জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিলেট ব্যুরো প্রধান উজ্জ্বল মেহেদী।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে নির্বাচনি আমেজ বইছে। কেমন নির্বাচন চান?
এহতেশাম হক: অবশ্যই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। এটা শুধু আমার চাওয়া নয়, মনে হয় দেশের অধিকাংশ মানুষই এমনটা চাইছেন।
খবরের কাগজ: বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ কি দেখছেন এখন?
এহতেশাম হক: এখন পর্যন্ত যা দেখেছি, তাতে নির্বাচনের পরিবেশ মোটেও ভালো বলা যাবে না। সামনে পরিবেশ ভালো হবে– এমনটা আশা করারও কোনো অবকাশ নাই। ইলেকশন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসাররা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। আমলাতন্ত্র যতক্ষণ না তারেক রহমান-আবদুল আউয়াল মিন্টু-এহতেশাম বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমান্তরাল করে দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত একটি ভালো নির্বাচন আশা করা যায় না।
খবরের কাগজ: নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি? নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন মনে করছেন?
এহতেশাম হক: প্রথমেই বলব আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ প্রয়োজন। ভোটাররা যাতে নিরাপদ ফিল করে, সে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটা বড় রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এটা অশনিসংকেত। আপনাকে রাষ্ট্রের হবু প্রধানমন্ত্রী ভেবে মিডিয়াসহ ব্যবসায়ী সমাজ যদি আপনার দিকে হেলে যায়, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিরপেক্ষ বিচার পেতে পারে না। সিলেটে আমরা দেখলাম যে, একজন প্রার্থী তিনি বড় দলের একজন নেতা হওয়ায় দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন তোলা হলো না। অথচ আমরা জানি, উনি ব্রিটিশ নাগরিক। অথচ এটার কোনো ব্যাখ্যা উনি দিলেন না। রিটার্নিং কর্মকর্তা, মিডিয়া বা নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলল না।
খবরের কাগজ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে? কোথায় আরও কাজ করতে হবে?
এহতেশাম হক: উদ্বেগ রয়ে গেছে। আমি নিজেও উদ্বেগমুক্ত নই। যদিও আমাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গানম্যান নিয়ে ভোটের মাঠে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ করা স্বাভাবিক বিষয় না।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে প্রশাসনিকব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
এহতেশাম হক: লক্ষ্য করেছি যে, বিচারব্যবস্থা ও পুলিশ ব্যবহার করে নির্দোষদের হয়রানি করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের হ্যারাস করা হচ্ছে। আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারব যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বড় দলের সুবিধা পাওয়ার জন্য পক্ষপাত ভূমিকায় অবতীর্ণ নেই? ভোটের মাঠে এমন নিশ্চয়তা নেই।
খবরের কাগজ: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
এহতেশাম হক: গণভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যেন গণভোট গুলিয়ে ফেলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও নির্বাচন কমিশন মহাব্যস্ত সংসদ নির্বাচন নিয়ে। এ ক্ষেত্রে সকলেরই উচিত সমান পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু তা হচ্ছে না। সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিন, এমন প্রচার কিন্তু সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বেশি হওয়া দরকার ছিল। তখন আশা করা যেত যে, গণভোটের ফলাফল ঘিরে রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কার সাধিত হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলো তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
খবরের কাগজ: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
এহতেশাম হক: গণমাধ্যমের উচিত সত্যটা তুলে ধরা। নিরপেক্ষভাবে, পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করা। শক্তিশালী দল ও প্রার্থীর ফেবারে না যাওয়া। গণমাধ্যম প্রার্থীদের হলফনামা তুলে ধরছে, হলফ করে কোনো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ হলো কি না, তা দেখছে না। গণমাধ্যমের উচিত পেশার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ না করা।