বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বড় কোনো পরিবর্তন নেই বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বলেন, 'ম্যাডাম আগের মতোই আছে। বলা যায় সবশেষ মেডিকেল বোর্ড বিবৃতির মাধ্যমে যে আপডেট জানিয়েছিল, এখনও তেমনই আছে। বড় উন্নতি নেই। আবার অবনতিও নেই। এরপট আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছি। সেগুলোর রেজাল্ট আসলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনও তিনি সিসিইউতেই চিকিৎসাধীন আছেন।'
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের আরেক সদস্য বলেন, 'ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) উন্নতি হচ্ছে। তবে আহামরি নয়। কিছু ছোট ছোট ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। উনার অবস্থা এখনো বিদেশে নেওয়ার মতো নয়। এটা সময় লাগবে। শারীরিক সক্ষমতা ট্রাভেল করার মতো হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত দেশে রেখেই ওনার চিকিৎসা চলবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ওনার শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের কারণে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনও ম্যাডাম ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টের মধ্যে আছেন।'
জানা গেছে, দেশে ফেরার পর মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে সশরীরে অংশ নেন খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বৈঠক শেষ করে বাসায় ফেরেন। বলা যায় দিনের বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে শ্বাশুড়ির শয্যাপাশে কাটান। বাসায় থাকার সময়ও টেলিফোনে টাইম টু টাইম উনি তার শাশুড়ির স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। চিকিৎসার বিষয়গুলোর তিনি সমন্বয় করেন।
হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা, সৈয়দা শামিলা রহমান, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এবং স্টাফ রূপা আক্তার। বিএনপি চেয়ারপার্সনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সার্বক্ষণিক পাশে আছেন। তাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা বলার চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপার্সন গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবউদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
শফিকুল/মেহেদী/