রাঙামাটির একমাত্র ২৯৯ নম্বর আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী সাত প্রার্থীর মধ্যে ছয় প্রার্থীই আসনটিতে প্রদত্ত মোট ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। একই সঙ্গে গণভোটে ‘না’ ভোট পড়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার।
নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী ‘নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত’ সংসদীয় আসনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জামানত হিসেবে প্রার্থীদেরকে ২৫ হাজার টাকা জমা রাখতে হয়। এই অর্থ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়। জামানত বাজেয়াপ্তের শর্তমতে- একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়।
এবার রাঙামাটি আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১৮টি। বাতিল ভোট ১০ হাজার ১৫২টি। ভোটদানের হার ৫৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জামানত রক্ষায় এই ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ অর্থাৎ ন্যূনতম ৩৪ হাজার ২৫৩ ভোটের প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ প্রার্থীর কেউ এই শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হননি। এই প্রার্থীরা পেয়েছেন ৪৪৯ থেকে সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ১৪২ ভোট।
এর মধ্যে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন প্রসীত খীসার ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা (ফুটবল) সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে হয়েছেন দ্বিতীয়। আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক (রিকশা) প্রতীকে ২২ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়ে হয়েছেন তৃতীয়।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মো. জসিম উদ্দিন (হাতপাখা) ৩ হাজার ৬৭২ ভোট নিয়ে চতুর্থ, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার (লাঙ্গল) দুই হাজার ৯৭৪ ভোটে পেয়ে হয়েছেন পঞ্চম। আর আসনটির একমাত্র নারী প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা (কোদাল) এক হাজার ৭০ ভোট পেয়ে ৬ষ্ঠ আর গণঅধিকার পরিষদের মো. আবুল বাশার (ট্রাক) পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট। এমন ফলাফলে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই ৬ প্রার্থীই হারিয়েছেন তাদের জামানত।
এদিকে গণভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০টি। এরমধ্যে ‘না’ ভোট এক লাখ,৭৯ হাজার ৮০৫টি। আর ‘হ্যাঁ’ ভোট ৭১ হাজার ৭১৯টি। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ২৭৪টি। আবার ৫ হাজার ৩৬০টি পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪ হাজার চারজন। বাতিল হয়েছে ৬৮০টি। এরমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দুই হাজার ৪৬২ এবং ‘না’ ভোট ৮৬২টি।
জিয়াউর রহমান/অমিয়/