ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফিফার বাপ কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ চীনের ডেইরি কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে? বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে দারাজ টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা গোল করার পর কান্নার কারণ জানালেন মেসি রংপুরে হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোয় মহাসড়ক অবরোধ সোনামসজিদ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই বাজেটকে একটি গোষ্ঠী গণবিরোধী বলছে: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল মাঠে মদ্রিচ আমার ডান হাত: জ্লাতকো ডালিচ প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি: সিপিডি ওয়াহিদুল হত্যার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর ভারতে ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের ‘আমরাই মেসির কাজটা সহজ করে দিয়েছি’, বললেন আলজেরিয়ার কোচ জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনার জার্সির পেছনে ‘১৮৯৩’ লেখা থাকার কারণ কী? বিশ্বকাপ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ: হ্যারি কেইন মেসি বন্দনায় ভাষা হারিয়েছেন স্কালোনি ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তুরস্ক, লক্ষ্য প্যারাগুয়ে বধ নাটকীয় ম্যাচে জর্ডানকে হারাল অস্ট্রিয়া কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরির্দশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমবার ইউএনএইচসিআর ব্যুরোর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ঝিনাইদহে ১১ কোটি ব্যয়ে কসাইখানা উদ্বোধন মৌলভীবাজারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনসভাস্থলে নেতাকর্মীদের ঢল
Nagad desktop

খালেদা জিয়া সম্পর্কে ড. ইউনূস ‘উনি একজন অসাধারণ মানুষ’

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৫, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৫, ১১:১১ এএম
‘উনি একজন অসাধারণ মানুষ’
তারেক রহমান ও ড. ইউনূস করমর্দন করছেন। ছবি: প্রেস উইং

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে একজন ‘অসাধারণ মানুষ’ বলে অভিহিত করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ওই সময় খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।’ জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘উনি একজন অসাধারণ মানুষ।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি শেষ হয় পৌনে ১১টায়। এর ১৫ মিনিট আগে তারেক রহমান হোটেল প্রাঙ্গণে পৌঁছলে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান তাকে স্বাগত জানিয়ে হোটেল কক্ষে নিয়ে যান। পরে প্রধান উপদেষ্টা কক্ষের সামনে থেকে তারেক রহমানকে এগিয়ে এসে ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় তারেক রহমান বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ তার সঙ্গে আসা অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও তারেক রহমান হাসিমুখে করমর্দন করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুজনের মধ্যে কথোপকথনের সূচনা হয়। আলোচনার শুরুতে ড. ইউনূস বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে।’ তারেক রহমান উত্তর দেন, ‘আমারও ভীষণ ভালো লাগছে। I feel honoured.’

এ পর্যায়ে ড. ইউনূস তারেক রহমানের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আসেন, চলুন বসি।’ বসার পর দুই নেতার মধ্যে আরও হৃদ্যতা ছড়ায় কথায় কথায়। 

ড. ইউনূস জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার শরীর কেমন? ভালো আছেন?’ 

তারেক রহমান হেসে বলেন, ‘এই যাচ্ছে… কেটে যাচ্ছে।’ 

এরপর তারেক রহমান বলেন, ‘আম্মা (খালেদা জিয়া) আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।’ 

ড. ইউনূস বলেন, ‘উনি একজন অসাধারণ মানুষ।’ আলোচনার ফাঁকে আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন দুজন। 

তারেক বলেন, ‘আজকের আবহাওয়াটা বেশ ভালো।’ ড. ইউনূস সহমত হয়ে বলেন, ‘দারুণ। হোটেলটাও ভালো জায়গায়।’ 

এর পর বলেন, ‘ব্রিটেনে হাঁটার জন্য খুব ভালো ব্যবস্থা আছে। আমি যেখানটায় থাকি, ওখানে পার্কে হাঁটাহাঁটি করা যায়।’

বৈঠকে তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে একটি কলম ও দুটি বই উপহার দেন। একটি বই হলো পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের লেখা ‘নো ওয়ান ইস টু স্মল টু মেক আ ডিফারেন্স।’ আরেকটি বই ‘নেচার ম্যাটারস’। 

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রথম থেকেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভঙ্গি ও আন্তরিকতা বজায় রেখেছেন দুজন। লন্ডনের পার্ক লেনের ডরচেস্টার হোটেল থেকে বৈঠক শেষে তারেক রহমানকে হাসিমুখে বের হতে দেখা গেছে।

মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা
ছবি:খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল নারী ও তরুণদের, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলবেঁধে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন নারী ও তরুণরা। কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাশা নিয়ে। মাঠজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।

শহরের সৈয়ারপুর থেকে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছি। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

রাজনগরের এক চা শ্রমিক রোকসানা বেগমের কণ্ঠে ছিল বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাপন এখনো কষ্টের। মজুরি বাড়ানো ও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগে তেমন ছিল না। তবে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। তরুণদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় এক সংগঠক বলেন, আগে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। এখন তারা নিজ উদ্যোগে আসছেন। তরুণদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে, এটা ইতিবাচক দিক।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ বলেন, এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে
ছবি: খবরের কাগজ

১৯৭৮ সালের ২৭ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান এসেছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অংশ নিয়েছিলেন জনসমাবেশে। তার ঠিক ৪৮ বছর পর একই মাঠে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বুধবার (১৭ জুন) তার এই আগমনে স্থানীয় বিএনপি নেতারা যেমন আনন্দিত, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উচ্ছ্বসিত।

বিএনপির প্রবীণ অনেক নেতা ও শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় প্রবীণরাও স্মৃতিকাতর। তারা ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্রীমঙ্গলে আগমন ও সমাবেশের স্মৃতিচারণ করছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াকুব মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ’১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রীমঙ্গল সফরে আসেন। এখানে এসে তিনি প্রথমে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের (বিটিআরআই) গেস্ট হাউজে ওঠেন। সেখান থেকে তিনি গোপলা নদী ও বিলাছড়ার মধ্যের অংশে একটি খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক সমাবেশে অংশ নেন। এখনকার মতো তখন এত বেশি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না। তখন জনবসতিও অনেক কম ছিল। তবুও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।’

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ’আমার তখন ১৩ বছর বয়স। আমি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্ভবত ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তাম। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেদিন শ্রীমঙ্গলে আসেন, সেদিন আমরা স্কুল থেকে সবাই মিলে গোপলা নদীতে খাল খননে গিয়েছিলাম। এখনকার মতো তখন এত বাস বা অনান্য যানবাহন ছিল না। দুই তিনটি বাস মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কে চলতো, সেই বাসগুলোকে রিকুইজিশন করে এবং বিভিন্ন চা বাগানের জিপ, ট্রাক্টর নিয়ে সবাই খাল খনন কর্মসূচিতে আমরা অংশ নিই। যখন রাষ্ট্রপতি এসে পৌঁছান এবং মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তখন উনার গাড়িবহরে হাজার হাজার মানুষ ছিল। সে এক দেখার মতো দৃশ্য ছিল।’

আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে অংশ নেবেন এবং সেখান থেকে তিনি মির্জাপুর ইউনিয়নের সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

পাশাপাশি তিনি ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জনকে জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য ৫ জন চা শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দপত্র তুলে দেবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উনার পিতার পদাংক অনুসরণ করেই এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তিনি নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলেন, বিএনপিকে এই অঞ্চলের মানুষ ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিলে তিনি তাদের জন্য সর্বোচ্চ উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। নির্বাচিত হওয়ার চার মাসের মাথায় তার এ সফর মূলত তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রতি তিনি কতটা নিষ্ঠাবান তারই প্রতিফলন।’

হৃদয় শুভ/থিওটোনিয়াস/

রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

২৪ জুলাই বিপ্লবে ইজিবাইকচালক মানিক মিয়া হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আখতারুজ্জামান ভুট্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত পৌনে ১২টায় তাকে মেডিকেল মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তাজহাট থানার পুলিশ।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খবরের কাগজকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই আন্দোলনে ইজিবাইকচালক মানিক হত্যা মামলার ৬৯ নম্বর আসামি তিনি। তিনি আওয়ামী লীগের ৩১নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি এবং ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। 

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি রংপুর শহরে এসে সরকার এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। তিনি জুলাই আন্দোলনে অর্থ প্রদান ছাড়াও সরাসরি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ খবরের কাগজকে জানান, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার আখতারুজ্জামান ভুট্টোর বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হামলা করার অভিযোগও আছে। সম্প্রতি তিনি গোপনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের একত্রিত করার চেষ্টা করছিলেন।

সেলিম সরকার/থিওটোনিয়াস/

কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’
সরদার জাহিদ

‘বাগেরহাটে কচুয়ায় মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণের চেষ্টা,মামলা না করতে বিএনপি নেতার চাপ’ শিরোনামে খবরের কাগজ এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে মোবাইল ফোনে খবরের কাগজের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি রিফাত আল মাহমুদকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে খবরের কাগজে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

এ সংবাদ প্রকাশের পরে রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে সরদার জাহিদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে রিফাত আল মাহমুদকে ফোন দিয়ে অশ্লীল কথা বলেন এবং ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’, বলে হুমকি দেন।

উল্লেখ্য, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকায় আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক দোকানদারের বিরুদ্ধে। তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং থানায় মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন মাদরাসার টিফিন বিরতির সময় শিশুটি খাবার কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায়। এ সময় দোকানদার হাকিম সরদার তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।

​ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জিয়াউর রহমান ফকির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে দোকানদার হাকিম সরদার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানার পর আমি থানায় মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদরাসার শিক্ষক ইমরান সাহেব এবং ডিসি অফিসের কর্মচারী রুস্তম সাহেব আমাকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদ সরদারের নাম বলে মামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার আশ্বাস দেন।’

তিনি আরও জানান, তার মেয়ে স্থানীয় সরদার বজলুর রহমান এতিমখানা ও মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, যা জাহিদ সরদারের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে জাহিদ সরদারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুস্তম মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাচ্চাটির বাবার মুখ থেকে আমি বিষয়টি শুনেছি, ঘটনা সত্য হতে পারে। স্থানীয় ইমাম মুফতি সরদার ইমরান এবং মানফুজুল বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সালিসের চেষ্টা করছেন। তবে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তের দোকানটি বন্ধ রাখতে বলেছেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদের বড় ভাই সরদার রেজাউল।’

​এদিকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ মোবাইল ফোনে বলেন, ’ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযুক্তের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। শিশুর পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায়, তবে আমি তাদের পাশে থাকব। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি স্থানীয় নব্য জামায়াতপন্থিদের অপপ্রচার।’

​কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ’বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ অভিযুক্ত হাকিম সরদারের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রিফাত মাহামুদ/খাদিজা রুমি/

নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল মৃধা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার মধ্য কাইচাইল গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময় হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন।

রবিউল মৃধা বলেন, আমি কাইচাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউনুস সরকারের বরাবর তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি আমি আপাতত সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান এবং তার কন্যা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তার বড় ভাই রফিক মৃধা, স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব মৃধা, হানিফ মিয়া, এনামুল কাজী, সাহেব মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/