তিনদিনের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল নিষিদ্ধ এবং সেনাপ্রধান ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে রংপুর গণঅধিকার পরিষদ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে থেকে এই ঘোষণা দেয় নেতারা। এর আগে নগরীর শাহী মসজিদ এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রেসক্লাব, জাহাজ কোম্পানী মোড়, পায়রা চত্বর হয়ে প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে। পরে শাপলা চত্বর, লালবাগ হয়ে শহিদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে মডার্ন মোড়ে যায়। পরে সেখানে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে তারা। এতে আধা-ঘণ্টা রংপুরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
বিক্ষোভে ‘‘আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সেই পথে’’, ‘‘মানুষ মারার অধিকার, কে দিলো রে জানোয়ার’’, ‘‘আওয়ামী লীগের গালে গালে, জুতা মারো তালে তাল”- বলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে যুব অধিকার পরিষদের জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিমুল আহমেদ বলেন, নুর ভাইসহ নেতাকর্মীদের ওয়াকার বাহিনী যেভাবে পিটিয়েছে, একজন গণতন্ত্রের স্টেকহোল্ডার নুরুল হক নুর ভাইকে আমরা নির্যাতিত হতে দেখতে পারি না। আমরা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এটা মেনে নেব না। আমরা সেনাপ্রধান ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই। তা নাহলে আবারও জুলাই হবে।
সমাবেশে জিওবির রংপুর মহানগর সদস্য সচিব বলেন, ‘চিহ্নিত গোয়েন্দা সংস্থা একটা লাল টি-শার্ট পড়া ব্যক্তির পিটুনি দেওয়া ভিডিওটা এজন্য ভাইরাল করেছে যে নুর ভাইয়ের ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ যে হামলা করেছে সেটা আড়াল করার জন্য। মূলত লাল টি-শার্ট পড়া ছেলেটা পেটাচ্ছিলেন আমাদের ছাত্রনেতা সম্রাট ভাইকে। ওটা নুর ভাই নয়। নুর ভাইকে সরাসরি পুলিশ ও সেনাবাহিনী হামলা করেছে। সেই ভিডিওটা মিডিয়ায় প্রচার করা উচিৎ।’
সমাবেশে জিওবির কেন্দ্রীয় সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, নুর ভাইয়ের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে। তার ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, এতে তা প্রমাণিত হয় এটা পূর্ব পরিকল্পিত। ইন্টিরিম সরকারের কাছে জানতে চাই কোন অধিকারে আপনারা নুর ভাইসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালেন। আমরা আপনাদের সতর্ক করছি। আপনারা আওয়ামী লীগ দোষর জাতীয় পার্টি ১৪ দলকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে নিষিদ্ধ করুণ। তা নাহলে সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক হানিফুর রহমান সজিব বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টি ও জিএম কাদেরবেক রক্ষা করার জন্য এই ইন্টিরিম সরকার ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ যেভাবে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, এটি জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ঘৃণার-লজ্জার।
হানিফ বলেন, ইন্টিরিম সরকার ব্যর্থ। তারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ। ইন্টিরিমের আর এই পদে থাকার কোনো প্রয়োজন নাই। আপনারা পদত্যাগ করুণ। জাতীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে নতুন করে আবার সরকার পরিচালনা করা হবে।
সেলিম সরকার/মাহফুজ