মানবসভ্যতার ইতিহাস প্রকৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। প্রকৃতি মানুষকে দিয়েছে জীবন, খাদ্য, পানি, বাতাস, আলো ও সৌন্দর্য। কিন্তু এই প্রকৃতি মাঝে-মাঝে ভয়াল রূপ নেয়। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, খরা কিংবা মহামারি- যা মানুষের জীবন, সম্পদ ও সভ্যতাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এসব দুর্যোগ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব না হলেও, পরিকল্পিত প্রস্তুতি, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সচেতনতা মানুষের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমাতে পারে। এ প্রক্রিয়াকেই বলা হয় দুর্যোগ প্রশমন, অর্থাৎ দুর্যোগের ক্ষতি আগেভাগেই কমিয়ে আনা। এ বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে ঘোষণা করে যে, প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হবে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। এর উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, মানুষকে সচেতন করা এবং একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা। প্রকৃতির রুদ্ররূপ ঠেকানো মানুষের সাধ্যের বাইরে। সচেতনতা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা এর ক্ষতি অনেক কমাতে পারি। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় দুর্যোগের ভয় নয়, প্রস্তুতিই আমাদের শক্তি।
প্রকৃতির প্রতি অবহেলা, বনভূমি ধ্বংস ও নির্বিচারে পরিবেশ শোষণ একদিন মানবজাতির অস্তিত্বকেই বিপন্ন করবে। তাই এখনই সময় পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আগাম সতর্কব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে একটি দুর্যোগ-সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী।
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]