ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যারা করেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেনি সরকার, দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে যদি আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি অন্যায় না করেন এবং কোনো মামলা না থাকে, তাহলে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের।’
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘এখনো অনেককে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে দলটির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এটা করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘যে প্রার্থীকে নিরাপদ মনে করবেন এবং জানমাল, ইজ্জত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরাও সেই প্রার্থীকে ভোট দেবেন।’
নতুন কোনো জোটে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নতুন করে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
জামায়াতের সঙ্গে জোট ভাঙার বিষয়ে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘কথা ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় কোরআন-সুন্নাহর আইন বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু তা থেকে সরে আসায় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, ‘বিগত সময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ পরিবেশে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে আশা করি।’
এ সময় তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রশাসন যেন কোনো পক্ষের দিকে ঝুঁকে না পড়ে।’ একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন দখলদারি ও কালোটাকার ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের অধিকার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠিত হলে শরিয়াহভিত্তিক আইনের আলোকে নারীদের সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
মতবিনিময় সভায় তার ভাই ও বরিশাল-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ইসহাক মোহাম্মদ আবুল খায়েরসহ দলটির বরিশাল উপজেলা ও মহানগরের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।