড ব্লগার হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে, হত্যাসহ একাধিক মামলায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় তার কর্মী-সমর্থকরা পুলিশি কাজে বাধা দিয়ে অবরুদ্ধ করে কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড দেয়। পরে শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে শহরের বি বি সড়কের গ্রিনলেজ ব্যাংকের সামনে পুলিশের গাড়িতে হামলা করা হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান, আইভীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলাকালে আসামিরা রাতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ জড়ো করে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময় তারা পুলিশের গাড়িতে হামলা করে সদস্যদের আহত করে।
ওসি নাছির উদ্দিন দাবি করেন, এ মামলার অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী। তাদের মধ্যে আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
এদিকে পুলিশের গাড়িতে হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আইভীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে বহনকারী পুলিশের গাড়িবহর শহরের বি বি রোডের গ্রিনলেজ ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফি উদ্দিন আহমেদ রিয়াদসহ তার কর্মী-সমর্থকরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল। তারা অতর্কিত পুলিশের গাড়িবহরে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তাদের বাধা দিতে গেলে তারা লাঠি দিয়ে পুলিশ ও আইভী সমর্থকদের আঘাত করে। এ সময় আমলাপাড়া গলির সামনে একটি হাতবোমা (ফটকা) বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত গাড়িবহর নিয়ে বি বি রোড ত্যাগ করলে হামলাকারীদের দলটি শহরে ঝটিকা মিছিল করে এবং আওয়ামী লীগ ও আইভীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। হামলার সময় পুলিশসহ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা রিয়াদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি। পরে তার মা নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের আহ্বায়ক রাশেদা জামান বলেন, রিয়াদ সেখানে কেন হামলা চালিয়েছে তা তিনি জানেন না।
পুলিশ হেফাজতে আইভীর ওপর যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর যুব দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, এটা পরিকল্পিত কিছু নয়। সেই রাতে পুলিশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে থাকায় তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা আশা করি না।