ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান
Nagad desktop

প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হলেন সিলেটের আরিফ ও মুক্তাদির

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হলেন সিলেটের আরিফ ও মুক্তাদির
আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যজোট মনোনীত সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে দুজন বাদে সবাই ছিলেন নতুন মুখ। ঐক্যজোটের প্রার্থী বাদে জিতেনছেন ১৮ জন। এরমধ্যে প্রথম নির্বাচন করেন ১৬ জন। বিএনপির সরকারে এদের মধ্যে দুজন মন্ত্রী হয়েছেন। প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী ভাগ্যবান সংসদ সদস্য হচ্ছেন, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেটে সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ শেষে তারা মন্ত্রীর শপথ গ্রহণের ডাক পড়ে। বিকেলে তারা শপথ নেন। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন দুটো মন্ত্রণালয়। প্রথমটি হচ্ছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়। খন্দকার মুক্তাদির বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সিলেট জেলায় বিএনপি সরকারে এবারই প্রথম হওয়ায় সিলেটজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীসহ নবনিযুক্ত মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ভোটের রাজনীতে সেই ১৯৭৩ সাল থেকে প্রচলিত, ‘সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার’ মিথ সত্যি হলো।

২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে সিলেট থেকে অর্থ  ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন মরহুম এম সাইফুর রহমান। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন দুজন। এরা হচ্ছেন, প্রয়াত এবাদুর রহমান ও ফজলুল হক আসপিয়া।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী আরিফ
আরিফুল হক চৌধুরী জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের তালিকায় আছেন প্রায় দুই যুগ ধরে। একই আদর্শের রাজনীতিতে অবিচল থেকে ভোটের মাঠে তার নির্ভয় বিচরণ আর দল-মত নির্বিশেষে নির্মোহ জনসেবায় নিয়োজিত থেকে তিনি রীতিমতো ম্যাজিকম্যান হিসেবে প্রমাণ করেছেন সর্বমহলে। তার ম্যাজিকে মাত্র দেড় মাসে তিনি শহর থেকে গিয়ে গ্রামের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫৫ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করেন আরিফুল হক চৌধুরী। নগর ভবন থেকে এখন তার যাত্রা সংসদ ভবনে।

অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখন বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়, তখনও কেউ ভাবেনি আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করবেন। কারণ, সিলেট মহানগরী অন্তর্ভুক্ত সিলেট-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু গত বছর ৩ নভেম্বর যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৩৭ আসনের বিপরীতে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি সেখানে ছিল না তার নাম।

মনোনয়ন না পেয়ে আরিফুলসহ তার অনুসারী নেতা-কর্মী-সমর্থকরা যখন আশাহত হন, তখন ৪ নভেম্বর দলের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে ঢাকায় জরুরি তলব করা হয়। পরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসভবনে দেখা করার ডাক পান। চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও আরিফুল হকের ভিডিও কলে কথা হয়। এ সময় চেয়ারপারসন আরিফুলকে সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া।

এরপর গত ৬ নভেম্বর ঢাকা থেকে ফিরে সিলেট-৪ আসনে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি। ৭ নভেম্বর থেকেই তিনি সিলেট-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রচার কাজ শুরু করেন। কিন্তু তখনও প্রার্থিতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ দলীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই তিনি যখন সিলেট-৪ আসনে প্রচার শুরু করেন তখন বিএনপির অনেক নেতা তার এই দাবি বিশ্বাস করেননি। তারা মনে করেন মনগড়া কথা বলে এই আসনে প্রচার চালাচ্ছেন আরিফ। তার এই মনগড়া সিদ্ধান্তের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও মনে করেন অনেক স্থানীয় বিএনপি নেতা। তবে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত প্রার্থীর তালিকায় যখন সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হকের নাম আসে তখন সবার ধোঁয়াশা কাটে।

তবে আরিফুল হকের ভোটের মাঠে অজেয় উত্থান ২০১৩ সালে। সে বছর কারাগারে থেকেই প্রথমবারের মতো সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। পরবর্তীতে আওয়ামী শাসনামলে ২০১৮ সালেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো তিনি সিটি মেয়র নির্বাচিত হন। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। সেবছর তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে কমিশনার (বর্তমান কাউন্সিলর) হিসেবে নির্বাচিত হন। তখন সিটি মেয়র হিসেবে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান নির্বাচিত হলেও নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরিফুল হক। রাজনীতির বাইরে সবার নজর ছিল তার ওপর। নগর ভবন থেকে সংসদ ভবনযাত্রায় চূড়ান্ত ম্যাজিক দেখা যায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে। মাত্র দেড়মাসে সিলেটের তিনটি উপজেলার বাসিন্দাদের মন জয় করে ছিনিয়ে আনেন ভূমিধস জয়। ১২ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট-৪ নির্বাচনি এলাকা একটি সীমান্ত প্রান্তিক অঞ্চল। ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়-পাদদেশ, এপারে মাটির নিচে খনিজসম্পদ ভরপুর। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রের জন্য দেশে ও বিদেশে বিশেষভাবে পরিচিত সিলেট-৪ আসনের তিনটি উপজেলা। গোয়াইনঘাট উপজেলায় পড়েছে জাফলং, তামাবিল, বিছনাকান্দি, জলাবন রাতারগুল, কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর, উৎমাছড়া, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এবং জৈন্তাপুরে পড়েছে বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসফিল্ড, লাল শাপলা বিল, নীল নদখ্যাত সারী-লালাখাল, সিনেমার শ্যুটিং এরিয়া শ্রীপুর ও রাংপানি। প্রাকৃতিক পর্যটনের চেয়ে প্রাকৃতিক খনিজসম্পদ সমৃদ্ধির বালু ও পাথরমহাল পুরো এলাকাকে সম্পদশালী করেছে।

আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনি প্রচারণা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভোটের মাঠে নেমেই তিনি ‘প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার’ স্লোগানটি তুলে ধরেন। গ্রামীণ যোগাযোগ বিড়ম্বনার বিষয়টি সরাসরি নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করেন। এরপর উন্নয়ন পরিকল্পনা তার অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনি সিলেট অঞ্চলে উন্নয়নের রূপকারখ্যাত রাজনীতিবিদ ও বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্ল্যান তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি স্মরণের মধ্যে রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত দিলদার হোসেন সেলিমকেও। পূর্বসূরিদের স্মরণ বিষয়টি সাধারণ মানুষজনকে আকৃষ্ট করে। 

আরিফুল হক চৌধুরী তার নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণার সর্বশেষ সমাবেশে সিলেট-৪ নির্বাচনি এলাকাকে ভবিষ্যতে ‘সিলেট উত্তর সিটি’ হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় থাকা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, আরিফুল হক অল্প দিনে ভোটের মাঠ চষে বেড়ানো ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিতে পূর্বসূরিদের স্মরণ করার বিষয়টি জনগণের মনজয় হয়। এ জন্য বড় ব্যবধানে বিজয়। প্রথমবার এমপি হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সিলেট অঞ্চলের সীমান্ত প্রান্তিক নির্বাচনি এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। দল ছাপিয়ে সাধারণ মানুষজন আরিফুল হক বন্দনায় মেতেছেন। তাদের আশা, প্রথম দফায় এমপি মন্ত্রী হওয়ায় এলাকার উন্নয়ন বঞ্চনা এবার চিরতরে ঘোচবে।

বাবার পথে সফল মুক্তাদির
প্রথমবার ২২ বছর পর বাবা সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিকের আসনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ মিলেছিল খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের। এ সুযোগে প্রথম দফা বিফল হলেও হাল ছাড়েননি। দ্বিতীয় দফা লড়ে বিজয়ী হন। বাবার আসনে আসীন হওয়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হচ্ছেন মর্যাদার আসনখ্যাত সিলেট-১ নির্বাচনি এলাকার বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ আসনে তার প্রয়াত বাবা খন্দকার আব্দুল মালিক তিন বার সংসদ নির্বাচন করে প্রতিবার বিজয়ী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফা লড়ে বিজয়ী হওয়ায় বাবার আসন পুনরুদ্ধার হয়েছে ২৯ বছর পর।

খন্দকার মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার মালিকের শুরুটা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তখন নতুন রাজনৈতিক দল। বর্তমান সিলেট-১ (মহানগর-সদর) নির্বাচনি আসনটি তখন সিলেট-৮ আসন। এ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পান খন্দকার আব্দুল মালিক। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না। ব্যবসায়ী ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে খন্দকার আব্দুল মালিক ১৯৭৯ সালে সিলেট-৮ (বর্তমানে সিলেট-১) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। চতুর্থ দফা আর নির্বাচন করেননি খন্দকার মালিক। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম সাইফুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালে দুটো নির্বাচন শেষে এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর বাবার আসনটি পুনরুদ্ধারে তৎপর হন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

প্রথম দফা তিনি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লড়েন। এরপর দ্বিতীয় দফা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয় পান। পুনরুদ্ধার হয় বাবার আসনটি। খন্দকার মুক্তাদির ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। 

‘সিলেট-১ যার, সরকার তার’
সিলেট-১ আসন ঘিরে একটি মিথ প্রচলিত। হযরত শাহজালাল (রহ.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার অধিকাংশের মাজার এ আসনটিতে পড়ায় ভোটের রাজনীতিতে বলা হয়, ‘সিলেট-১ যার, সরকার তার’! ১৯৭৩ সাল থেকে এ মিথ প্রচলিত হলেও তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার সূত্রপাত হয় ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর। ওই বছর সিলেট থেকে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক একমাত্র বিজয়ী হলেও বিএনপিই সরকার গঠন করে। এরপর সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী,  সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, দুই মেয়াদে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সরকার গঠন করে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২০১৮ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন মুহিতের ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলেট-১ আসনে একতরফা নির্বাচনে এ কে আব্দুল মোমেন জয়ী হন। তখনো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। প্রচলিত এ ‘মিথ’ মাথায় রেখে খন্দকার মুক্তাদির নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

ভোটের রাজনীতির পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে, ভোটের মাঠে বাবা ও ছেলের অবস্থান প্রায় সিঁকি শতাব্দীর। বাবার শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ থেকে। শেষ হয়েছে ১৯৯৬ সালে। মাঝখানে তিনটি নির্বাচন-কাল পেরিয়ে ছেলের শুরুটা ছিল ২০১৮ সালে। ভোটের মাঠ তখন প্রতিকূল। মুক্তাদির প্রতিকূল মাঠ টপকে আলোচনায় ছিলেন। তখনকার ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রভাবের মধ্যে তিনি ২০১৮ সালের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসেন। কিন্তু রাতের ভোটে তাকে হারতে হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি ভোটের মাঠ ছাড়া হননি। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকে প্রার্থিতার প্রচারেও ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি শুরুর দিকে নির্ভার থাকলেও শেষের দিকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রচারের মধ্যে পড়েন। শেষে বড় ব্যবধানে জিতলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বীর লক্ষাধিক ভোট পাওয়ায় অনেককে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।

মুক্তাদির অবশ্য ভোটের পরপরই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজনৈতিক সহনশীলতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। ভোটের পরদিন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিষ্টিমুখও করেন। নির্বাচিত হলে তার করণীয় নির্ধারণ ও সিলেটকে উন্নয়নমুখী করার নানা পরিকল্পনার বিষয়টি ভোটের আগে ও পরে তুলে ধরে দৃষ্টি কেড়েছেন সবার। ভোট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় ভোটের মাঠে তাকে ঘিরে বেশ অপপ্রচার হয়েছিল জানিয়ে মুক্তাদির বলেন, ‘অনেক অপপ্রচার হয়েছে। তবে ভোটাররা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হননি। এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সিলেটে বিদেশি বিনিয়োগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন জরুরি। বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ দরকার। পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটিও দরকার। এসব মৌলিক বিষয় থেকে শুরুই হবে আমার কাজ।’ 

‘মেড ইন ছাত্রদল’ মেটাফরে শীর্ষে আরিফ
‘মেড ইন ছাত্রদল’, সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন এক দৃশ্যপটের উদয় হয়েছিল এবার। যারা বিএনপি করছেন, প্রার্থিতার জন্য লড়ছেন, মাঠে তারা যেন ‘মেড ইন ছাত্রদল’ বলে বলীয়ান ছিলেন। ছাত্রদল থেকে বিএনপি করলেও দলটির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বের পরিচিতি তাদের পিছু ছাড়ছিল না। তাতে ‘মেড ইন ছাত্রদল’ হয়ে উঠেছিল বিএনপির এক নতুন রাজনৈতিক মেটাফর। মনোনয়নপ্রত্যাশা থেকে শুরু করে  দলীয় মনোনয়ন লাভ, এমপি নির্বাচিত হওয়া এবং সর্বশেষ মন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে এই মেটাফর ছিল। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এই মেটাফর প্রচলিত ছিল সিলেট ও সুনামগঞ্জে। ভোটের পরে দেখা গেছে, এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। তাদের মধ্যে এমপি থেকে মন্ত্রী হওয়া আরিফুল হক চৌধুরী অন্যতম।

তার রাজনৈতিক বৃত্তান্তে দেখা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য পদ নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর ছাত্রদল থেকে বিএনপির নেতৃত্বে আসীন হন। তিনি ছাত্রদলের জেলা সদস্য থেকে কেন্দ্রীয় সদস্য, মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে মূলদলে অভিষিক্ত হন। সেখানে তিনি পর্যায়ক্রমে মহানগর বিএনপির সভাপতি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আরিফুল হক চৌধুরী মাঝখানে যুক্তরাষ্ট্র থাকাকালে সেখানে বিএনপির প্রথম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও ছিলেন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদেও ছিলেন। ছাত্রদল থেকে বিএনপির জেলা ও মহানগর ও যুক্তরাষ্ট্রের কমিটির দায়িত্ব পালনের পর  স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী কমিটির সিলেট বিভাগের আহবায়ক ছিলেন। আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের একটানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দয়িত্ব পালন করেন।

প্রথমবার ২০১৩ সালে বিএনপি সমর্থিত নাগরিক কমিটির হয়ে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বাংলাদেশে একমাত্র বিজয়ী হন। ২০২৩ সালে তৃতীয় দফায় দলীয় সিদ্ধান্তে মেয়র নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এ সময় থেকে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আসীন হন। বর্তমানে এ পদে আছেন।

নাঈম/অমিয়/

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ভারত কর্তৃক অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বুধবার ( ১৭ই জুন) বিকেল ৫টায় জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সৌরভ রায়, মনোয়ারুল ইসলাম ও হেমন্ত দাষ। 

সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে।  গত কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদের সীমান্তে অবৈধভাবে "পুশইন" করে বাংলাদেশের ভিতরে ঠেলে দিচ্ছে। ভারতে "অবৈধভাবে" অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশ ইন করে পাঠানোর কথা ভারত দাবি করে আসলেও কার্যত ভারত কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পুশ ইন করার ঘটনা প্রমাণ করে যে ভারতের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।  

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, গত প্রায় দুই দশকের অধিককাল ধরে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনা বিশ্ববাসীর নিকট কোনো অজানা ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মনোভাব বুঝা যায়। তিনি ভারতের সাথে সম্পাদিত হাসিনা-মনমোহন চুক্তি, হাসিনা- মোদী চুক্তি সহ সকল অসম, অধীনতামূলক চুক্তি, সামরিক চুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান। 

সৌরভ রায় বলেন, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন হয়ে গেল। এই নির্বাচনে ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ও শাসক দল বিজেপির পশ্চিম বঙ্গ শাখা ভারতের পশ্চিম বঙ্গের সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশ বিরোধী, মুসলমান বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়েছিলো। এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে সাম্রাজ্যবাদী ভারত রাষ্ট্র, একচেটিয়া বড় পুজির দালাল, উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার নিজ দেশের সম্প্রদায় নির্বিশেষে জনগণের ঐক্যকে বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দাই নিচ্ছে না উপরন্তু সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে চলেছে। উপমহাদেশের জনগণের ঐক্যে বিভাজন তৈরি করে ভারতে ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করে চলেছে।

সৌরভ রায় বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই প্রতিক্রিয়াশীল ও গণবিরোধী ভূমিকা রুখে দাঁড়াতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা আজ এক গণতান্ত্রিক কর্তব্য । 

মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সীমান্তের জনগণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভারতের মক্কেল রাষ্ট্র বানানোর দিন গত হয়ে গিয়েছে এই বাস্তবতা ভারত সরকারকে বুঝতে হবে।

হেমন্ত দাষ বলেন, ভারতের আরএসএস, বিজেপি প্রভৃতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো একদিকে ভারতে  সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে জনগণের একতা বিনষ্ট করে চলেছে অন্যদিকে বাংলাদেশে জামাতে ইসলামীসহ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারী দলগুলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করে চলেছে। এরা মাজারে,বাউলগানের অনুষ্ঠানে তৌহিদী জনতার ব্যানারে হামলা চালাচ্ছে।এসবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হেমন্ত দাষ বলেন, মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দেশে দেশ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভয় পায়। এদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

এসএন/

শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল
আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে মিছিল করছে বিএনপির একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে মিছিলের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছেন।

সোমবার (১৫ জুন) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় তার মুক্তির দাবিতে বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যাতে বিএনপির একাংশ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন অন্তত পঞ্চাশজন লোক। যেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার, বোরহানমোল্লাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিতর্ক। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, লিটন মুন্সি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।

মিছিল করা যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি আমাদের দলের একজন কর্মী ও সমর্থক। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করি। তাই তার মুক্তির দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা। যদি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন তারা রাজনীতি করতে পারবে। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

যদিও বিক্ষোভ মিছিলটি দলের কোনো কর্মসূচি ছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যারা মিছিল করে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তারা।

এ ব্যাপারে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর বলেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, লিটন মুন্সিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিধান মজুমদার/নাঈম

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল থেকে বহিস্কৃত সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। ছবি: খবরের কাগজ
নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
 
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির পদ স্থগিত করা হয়েছে।
 
এর আগে অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
 
অভিযোগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ’এটি পারিবারিক বিষয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। কিছু পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।’
 
এদিকে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সসমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তার পদ স্থগিত করে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ’অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ’সংগঠনের কেউ অনিয়মে জড়িত হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
গাজী ‍আজম/আজহার/

মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা
ছবি:খবরের কাগজ

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। প্রচলিত রাজনৈতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল নারী ও তরুণদের, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলবেঁধে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন নারী ও তরুণরা। কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাশা নিয়ে। মাঠজুড়ে তাদের সরব উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে।

শহরের সৈয়ারপুর থেকে আসা গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এসেছি। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

রাজনগরের এক চা শ্রমিক রোকসানা বেগমের কণ্ঠে ছিল বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাপন এখনো কষ্টের। মজুরি বাড়ানো ও ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হব।

কলেজ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগে তেমন ছিল না। তবে এখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। তরুণদের নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার।

শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, নারীদের নিরাপত্তা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় এক সংগঠক বলেন, আগে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি কম দেখা যেত। এখন তারা নিজ উদ্যোগে আসছেন। তরুণদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে, এটা ইতিবাচক দিক।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ বলেন, এত মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ  সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মিছিলটি বের করা হয়।

ইতোমধ্যে মিছিলের ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলার আহ্বায়ক মহসিন মাদবরের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানুকা রুমা সিনেমা হলের সামনে থেকে এসে কলেজ গেটে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মহসিন মাদবরকে। মিছিল থেকে জয় বাংলার স্লোগান, শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ’আমরা মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। মিছিলটি আজকের নাকি পূর্বের সেটি নিশ্চিত হতে পারিনি। সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/