বহুজাতিক কোম্পানির কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল তড়িঘড়ি হস্তান্তরের অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করবেন সিপিবির নেতারা।
এর আগে, আগামী ২৩ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামে শ্রমিক-কর্মচারীদের কনভেনশনের ডাক দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তরের চলমান প্রক্রিয়া এবং লালদিয়া চরে টার্মিনালের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, পরিচালনার জন্য ডাচ কোম্পানির সঙ্গে ইতোমধ্যে সম্পন্ন ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তি ও সুইচ কোম্পানির সঙ্গে সম্পন্ন ঢাকার অদূরে পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল ২২ বছরের পরিচালনা চুক্তি ক্ষমতাসীন সরকারের এখতিয়ারবহির্ভূত।’
তারা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সাল থেকে অন্তত ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বন্দরের বৃহত্তম নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল গড়ে তুলেছে। এই লাভজনক টার্মিনালটি সমস্ত আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে বহুজাতিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে হস্তান্তর করতে অন্তর্বর্তী সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
সিপিবি নেতারা প্রশ্ন তোলে বলেন, ‘নিউমুরিং টার্মিনালে প্রতি একক কনটেইনারে কমবেশি প্রায় ১১৫ ডলার আয় থাকে। এ বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ৩ মাসে মোট ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৯ একক (২০ ফিট সমমান) কনটেইনার উঠানামা করেছে। তাহলে দক্ষতা-সক্ষমতা-গতি বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করতে সমস্যা কোথায়?’
নেতারা বলেন, ‘নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি না করে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে না।’
লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ের্সক গ্রুপ এবং ১৫৬ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল নিয়ে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ-এর সঙ্গে সম্পন্ন চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন সিপিবি নেতারা।
জয়ন্ত/এসজি/