ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এখনো উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দল থেকে প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর দলীয় কোন্দল আরও প্রকাশ্যেই এসেছে। প্রার্থী পরিবর্তন চেয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ১১ জন নেতা চিঠি দিয়েছেন। এদিকে বসে নেই জামায়াতে ইসলামীও। তারা ৮ মাস আগে থেকে কৌশলী পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। তবে নির্বাচন সামনে রেখে কোনো প্রচারে নেই জাতীয় পার্টি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী ঘোষণা না করলেও প্রতিটি আসনের মতো মিরসরাইতেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর রয়েছেন। নির্বাচনি সমীকরণে এ আসনের রাজনৈতিক তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। চায়ের দোকান থেকে শহর-গ্রামাঞ্চল সব জায়গায় এখন আলোচনা নির্বাচন ঘিরে।
বিএনপি এই আসনের প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ছিলেন তিনি। আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও ছিলেন জেলা শাখার আরেক সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও ব্যবসায়ী নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
বিএনপির প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। কেউ না এলে সেটি তাদের বিষয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে আমি বিজয়ী হব।’
আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান। তিনি ৮ মাস ধরে দলের দায়িত্বশীলদের নিয়ে কৌশলে এগোচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে। প্রতিনিয়ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে, মাঠ-ঘাটে চষে বেড়াচ্ছেন। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট টানতে ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন দলের কর্মীরাও। কর্মীসভা, পথসভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দিচ্ছেন জামায়াতের এই প্রার্থী।
সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে আলোকিত মিরসরাই গড়তে চাই। যেখানে কোনো তরুণ ও যুবক বেকার থাকবে না। আশা করছি, নির্বাচনে আমি জয়লাভ করব। আমরা জনগণের কাছে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে কোনো প্রচারে নেই জাতীয় পার্টি। এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা না করলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর রয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টসহ কয়েকটি ইসলামপন্থি দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ভোটাররা ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
এনসিপি মনোনয়নপ্রত্যাশী উত্তর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার পর এনসিপির নেতা-কর্মীরা আরও তৎপর হবেন। এই আসনে এনসিপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই একত্রে তার পক্ষেই কাজ করব।’