অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রাকে সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার দারুল ইহসান মাদ্রাসা মাঠে ‘নারকীয় আশুলিয়া’ শীর্ষক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির অন্য শীর্ষ ও জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন। এ সময় জুলাই-আগস্টে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতরাও বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, শত শহিদের রক্তের বিনিময়ে পতিত, পরাজিত, পলাতক, বিতাড়িত, ফ্যাসিবাদী অপশক্তি রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ নিতে ওত পেতে রয়েছে। সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রাকে সংকটে ফেলে দিতে পারে। দেশে ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহিদের প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, পালাতে বাধ্য হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহিদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে এই সাভার আশুলিয়ায় শ্রমিকদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল। হত্যার পর মানুষের লাশগুলোকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। লাশের সঙ্গে এমন বর্বরতা, মানুষের সঙ্গে এমন নির্মমতা মনে হয় কারবালার নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টদের পলায়নের দিন সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিক, মানুষের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য গত বছরের জুলাইয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের সরাসরি হয়তো বা কোনো স্বার্থ জড়িত ছিল না। কারণ তারা কোনো সরকারি চাকরির আশা করেননি। অথচ পোশাক কারখানার শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, অটোরিকশাচালক, ট্রাকচালক, হেলপার, মুদি দোকান বা রেস্তোরাঁর কর্মী অথবা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন।’
দেশে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘প্রত্যেক নাগরিক যাতে নিজের কথাটি নিজে বলতে পারেন, নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন, নিজের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন কিংবা সরকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। জনগণের ক্ষমতায়নের এ রাজনীতিটিই বিএনপি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’