ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল জার্মানির খুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান প্রথমার্ধে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও, ৩ গোল দিল জার্মানি মমতার দলে সংকট আরও গভীর, বিদ্রোহী এমপি বেড়ে ২২ জোটার স্মরণে বিশ্বকাপে বিশেষ উদ্যোগ নিল পর্তুগাল হোম অব ক্রিকেটে লিটনের অন্য রকম প্রথম ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে চাঁদপুরের তিন প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ বেরোবির রাজস্ব বাজেট ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন আজ ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭ পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ফটিকছড়িতে বায়তুল ক্বোবা তৈয়্যবিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি হস্তান্তর শ্রমিক অবরোধে আড়াই ঘণ্টা স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্দরে বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আইএইচএফ ট্রফিতে দুই বিভাগে রূপা জিতল বাংলাদেশ আলু সংরক্ষণাগারে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, ৭ দিনের আল্টিমেটাম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে রবিবার, খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী সোনারগাঁয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আতঙ্কে ঘর ছাড়া, নিরাপত্তার আশ্বাস পুলিশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে অভিযান ইতিহাসের দুয়ারে গিয়ে থামল বাংলাদেশ, রক্ষা পেল অজিরা চুয়াডাঙ্গায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করল বিজিবি গফরগাঁওয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা নরসিংদীবাসীর জন্য সুখবর, অনুমোদন পেল সরকারি মেডিকেল কলেজ
Nagad desktop

আপস করবেন না জিএম কাদের

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ১১:১২ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৫, ০১:২২ পিএম
আপস করবেন না জিএম কাদের
জি এম কাদের

চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে দলের একাংশের তৎপরতায় জাতীয় পার্টিতে (জাপায়) সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে জি এম কাদের তার অবস্থান থেকে সরে আসছেন না।

তিনি বলছেন, অপতৎপরতার সঙ্গে তিনি কোনো আপস করবেন না। যারা দলের গঠনতন্ত্রের নীতির বিরোধিতা করে ভাঙার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন তাদের সঙ্গে তিনি কোনো সমঝোতায় বসবেন না। 

গতকাল রবিবার খবরের কাগজের সঙ্গে আলাপকালে এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানান জি এম কাদের। তিনি জানান, নীতির সঙ্গে তিনি কোনোদিন আপস করেননি, করবেনও না। তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এর চেয়ে বেশি কথা বলতে রাজি হননি তিনি। 

এদিকে, আগামী ২৮ জুন রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাপার দশম কাউন্সিল আয়োজনের চেষ্টা করছেন দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মো. মুজিবুল হক চুন্নু। তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় সারির কয়েকজন নেতা ও দু-তিনটি জেলার নিষ্ক্রি‌য় কয়েক নেতা এই কাউন্সিল আয়োজনের কথা বলে দলকে অস্থিতিশীল করছেন বলে দলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জাতীয় পার্টির দপ্তর ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, দলের প্রেসিডিয়াম, কেন্দ্রীয় কমিটি ও তৃণমূলের নেতারা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে অকুণ্ঠ সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছেন। বারবার দলকে অস্থিতিশীল করার দায়ে তারা দলটির তিন শীর্ষস্থানীয় নেতার পদ ত্যাগের দাবিও তুলেছেন। 

জাপার কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, জি এম কাদেরের অবস্থান স্পষ্ট । তিন শীর্ষ নেতার কারও সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন না; কথাও বলবেন না। এ ছাড়া দল ছেড়ে চলে যাওয়া ও বহিষ্কৃত নেতাদের আবারও দলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডিয়াম সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী তিনি। পার্টি ফোরাম সর্বসম্মতভাবে মতামত জানালে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দলছুট বা বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরাতে জি এম কাদের এককভাবে কোনো উদ্যোগ নেবেন না বলে খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন জাপা নেতারা। 

জাপা চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠরা জানান, যেসব নেতা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা খর্ব করার নামে তৎপরতা চালাচ্ছেন, তারা মূলত সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলছেন। এই নেতারা আওয়ামী লীগের আমলেও সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন, তাকে বিপদে ফেলেছেন। এখনো একই ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা কখনো রওশন এরশাদকে সামনে রেখে, আবার কখনো বা বহিষ্কৃতদের সঙ্গে আঁতাত করে জি এম কাদেরকে চাপে রেখেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জি এম কাদেরকে বাদ রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দল অংশ নিয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পুরো সময়টাই তারা নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে জি এম কাদেরকে চাপে রেখেছেন। বর্তমান তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত নেতারা ওই সময়ই গোপনে শেখ হাসিনা ও রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। এ কারণে শেখ হাসিনার সরকার ইচ্ছামতো জাতীয় পার্টিকে ব্যবহার করতে পেরেছে। ফলে নির্বাচনের আগে জি এম কাদের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েও শেষ পর্যন্ত সরকারের চাপে নির্বাচনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ ওই নেতারা তখন সরকার ও রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। জি এম কাদের নির্বাচনে না গেলে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে ওই নেতারা তখন নির্বাচনে অংশ নিতেন। আর এর ফলে জাতীয় পার্টি আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়ত বলে রাজনীতিতে আলোচনা ছিল।

জাপার সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত ১৭ বছর যাবৎই ওই নেতারা ক্ষমতার সুবিধাভোগী ছিলেন। আবার এখনো তারা ক্ষমতার সঙ্গে থাকতেই কাদেরবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। কারণ কাদের সরকারের বিরুদ্ধে কিছুটা কঠোর অবস্থানে আছেন। জাপা নেতারা বলছেন, সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় পার্টিকে ওই নেতারা বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন। তাদের মূল টার্গেট জি এম কাদের ও জাপাকে ধ্বংস করা। 

জি এম কাদের খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি আমার নীতি ও আদর্শে অটল আছি। আমি দলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে অবিচার করিনি। নেতিবাচক অবস্থান নিইনি। পুরো দল আমার সঙ্গে আছে। দুয়েকজন নেতা যা বলছেন, যা করছেন সেটি তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধাপ্রসূত। কারও কাছে আমি নতি স্বীকার করব না।’ 

গত ২০ মে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভার পরে দলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। দলের শীর্ষ তিন নেতা এবং প্রেসিডিয়ামের জনাতিনেক নেতা জাপা চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা রহিত করার পক্ষে মত দেন। এ নিয়ে দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে সভায় বাদানুবাদ হয়। 

জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিল করার উদ্যোগ হিসেবে আগামী ২৮ জুনের জন্য রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাই জাপা চেয়ারম্যান কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজনে কিছুদিন সময় চেয়ে নেন পার্টি ফোরামে। তবে দলের তিন শীর্ষ নেতার দাবি ছিল, তারা কাকরাইলেই এই কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজন করতে চান। এ নিয়ে জি এম কাদেরকে চাপ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। জি এম কাদের নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে জানান, জাপা ২৮ জুন কাউন্সিল অধিবেশন করবে না। 
এ দুই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন জাপার তিন নেতা। তারা যেকোনো মূল্যে ২৮ জুন কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজন করতে চেষ্টা করছেন। 

ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ রবিবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিনি (জি এম কাদের) কাউন্সিল অধিবেশনের ডাক দিয়ে এখন আবার তা বাতিল করতে চাইছেন। এটি তো হতে পারে না। চেয়ারম্যান জি এম কাদের যে কাউন্সিল ডেকেছেন আগামী ২৮ জুন, আমরা সেই কাউন্সিলে যাচ্ছি।’ 

জি এম কাদের সেই সম্মেলনে যেতে সম্মত হবেন কি না জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দলের চেয়ারম্যান সেই কাউন্সিলে না গেলে তা ‘আইনগতভাবে ত্রুটিযুক্ত’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। 

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘দলের সংবিধানের ১২ ধারায় বলা আছে, কাউন্সিল করতে গেলে সম্মতি লাগবে প্রেসিডিয়ামের। প্রেসিডিয়ামের সভাপতি হিসেবে চেয়ারম্যান যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে সেই কাউন্সিল গ্রহণযোগ্য হবে না।’

দলে এই অস্থিরতায় জাপায় সপ্তম দফায় ভাঙনের প্রশ্ন জোরদার হয়েছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘ভাঙন কীভাবে হয়? ভাঙন তো তখনই হয় যখন আলাদাভাবে কেউ দল থেকে বের হয়ে যাবে। আমরা তো তা করছি না। চেয়ারম্যান কাউন্সিল ডেকেছিলেন, আমরা সেই কাউন্সিলে যাচ্ছি।’

জাপার দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বলেন, ‘অতীতে কাজী জাফর, মিজানুর রহমান চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মতো জনপ্রিয় নেতারা দল ভেঙে নতুন দল গঠন করেছিলেন। কিন্তু হেভিওয়েট সেই নেতারাও তো সুবিধা করতে পারেননি। যতবার জাপায় দল ভেঙে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই ব্যর্থ হতে হয়েছে। সুতরাং ভাঙনের চেষ্টা করে লাভ নাই। দলের চার-পাঁচজন নেতা ছাড়া সবাই জি এম কাদেরের পক্ষে আছেন।’

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘যাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এখন, সেই তিনজন নেতা অনেক বড় মাপের নেতা। তারা অনেকবার মন্ত্রী বা এমপি ছিলেন। তারা অনেকবার জাতীয় পার্টির হাল ধরেছেন। আমার ধারণা তারা চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব মেনে নেবেন। যেকোনো পার্টির চেয়ারম্যান থাকেন একজনই। তার নেতৃত্বে দল চলে। এটা তো মেনে নিতে হবে। তারা যদি জাতীয় পার্টিকে ভালোবাসেন, ধারণ করেন তবে সবাই মিলে একসঙ্গে থাকব। একসঙ্গে সবকিছু মোকাবিলা করব, একসঙ্গে নির্যাতিত হব।’

চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা খর্ব করতে দলের শীর্ষ নেতারা যে ফাটলের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন তা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। 

তিনি বলেন, ‘সিনিয়র কো চেয়ারম্যান, কো চেয়ারম্যানরা প্রেসিডিয়াম সভাতে বলতে পারতেন এই ধারাটি আমরা বাতিল চাই। সেখানে প্রেসিডিয়াম যদি বলত বাতিল; তাহলে বাতিল হয়ে যেত। এটা আসলে বাইরে আলোচনা করা, আন্দোলন করা বা সেপারেট কাউন্সিল করে এটা বাতিল করার দরকার ছিল না। এটার ফোরাম আছে। এখনো আলোচনার সুযোগ আছে।’ 

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার (১৪ জুন)  রাত ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় ১১ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ এনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সাড়ে ১৭ বছর একটা কঠিন অবস্থা অতিক্রম করেছি। সাড়ে ১৭ বছর পর এবার একটা অর্থবহ নির্বাচন জাতি আশা করেছিলো। আমার ব্যক্তিগত মত, নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে অনেককিছু করা হয়েছে। যেটা এখন অনেকে স্বীকার করছেন। আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে তারা আর এর থেকে বের হতে পারেনি।’

সাবেক আউজি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর বলেন, ‘বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড এলার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইর কারাগারে থাকবেন নাকি দেশে আনা হবে তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।’

সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা চলছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘ওপার থেকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপোষ করব।’ 

সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।

সরকারি দল ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভাল থাকবে। নির্বাচন ভালো হলেই শাসক ভাল হবে এর প্রমাণ নেই।’

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বাজেটে অনেককিছু ওয়েভার এসেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কি না সেটা জানতে চান তিনি। দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না এই দু'টি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ নাই বাজেটে।’

রিফাত/

বেরোবিতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
বেরোবিতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি এবং ‘গুমের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গুম ও অপহরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগও তোলেন তারা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘নারীরা আজ জামায়াত-শিবিরের কারণে অনিরাপদ। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা চরিত্রহনন করে। এজন্য বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। আমরা দেখেছি, নারীকে লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তারা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিল। 

এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা জামায়াত-শিবির প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার বিচার করতে হবে তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।জামায়াত-শিবিরকে বলতে চাই, এসব গুমের নাটক করবেন না। গুমের নাটক সাজিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।

এদিকে ছাত্রদলের এ কর্মসূচিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছে বেরোবি ছাত্রশিবির। সংগঠনটির নেতা আহমেদুল হক আলবির বলেন, এটি ছাত্রদলের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো অস্পষ্ট। প্রশাসন এখানে বাদী ও বিবাদী কাউকে সামনে আসতে দিচ্ছে না। আর ঘটনাটি এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণিত হওয়া এক জিনিস নয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জিসান মিয়া প্রধান অপহরণের শিকার হননি। পুলিশের দাবি, নিজের পরিচয় গোপন করে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আজম/রিফাত/

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি দাসত্বের আদেশনামা, বাজেটে ঠাঁই হয়নি শ্রমিক-কৃষকের: ওয়ার্কার্স পার্টি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি দাসত্বের আদেশনামা, বাজেটে ঠাঁই হয়নি শ্রমিক-কৃষকের: ওয়ার্কার্স পার্টি
ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপি সরকারের ঘোষিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাজেটকে আমজনতার ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি ও ভারতের সীমান্ত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অন্যায়’ বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাণিজ্যিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারবে না। এটি মূলত বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের ‘আদেশনামা’।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএনপি সরকারের চার মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের কথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটে দেশের প্রধান উৎপাদক শ্রেণী শ্রমিক-কৃষকদের বিশেষ কোনো জায়গা হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল হলেও শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো খবর নেই। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত করা হয়নি।’

এই ঘাটতি বাজেটের পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরেই বর্তাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোনো হিসাবই জনগণের কাজে আসবে না।’ চলমান সংসদ অধিবেশনেই আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বন্ধুত্বের বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, ‘এই বার্তা যদি আন্তরিক হয়, তবে অবিলম্বে ভারতকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে পুশ-ইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। ভারত এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সৎ প্রতিবেশীর পরিচয় দিতে পারেনি। সমতা, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে ভারতকে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না উল্লেখ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক। 

সাইফুল হক  বলেন, ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার যেটুকু এগিয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেই অগ্রগতি দেখাতে পারছে না। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের কড়া বিরোধিতা করবে।’

কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুল ইসলাম এবং অরবিন্দু বেপারী বিন্দুসহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নেতা-কর্মীরা। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, তোপখানা রোড ও বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা, অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নারী ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। 

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ‘বাহ শফিক চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষণ করে গুমের নাটক, চলবে না চলবে না’, ‘গুমের নাটক করে যারা, দেশবিরোধী শত্রু তারা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিল শেষে শহিদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘গুম একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। হাসিনা সরকারকে হালকাভাবে দেখানোর জন্য বিরোধী দল এ ধরনের নাটক সাজিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র কি না তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।’

তিনি বিরোধী দলকে গঠনমূলক রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। শিবিরের ভণ্ডামির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রকাশ্য ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির পক্ষে মত দেন।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হিরণ বলেন, ‘শিবির নেতা একজন বোনকে ধর্ষণ করে ভ্রূণ হত্যা করেছে এবং নিজে অপহরণের নাটক সাজিয়েছে।’

তিনি জামায়াত-শিবিরকে ‘অপরাধ জগতের সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এতে ঢোকা সহজ কিন্তু বের হওয়া কঠিন। গুপ্তভাবে ক্যাম্পাসে তাদের কমিটি চালানোর সমালোচনা করেন তিনি।’

জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘কুমিল্লায় একজন ছাত্রশিবির নেতা ধর্ষণ করে ‘গুমের নাটক’ সাজিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করেছিল, যেখানে জামায়াত-শিবিরের উচ্চপর্যায়ও জড়িত। এর মাধ্যমে তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করেছে। ধর্ষণ করে গুমের নাটক করা প্রকৃত গুমের শিকার পরিবারগুলোর বেদনাকে অবমাননা করার শামিল। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পর শান্তিপূর্ণ রাজনীতির সুযোগ ছিল। কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবির বিএনপি ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের এক নেতা নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যায় জড়িত থাকার পর গুমের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকারদের অবমাননা করেছে এবং সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ করেছে।’ 

শিবিরকে সুষ্ঠু রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যথায় প্রতিহত করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমানউল্লাহ খান/রিফাত/ 

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও