দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত নাহিয়ান রবিন। ছবি: খবরের কাগজ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় নাহিয়ান রবিন (২৪) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরশহরের মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের রাজমিস্ত্রির সহযোগী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী না হলেও সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহতের বন্ধু ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিনের কেক কাটেন রবিন। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ছয়-সাতজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। তারা প্রথমে রবিন ও মাসুমের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। সুযোগ পেয়ে সেখান থেকে শাকিবুল দৌড়ে পালিয়ে যান। রবিনকে রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দুর্বৃত্তরা চলে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যায় রবিন।
রবিনের বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা হামলা চালায়। আমি কোনোমতে পালিয়ে বাঁচলেও ওরা রবিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।’
রবিনের চাচা নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রবিন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিল, তবে কোনো পদ-পদবি নেই। সে এলাকাতেই অবস্থান করত। রাজনৈতিক কোনো বিরোধ থেকে তাকে টার্গেট করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।’
রবিনের বাবা মোফাজ্জল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, রাজনৈতিক বিরোধ থেকে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নই। তবে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/থিও/