কুমিল্লা টাউন হল মাঠে একই দিনে ডাকা বিএনপির দুই গ্রুপের সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত কোনো গ্রুপকেই অনুমোদন দেয়নি প্রশাসন। টাউন হল মাঠ ছাড়া অন্য ভেন্যুতে সমাবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয় দুপক্ষকেই। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে সমাবেশ করতে এলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এরপর থেকেই টাউন হল মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে ও দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে সমাবেশ ডাকে কুমিল্লা সদর আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত আমিন উর রশিদ ইয়াছিন গ্রুপ এবং বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপ। এ নিয়ে বুধবার থেকেই শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। সেই প্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় কোনো গ্রুপই টাউন হল মাঠে সমাবেশ করতে পারবে না। তারা অন্য কোথাও আলাদা আলাদা সমাবেশ করলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই টাউন হল গেইটে একে একে প্রবেশ করতে থাকে, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যা থেকে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ও মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারীরা টাউন হল মাঠের দুপাশে অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় মিছিল করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মাঠের মাঝখানে অবস্থান নেয়। পরে প্রশাসন দুই পক্ষকে আলাদা ভেন্যুতে সমাবেশ করার প্রস্তাব দেয়। তবে কেউ সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাউন হল মাঠে সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ২০ নভেম্বর টাউন হল মাঠ ছাড়া অন্য স্থানে জনসভা আয়োজনের অনুরোধ করা হলো।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইয়াছিন গ্রুপ। একই দিন একই স্থানে মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপ আয়োজন করছে নির্বাচনী জনসভা। এ কারণে টাউন হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।
বুধবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, মুক্তমঞ্চসংলগ্ন পূর্ব পাশে ইয়াছিন গ্রুপের প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। অপরদিকে পশ্চিম পাশে মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপ মঞ্চ তৈরি ও প্যান্ডেলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মাঠে কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। যদিও প্রকাশ্য কোনো বিরোধ দেখা যায়নি, তবে সমাবেশকে ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
হাজী ইয়াছিন গ্রুপের পক্ষ থেকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান জানান, ১৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে মাঠ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে, তার আগেই টাউন হল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। তাই তারা বৈধভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অন্যদিকে মনিরুল হক চৌধুরীর আইনজীবী আবদুল মোতালেব মজুমদার বলেন, তারাও ১৭ নভেম্বর লিখিতভাবে আবেদন করেছেন এবং নির্ধারিত ফিও পরিশোধ করেছেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালেক বলেন, দুপক্ষই মাঠ চেয়ে আবেদন করলেও কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি তাদেরকে বলে দেওয়া হয়েছে একই স্থানে একই দিনে প্রোগ্রাম না করে বিকল্প ভেন্যুর বাছাই করার জন্য।
জহির শান্ত/নাঈম