যেকোনো ধর্মের তীর্থ স্থানে আগতদের পরিচয় একটাই হওয়া বাঞ্ছনীয়, দর্শনার্থী, ভক্ত! সব ধরনের ধর্মীয় স্থানে সব দর্শনার্থী, ভক্তের মর্যাদা এবং গুরুত্ব সমান হওয়া যুক্তিসঙ্গত। অথচ কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, তীর্থ স্থানে কেউকেটা ধরনের কারও আগমন ঘটলেই একেবারে হুলস্থুল কাণ্ড। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সীমাহীন আদিখ্যেতা একেবারে উপচে পড়ে। তাদের প্রবেশ- প্রস্থানের পৃথক সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা, গরুর মাংসের বিরিয়ানি বা কাচ্চি বিরিয়ানির সঙ্গে মিষ্টির বিশেষ প্যাকেট। লোক দেখে দেখে কাউকে কাউকে কয়েক প্যাকেট করে ধরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অবশেষে এক পিস জিলাপিও তাদের ভাগ্যে জোটে না। বলতে বাধ্য হচ্ছি, তথাকথিত হোমরা-চোমরাদের দল এসব সুযোগ-সুবিধা বেশ উৎসাহভরে উপভোগ করে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমন হবে? যেকোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানেও এমন আদিখ্যেতার ঢেউ উপচে পড়ে, সবাই নিমন্ত্রিত, অথচ প্রশাসনিক পদাধিকারী কিংবা সেলিব্রেটি কেউ এলেই তৈলমর্দনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এমন মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার, কেউকেটাদের মানসিকতার পরিবর্তন আদৌ হবে বলে মনে হয় না, কারণ তারা এটাই প্রত্যাশা করে। তবে কবরস্থানে কিন্তু তৈলমর্দনের জন্য কেউ থাকবে না, সেখানে সবার একটাই পরিচয় ডেডবডি, মরা, লাশ! লাইন অনুযায়ী জানাজা হবে, লাইন অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হবে। তাই নয় কি?
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা
[email protected]