বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি, শিক্ষা, সমাজ ব্যতিরেকে কোনো দেশের রাজনীতি হতে পারে না। আসুন আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করি, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে মানুষের ভোটের অধিকার-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ এই দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘রক্তাক্ত ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাসাস’ শীর্ষক এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় আয়োজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস)।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির বা দলের কৃতিত্ব নয় বরং দীর্ঘ ১৬ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল বলে মন্তব্য করে মঈন খান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর ধরে দেশের ৪৩টি রাজনৈতিক দল ও অসংখ্য নাগরিক সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে যে সংগ্রাম করেছে, তারই ফল হলো শেখ হাসিনা সরকারের পতন। এটা কেবল ছাত্রদের আন্দোলন নয়- এটা ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। এই সংগ্রামে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।’
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে যারা শুধু ছাত্রদের হাতে কেন্দ্রীভূত করতে চান তারা নিজস্ব ইচ্ছেই করতে পারেন তবে সেটা সঠিক বিশ্লেষণ না। ছাত্ররা জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন কিন্তু তারেক রহমান ১০ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার ফলে সফলতা এসেছে।’
আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে মঈন খান বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপির সব দলীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশে বঞ্চনা, গুম, খুন ও মিথ্যাচারের রাজত্ব কায়েম ছিল। বিএনপির কর্মীরা তখন ঘরে থাকতে পারেননি। অনেককে গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে, আজও অনেকে নিখোঁজ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজ ও সংস্কৃতিকে পিছিয়ে রেখে কোনো দেশ অগ্রগতি করতে পারে না। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই উপলব্ধি থেকেই জাসাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
জাসাস নেতাদের উদ্দেশে মঈন খান বলেন, ‘সংস্কৃতি হলো জাতির আত্মা। বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে জাসাসকে নতুন করে সংগঠিত হতে হবে- যাতে জনগণের হৃদয়ের ভাষা রাজনীতিতে প্রতিফলিত হয়।’
জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল চিন্না মিয়া হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে জাসাসের ‘রক্তাক্ত ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাসাস’ প্রকাশনা উন্মোচন করা হয়।
শফিকুল ইসলাম/সুমন/