জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম চরমোনাই পীর।
তিনি বলেন, 'আমাদের দাবি সুস্পষ্ট- জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই, এর আইনি ভিত্তি চাই। দ্রুততার সঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে চাই। ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন বন্ধ করতে চাই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। আমাদের অবস্থান কোনো দলের বিরুদ্ধে না। বরং জুলাই অভ্যুত্থানের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই অবস্থান।'
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। সোমবার (১৫ তারিখ) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবির পক্ষে দলীয় কর্মসূচি তুলে ধরা হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
চরমোনাই পীর বলেন, '২৪-এর জুলাইয়ে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রকে চিরতরে উৎখাত করার জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত ও জীবন দিয়েছে। হাসিনার পলায়ন সেই চাওয়ার একটা অংশ। পরের কাজ ছিল- সংবিধান, আইন ও রাজনৈতিক সংস্কার করে দেশে স্বৈরাচার সৃষ্টির সম্ভাব্য সব পথ রুদ্ধ করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন না করে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেই যেনতেন উপায়ে নির্বাচন আয়োজন করে দেশকে আবারও পুরোনো অশুভ আবর্তে নিক্ষেপ করার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় স্বৈরাচার বিরোধী সব রাজনৈতিক, সামাজিক শক্তি একত্রিত হয়ে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।'
তিনি বলেন, জুলাইয়ে নিহত পরিবারগুলোতে শোক এখনো বহমান, আহতদের ক্ষত এখনো শুকায়নি। অথচ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিচার কাজে কোনো গতি নেই। ফ্যাসিবাদের প্রমাণিত দোসররা উদ্ধতভাবে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিচ্ছে। এতো রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের সনদ নিয়ে নয়-ছয় করা হচ্ছে। পুরোনো বন্দোবস্তে নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড় চলছে।
চরমোনাই পীর বলেন, সামগ্রিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ম্রিয়মাণ হতে চলছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। তাই জুলাইয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা ও ঝুঁকি নিয়ে নেমেছিলাম সেই প্রতিজ্ঞায় আবারও মাঠে অবস্থান নেব।
শফিকুল/মেহেদী/