দেশের জ্বালানি ও গ্যাস পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।
এটিকে তিনি এই মুহূতের্ দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকারের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন, দেশে কোনো জ্বালানিসংকট নেই; বরং পাচার ও অপচয় রোধেই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে একই দিন সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় জ্বালানিসংকট নিয়ে আলোচনার জন্য মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সংকটজ্বালানি ও গ্যাস।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। একদিকে সংসদে সংকট নেই বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তেলের জন্য ভোগান্তিতে পড়ছে। সংসদ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হয়, তাই জনগণের দুর্ভোগের বিষয়গুলো এখানে আলোচনা হওয়া জরুরি।’
জ্বালানিসংকটের কারণে বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংকট না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প ব্যবস্থায় চলতে বাধ্য হতো না।’
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সংসদে সময় বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তিনি দাবি করেন, সরকার সহনীয় পর্যায়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছে মূলত পাচার ও অপচয় রোধ এবং খাতে শৃঙ্খলা আনতে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানির দাম কম থাকলে অপচয় ও পাচারের প্রবণতা বাড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরিসংখ্যান দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছে এবং সংসদ মুলতবি করে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে তিনি ৬৮ বিধিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রস্তাব দেন, যাতে বিষয়টি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সম্ভব হয়।’
এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
এলিস/রিফাত/