আজকাল কেবল জীবিকার তাগিদে সাংবাদিকরা স্বধর্মচ্যুত হচ্ছেন, এমনটি নয়। ক্ষমতার সঙ্গে সখ্যপ্রিয়তা সাংবাদিকদের স্বধর্মচ্যুত করছে! কতিপয় সাংবাদিক এখন ক্ষমতা ও এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের সম্পর্ক গড়ে তুলতে বেশ তৎপর! সাংবাদিকতা হলো নির্মোহ বিশ্লেষণ, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ উপস্থাপনা। সাংবাদিকতা পেশার অভিমুখীনতা হলো কোনো বিষয় অনুপুঙ্খভাবে দেখা, সত্য যাচাই এবং সত্যকে কল্পকাহিনি থেকে আলাদা ও নির্মোহভাবে উপস্থাপন করা। সংবাদমাধ্যমের কাজ বিশ্লেষণাত্মক, যুক্তিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সহনশীল সমাজ বিনির্মাণে সহায়তা করা। তবে অনেকের কাছে সাংবাদিকতা এখন বিত্তবৈভব আর ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল মাত্র! সাংবাদিকরা ক্ষমতার কাছাকাছি যেতেই চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছেন, পথ হারিয়ে ফেলছেন! মূলত, এটি হলো আচারসর্বস্ব বা আনুষ্ঠানিক সাংবাদিকতা। একে দৃষ্টি-আকর্ষণী সাংবাদিকতাও বলা যেতে পারে, কেননা প্রশ্ন করার চেয়ে এখানে দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টাই থাকে প্রবল! ক্ষমতার সঙ্গে অভিযোজনের এ প্রবণতার পেছনে থাকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা গোষ্ঠীর স্বার্থ।
সাংবাদিকতার নীতি ও মান ধরে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ। কোনো দেশের সাংবাদিকতা কতটুকু উৎকর্ষ অর্জন করল তার অন্যতম মাপকাঠি হলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চালচিত্র। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়নি। ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চর্চা যেখানে সীমিত, সেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো অলীক কিংবা অধরা কিছু নয়।
সাংবাদিকতা পেশা মানুষকেন্দ্রিক। যতদিন মানুষ আছে, ততদিন এই পেশার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নৈতিক দায়িত্ব হলো, পেশাটি পরিচ্ছন্ন ও পরিশীলিত রাখা। স্বকীয় ধারায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকরা ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে লেজুড়বৃত্তি এড়িয়ে চলবেন, এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম
[email protected]