ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি
Nagad desktop

নানা চ্যালেঞ্জে বিএনপি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
নানা চ্যালেঞ্জে বিএনপি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সামনে এখন দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন; সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন; সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন; যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা; দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা; নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গড়ে ওঠা ঐক্য ধরে রাখা; আওয়ামী লীগের অদৃশ্য তৎপরতা মোকাবিলা; দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ বাড়ানো; দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোদমে সক্রিয় করাই দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব। এই কারণে দেশে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায়ই নানা ইস্যুতেই চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া আগামী দিনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দল ও সংগঠনকে পুনর্গঠন করার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া সারা দেশে দলকে সক্রিয় করতে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। 

জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদের গণভোটের চারটি প্রশ্নে বিএনপির সুনির্দিষ্ট আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠন এবং একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয়প্রধান থাকবেন কি না, এমন প্রশ্নে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। এ ছাড়া সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিএনপির আপত্তি রয়েছে। কিন্তু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। আবার বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেছে, নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন করবে। এতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সংসদে তর্ক-বির্তক চলছে। 

এমন পরিস্থিতিতে গণভোট রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবিতে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। ইতোমধ্যে গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাত দিনের নতুন কর্মসূচি দিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে আগামী দিনে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং সংবিধান সংশোধন কীভাবে হবে, তা বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা ও সমাধান করতে হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুলাই সনদের পক্ষে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল কর্মসূচি পালন করছে। সংসদেও বিরোধী দল তাদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সংসদের ভেতর ও বাইরে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। এসব কর্মসূচিতে বিএনপি তেমন কোনো সমস্যা দেখছে না। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন চায় সংসদে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে। আর জামায়াত-এনসিপি চায় প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে। এটি নিয়ে একটি রাজনৈতিক সংকট হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করলে দেশে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তারা বলছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করেই বিএনপি জুলাই সনদের সংলাপে বসেছিল। এখন জুলাইয়ের স্পিরিট অস্বীকার করে সবকিছু করতে গেলে তা হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। ফলে বিরোধী দলের সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন বিষয়টির সমঝোতা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে করতে হবে বিএনপিকে। এ জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করতে পারে বিএনপি। জুলাই স্পিরিট ও দলের নির্বাচনি ইশতেহার–দুটি এক করে বিএনপিকে সমাধানে যাওয়ার পরামর্শ দেন কেউ কেউ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপিকে জুলাই সনদ ও গণভোট মেনে নিতে হবে। কারণ তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার করেছে, জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোকে তাদের মেনে নিতে হবে এবং বাতিল করা থেকে সরে আসতে হবে। গণভোটের অধ্যাদেশ বাতিল করলে দেশে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।’ 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করার পক্ষে। কিন্তু পৃথিবীর কোনো দেশের পার্লামেন্টে এভাবে উচ্চকক্ষ গঠন হয়েছে বলে তার জানা নেই। দেশের জনগণ সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ চায়। সে জন্য তারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। তা না হলে উচ্চকক্ষের দরকার নেই। বিএনপি যদি তাদের ইচ্ছামতো সবকিছু করতে যায়, তাহলে বিপদে পড়তে পারে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপি বলছে, জুলাই সনদে তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি জোর দিয়েছে সংবিধানের ওপর। আর রাজপথের বিজয়ের গণভোটের ওপর জোর দিয়েছে জামায়াতসহ বিরোধী দল। এটি নিয়ে আরও বির্তক চলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুরোপুরি সাংবিধানিকভাবে চলছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংবিধান মেনে চলছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংবিধান মানা হচ্ছে না। মিশ্রভাবে চলছে। ফলে সব দলই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, ‘জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর এত দ্রুত রাজপথে আন্দোলনে যাওয়া সমীচীন হয়নি। এটি কারও জন্য ভালো হয়নি। আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করা উচিত ছিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত দেখা উচিত ছিল। রাজপথেই যদি সবকিছুর সমাধান হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো কিছু হবে না।’ 

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অন্য পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা। ভারত-পাকিস্তান, চীন এবং বৃহত্তর পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নিযুক্ত ঢাকার কূটনীতিকদের তৎপরতা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কীভাবে ভারসাম্য রাখবে, সেটি বিএনপির সামনে এখন আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। যদিও বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছে, পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক দক্ষতা ও পেশাদারত্ব এখানে বড় বিষয়। সবাইকে বোঝাতে হবে সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে সবারই লাভ। তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক, তোমার বন্ধু আমার বন্ধু, তোমার শত্রু আমার শত্রু। সব দেশের সঙ্গে আমরা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করি। তবে অন্য দেশের ক্ষতির করার জন্য বাংলাদেশকে তৃতীয় কোনো পক্ষকে ব্যবহার করতে দেব না। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হলে জ্বালানিসংকট আরও বাড়তে পারে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির গুঞ্জন রয়েছে বিভিন্ন মহলে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব পড়বে শিল্প খাতসহ সব সেক্টরে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। কলকারখানা বন্ধ হলে রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে এবং বেকারত্ব বাড়তে পারে, যা জনমনে ক্ষোভ তৈরি করবে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন বিএনপির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু খবরের কাগজকে বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা দেখা দিলেও সরকার তা মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে চিন্তা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে দেশের পরিস্থিতি সামনে আরও খারাপ হতে পারে। জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ উৎপাদন খাতে প্রভাব পড়বে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে। জনগণ যেটি চায়, তার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার করলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সব দলকে নিয়ে কাজ করতে হবে।’ 

১৭ বছর পর সরকার গঠনের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের দখল, চাঁদাবাজিমুক্ত রাখাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাও বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রশাসনের কোথাও কোনো কিছু যেন ঠিকঠাকমতো কাজ করছে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বিএনপি সরকারকে। প্রয়োজনে সমাধানের জন্য সব পক্ষের কথা শোনা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসার পরামর্শ দেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।

এ ব্যাপারে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর নেতা-কর্মীদের দখল চাঁদাবাজি থেকে দূর রাখাই বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে মব ভায়োলেন্স বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে মব ভায়োলেন্স থাকলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করবেন না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। জনগণ আশা করছে, বিএনপি যেহেতু আগে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তাই তাদের সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।’ 

জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমন করা যাবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নারীরা ঘরের বাইরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সরকারকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিকল্প নেই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

রিফাত/

ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বিদ্যুৎ অফিস-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড হওয়ার পর শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভিডিওতে দলীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় তাদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাসান তূর্ণের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

ফয়সল/রিফাত/

বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার
ছবি: খবরের কাগজ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট একটি উচ্চ বিলাসী ও বিদেশি ঋণনির্ভর ও দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তন আর লুটপাটের বাজেট, যা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় বাজেট ঘোষণার পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বিকল্প ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করেছিল। সেখানে রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, কর কাঠামোর সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রস্তাব বিবেচনায় না নিয়ে বিদেশি ঋণনির্ভর একটি উচ্চ ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া এ বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না’। একই সঙ্গে তিনি আগামী ৩০ জুন বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বড় আকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। 

তার মতে, জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেট অধিক জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী ছিল। বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, দেশের অন্যান্য ব্যাংকেও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অস্থিরতা বিদ্যমান। ইসলামী ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান নয়। ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামীর ব্যাংক নয়।  এটি দেশের সাধারণ মানুষের ব্যাংক। বাংলাদেশের মানুষের ব্যাংক। বিএনপি মনে করেছে আওয়ামী লীগ যে ভাবে ব্যাংকটি লুটেপুটে খেয়েছে, তারাও সেভাবে লুটে পুটে খাবে। এটা কখনো বাংলাদেশের মানুষ হতে দিবে না। এই ব্যাংকের অবস্থা অবনতি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সাথে মিশে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে যারাই ক্ষমতা গ্রহণ করবে তারাই শেখ হাসিনা হয়ে জন্ম হবে। এখনো সময় আছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।  জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা হলে জাতির সাথে প্রতারণা করা হবে। অতীতেও কোন প্রতারণা এই বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেয় নাই এখনো মেনে নিবে না। মেনে না নিলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’

ভোলা জেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোলা জেলা নিয়ে মাননীয় স্পিকার যে ভূমিকা রাখছেন তা অবশ্য প্রশংসনীয়। তবে ভোলা সদর আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন। ভোলার মানুষকে নিয়ে ভাবছেন না। তিনি জামায়াতে ইসলামীর  বিরুদ্ধে খুব ভালো বলতে পারেন। এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলায় নিজস্ব গ্যাস দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি তৈরি, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ভোলা-বরিশাল সেতু, নদী ভাঙন রোধ প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ কোনো কথা বলছেন না। আমি ভোলার মানুষের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ভোলা জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাওলানা হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায়, সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াযযেম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজি।

সম্মেলনে জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া পরিচালক অধ্যাপক আমির হোসেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্বাস উদ্দিন, সুরা সদস্য উৎপাধ্যক্ষ এ এইচ এম ওয়ালীউল্লাহ-সহ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমতিয়াজুর রহমান/অমিয়/

রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন  আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) ভোরে রাজবাড়ী শহরতলীর শ্রীপুর বাস টার্মিনালসংলগ্ন মহাসড়কে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে বাস টার্মিনালের সামনে মহাসড়কে কয়েকজন কর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। স্বল্প সময়ের জন্য মিছিলটি সড়কে অবস্থান করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেখা যায়। ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা টিপুর ছবিও ছিল।

এ-সংক্রান্ত প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি আসলেই রাজবাড়ী শহরতলীর শ্রীপুর এলাকার কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

সুমন/রিফাত/

সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির
ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণ, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা আখ্যায়িত করে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। জার্মানির বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে, তারেক রহমান বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের অকৃত্রিম দেশবন্ধু।

শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে সরকারের প্রথম বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।

অন্তরা/