নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই- এমন অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া আশ্বাসে আস্থা হারাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সারা দেশে হামলা, ভয়ভীতি, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে এনসিপি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও প্রশাসন ও নির্বাচন সমন্বয় উপকমিটির সেক্রেটারি আয়মান রাহাত।
এ সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও পলিটিক্যাল কমিটির কনভেনার আকরাম হোসাইন বলেন, 'নির্বাচনের মাঠে সহিংসতা ঘটছে। ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে না। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা আমাদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।'
হাতিয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এনসিপির নির্বাচন সমন্বয় উপকমিটির সেক্রেটারি আয়মান রাহাত বলেন, '৩০ জানুয়ারি নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় জনগণের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।'
এনসিপির দাবি, 'হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হলেও আগাম তালিকা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং পরদিন একই গোষ্ঠী আবার মিছিলে হামলা চালায়। আয়মান রাহাতের অভিযোগ, হামলার সময় সন্ত্রাসীদের বলতে শোনা গেছে- ওসি ও ইউএনও আমাদের পক্ষে আছে, আমাদের কিছু হবে না।'
নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন- পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের জরিপের ভিত্তিতে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে এনসিপি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিচালকের বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর ঘটনাকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে এনসিপি। দলটির দাবি, কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সক্রিয় হলে নির্বাচনি পরিবেশের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
এনসিপি শেরপুরে জামায়াত নেতার হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জে ভোটারদের প্রকাশ্যে হুমকি, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিলবোর্ড স্থাপন এবং বিরোধী দলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে নারী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইন হয়রানির বিষয়েও বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
গণভোট প্রসঙ্গে দলটি জানায়, এটি কোনো দলের নয়- সরকারি গণভোট। অথচ ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের প্রো-অ্যাকটিভ ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করে এনসিপি।
এক প্রশ্নের জবাবে আয়মান রাহাত বলেন, 'নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হামলার পর তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও যখন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় না, তখন সেই আশ্বাসের কোনো মূল্য থাকে না। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না- সে প্রশ্ন থেকেই যায়।'
এলিস/সুমন/