ফেনী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) তার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে করা আপিলের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন আপিলটি নামঞ্জুর করে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
জানা গেছে, এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। রবিবার নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
আপিল আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তিনি মনোনয়নপত্রের হলফনামায় এ তথ্য গোপন করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, হলফনামায় মিন্টু দাবি করেছেন- তিনি ৯ ডিসেম্বর তার মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেছেন। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ্য নথি দাখিল করা হয়নি।
এছাড়া আপিলে আরও বলা হয়, মিন্টু ৪ ডিসেম্বর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে থাইল্যান্ডে যান এবং ১৫ ডিসেম্বর একই পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে ফেরেন। ফলে ৯ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়।
আপিল আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিএনপির এই প্রার্থী তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্যও হলফনামায় গোপন করেছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী এসব কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য হতে পারে বলে দাবি করা হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই আব্দুল আউয়াল মিন্টু তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ফি জমা দেন। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় তার প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ নেই বলে কমিশন মনে করে। ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বৈধতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
এদিকে, একই দিনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতাও বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। তবে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। ঋণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।
এলিস/রিফাত/