গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর কাছে হেরে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রয়াত আ স ম হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। ওই আসনে তিনি (শাহ রিয়াজুল হান্নান) পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩৯০টি ভোট। তার চেয়ে ১১ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের মেট্রো সদর থানা জামায়াতের আমির।
শাহ রিয়াজুলের বাবা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। কাপাসিয়ার তৃণমূলের উন্নয়নে তার বাবার সময়কালকে সোনালী অধ্যায় ধরা হয়। বাবার রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততাও ছিল। সে হিসেবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও আছে তার। ভোটের মাঠে শুরুর দিকে তিনি বেশ এগিয়ে ছিলেন। জেতার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অপকর্মের অভিযোগ ও দলীয় কোন্দলের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি জিততে পারেননি। এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা ঘনিষ্ঠ ছিল না। এসব কারণে তিনি পিছিয়ে পড়েন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানান, তার (শাহ রিয়াজুল) নেতা-কর্মীরা ৫ আগস্টের পর থেকে ওই আসনে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। জড়িয়েছেন নির্বাচনি সহিংসতায়ও। তার নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি অফিসে তদবির বাণিজ্যসহ পুরো উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভাগ বসানোর মতো অপকর্মে জড়িয়ে সমালোচিত হয়েছেন।
এ বিষয়গুলো তার পরাজয়ে প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া শাহ রিয়াজুল হান্নান আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীদের সরাসরি মাঠে নামিয়েছিলেন। তারা রিয়াজুল হান্নানের সঙ্গে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ভোট দেননি। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর মতো ঘটনা ঘটান। সে সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। কয়েক দফা বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীকে মোবাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে তরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না, সমস্যা আছে। আমি কিছু বলতে চাই না।’
তবে এসব বিষয় পুরোপুরি মানতে নারাজ কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা। তিনি বলেন, ‘অনেক অচেনা ভোটার কাপাসিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভোট দিয়েছেন। তাদের অন্য এলাকা থেকে এনে কাপাসিয়ায় ভোটার করা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের অনেক আগে থেকেই ভোটার করা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘এ সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার।’
বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরাজয়ের কারণগুলো এখনো বিশ্লেষণ করা হয়নি। এ ছাড়া হঠাৎ বিপুলসংখ্যক অচেনা ভোটারের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’ তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অপকর্মের বিষয়ে বলেন, ‘দায়ভারটা আমিই নেব। নিশ্চয় আমাদের মধ্যে ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল। সেটা ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলন হয়েছে।’