ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টেকনাফে পুলিশ বহনকারী সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব কিছু মানুষের কারণে কেন অপমানিত হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশি? ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়ার রিটে যা নির্দেশ দিল হাইকোর্ট মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই- লোন’ এর উদ্বোধন বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি সবার সক্রিয় ভূমিকায় রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে কড়া সতর্কতা, সন্দেহভাজনদের তথ্য চাইল বিজিবি মায়ের মরদেহ দেখতে যাওয়ার পথেই মেয়ে নিহত চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির অভিযানে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন বদরগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মবিরতিতে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎকরা মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা সমুদ্রের তলদেশে বিচিত্র এক সুতোয় বাঁধা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বান্দরবানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ
Nagad desktop

সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১০ এএম
সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিলেট ব্যুরো প্রধান উজ্জ্বল মেহেদী। 

খবরের কাগজ: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে নির্বাচনি আমেজ বইছে। কেমন নির্বাচন চান?
এহতেশাম হক: অবশ্যই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। এটা শুধু আমার চাওয়া নয়, মনে হয় দেশের অধিকাংশ মানুষই এমনটা চাইছেন।

খবরের কাগজ: বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ কি দেখছেন এখন?
এহতেশাম হক: এখন পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে নির্বাচনের পরিবেশ মোটেও ভালো বলা যাবে না। সামনে পরিবেশ ভালো হবে– এমনটা আশা করারও কোনো অবকাশ নাই। ইলেকশন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসাররা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। আমলাতন্ত্র যতক্ষণ না তারেক রহমান-আবদুল আউয়াল মিন্টু-এহতেশাম বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমান্তরাল করে দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত একটি ভালো নির্বাচন আশা করা যায় না। 

খবরের কাগজ: নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি? নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন মনে করছেন? 
এহতেশাম হক: প্রথমেই বলব আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ প্রয়োজন। ভোটাররা যাতে নিরাপদ ফিল করে, সে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটা বড় রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এটা অশনিসংকেত। আপনাকে রাষ্ট্রের হবু প্রধানমন্ত্রী ভেবে মিডিয়াসহ ব্যবসায়ী সমাজ যদি আপনার দিকে হেলে যায়, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিরপেক্ষ বিচার পেতে পারে না। সিলেটে আমরা দেখলাম যে, একজন প্রার্থী তিনি বড় দলের একজন নেতা হওয়ায় দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন তোলা হলো না। অথচ আমরা জানি, উনি ব্রিটিশ নাগরিক। অথচ এটার কোনো ব্যাখ্যা উনি দিলেন না। রিটার্নিং কর্মকর্তা, মিডিয়া বা নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলল না।

খবরের কাগজ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে? কোথায় আরও কাজ করতে হবে?
এহতেশাম হক: উদ্বেগ রয়ে গেছে। আমি নিজেও উদ্বেগমুক্ত নই। যদিও আমাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গানম্যান নিয়ে ভোটের মাঠে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ করা স্বাভাবিক বিষয় না। 

খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিকব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
এহতেশাম হক: লক্ষ্য করেছি যে, বিচারব্যবস্থা ও পুলিশ ব্যবহার করে নির্দোষদের হয়রানি করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের হ্যারাস করা হচ্ছে। আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারব যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বড় দলের সুবিধা পাওয়ার জন্য পক্ষপাত ভূমিকায় অবতীর্ণ নেই? ভোটের মাঠে এমন নিশ্চয়তা নেই। 

খবরের কাগজ: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
এহতেশাম হক: গণভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যেন গণভোট গুলিয়ে ফেলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও নির্বাচন কমিশন মহাব্যস্ত সংসদ নির্বাচন নিয়ে। এ ক্ষেত্রে সকলেরই উচিত সমান পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু তা হচ্ছে না। সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিন, এমন প্রচার কিন্তু সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বেশি হওয়া দরকার ছিল। তখন আশা করা যেত যে, গণভোটের ফলাফল ঘিরে রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কার সাধিত হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলো তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

খবরের কাগজ: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
এহতেশাম হক: গণমাধ্যমের উচিত সত্যটা তুলে ধরা। নিরপেক্ষভাবে, পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করা। শক্তিশালী দল ও প্রার্থীর ফেবারে না যাওয়া। গণমাধ্যম প্রার্থীদের হলফনামা তুলে ধরছে, হলফ করে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ হলো কি না, তা দেখছে না। গণমাধ্যমের উচিত পেশার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ না করা।

বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

একটি পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত দেড়টার দিকে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়। রবিবার (৭ জুন) সকালে একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়।

মঞ্জু মোল্লার ছেলে গোলাম কিবরিয়া সৈকত বলেন, “আমার বাবার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং বেশির ভাগ সময় বাড়িতেই অবস্থান করতেন। তাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের চাপের কথা বলা হয়েছে।”

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলার চাখার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির সরদারের করা বিস্ফোরক ও অগ্নিসংযোগের একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা দৈনিক সমকাল ও যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত গোলাম সারওয়ারের ছোট ভাই। তিনি ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন। টানা নির্বাচিত হয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

মইনুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
শার্শায় বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

যশোরের শার্শায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কনেস্টবলকে মারধরের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশ নেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মুজিদ, উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইদুজ্জামান, বাহাদুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্দিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং  স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির একজন জনপ্রিয় নেতা। রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে।’ তারা অবিলম্বে উপজেলা বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। 

এর আগে গত ২৯ মে বিকেলে উপজেলা শ্যামলাগাছি এলাকার বাসিন্দা ট্যুরিস্ট পুলিশের কনেস্টবল মামুন হাসান জুয়েল হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নামে শার্শা থানায় মামলা করেন।

নজরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০
ছবি: খবরের কাগজ

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফল উৎসব অনুষ্ঠানের মঞ্চ দুই দফায় প্রকাশ্যে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

এ সময় হামলাকারীরা মঞ্চের সামনে থাকা চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেন এবং প্যান্ডেল খুলে ফেলেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে এনসিপির অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে ছাত্রদল এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। 

গত শুক্রবার রাতে এবং শনিবার বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রূপগঞ্জ উপজেলা এনসিপি ফল উৎসবের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর। ফল উৎসবকে ঘিরে শুক্রবার থেকে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল।

ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভেঙে ফেলা হয় বলে এনসিপি অভিযোগ করেছে। ওই ভাঙচুরের পর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ফল উৎসব সফল করার লক্ষ্যে আবারও প্রস্তুতি নেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।

পরদিন শনিবার একদল হামলাকারী আবারও মঞ্চ এবং মঞ্চের সামনের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেন। খুলে ফেলা হয় প্যান্ডেল। 

ঘটনার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় এনসিপির রূপগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সদস্যসচিব ফারাবি হাসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব ইউসুফ মোল্লা, জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতসহ এনসিপির অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে এনসিপি দাবি করেছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপস্থিত এনসিপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন,  নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ফল উৎসবের প্যান্ডেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশের সামনেই তারা হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান। 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমি এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমার ব্যাপারে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমাদের দলের কেউ না।’ 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সরকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, এনসিপির ফল উৎসবকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ‎

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের প্রেমতলা এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুরো মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দেখানো হয়। ইতোমধ্যে ভিডিওটি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি করা হয়। মিছিলের সামনে একজন জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং তার পেছনে ব্যানার হাতে নেতা-কর্মীরা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন। এ সময় তারা শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

পাশাপাশি শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায়। পুরো মিছিলটি জেলা মোটরশ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পালং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শেখ সেলিমের ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি দেখানো হয়। ইতোমধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, বিষয়টি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দুপুরের দিকে প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিধান মজুমদার/রিফাত/

তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

দেশে চলমান চরম অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মসংস্থানহীন বাজেট এবং জ্বালানি সংকটের কারণে তীব্র খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে ‘সৈনিক’ হিসেবে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

শনিবার (৬ জুন) দলের এক প্রয়াত নেতার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

কৃষি খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সংকটের কারণে দেশে সার আমদানিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ, তেল ও সারের অভাবে শীতকালীন সেচ ও উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশে তীব্র খাদ্য সংকট এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। অর্থনৈতিক মন্দা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশ চরম নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে।’

দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, ‘মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির এবং সাধারণ মানুষের আয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সামনে আরও বাড়বে। নতুন বাজেটে কর্মসংস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। মানুষ যদি খেতে না পারে, কথা বলতে না পারে, তবে তারা কীভাবে বাঁচবে?’

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় পার্টির অতীত সুশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির আমলে দেশে শান্তি ও সুশাসন ছিল, মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো ভয়ভীতি বা অনিশ্চয়তা ছিল না। জনগণ আজ আবারও জাতীয় পার্টির সেই স্থিতিশীল শাসনের কথা মনে করছে।’

রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিরতার মধ্যে দলীয় সাংগঠনিক অবস্থান জোরদার করার তাগিদ দিতে গিয়ে জাপা চেয়ারম্যান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জি এম কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পরিষ্কারভাবে দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গেছে। এক পক্ষ সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তান আমলের মতো সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের দোসর বা দালাল আখ্যা দিয়ে নাজেহাল করছে। তারা সাধারণ জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, নির্যাতিত মজলুম মানুষও এর বিরুদ্ধে আস্তে আস্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ সমস্ত ওয়ার্ড ও থানার কমিটিগুলো পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেখানে তরুণ ও ত্যাগী নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে।

মাঠপর্যায়ে সাতটি টিম কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি সামনের দিকে অনিশ্চিত ও অস্থির। এই পরিস্থিতিতে জনগণ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের সুসংগঠিত সৈনিক প্রয়োজন। দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সংগ্রামে শামিল হতে হবে।’

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/