ভোটের মাঠে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই বরিশাল–৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনি তহবিলে প্রায় ৪০ লাখ টাকার অনুদান জমা পড়েছে। মাত্র তিন দিনে ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া এই অর্থ নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়সীমাকে ছুঁয়ে ফেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ গত বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে অনুদান সংগ্রহের এই তথ্য জানান। তার দেওয়া তথ্যমতে, তিন দিনে তিনি মোট ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছেন। এই অর্থের মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে এসেছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, নগদ মারফত পাওয়া গেছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমা পড়েছে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা। ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার ফুয়াদ দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই অনুদান সংগ্রহের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে। কেউ এটিকে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন– ব্যয়সীমা অতিক্রম করলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। জনপ্রতি ১০ টাকা হিসেবে এই আসনে একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা নির্ধারিত রয়েছে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা। সে হিসাবে ব্যারিস্টার ফুয়াদের সংগৃহীত অনুদানের পরিমাণ ব্যয়সীমার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা বেশি।
ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, অতিরিক্ত অনুদানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বচ্ছতার স্বার্থে অনুদানসংক্রান্ত সব কাগজপত্র নির্বাচন পর্যন্ত নিরীক্ষা করে প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকারের অন্য যেকোনো আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরীক্ষা করতে চাইলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।