মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে ঈদ হলো আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে আনন্দময় করতে নতুন পোশাক কেনা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান সময়ে নতুন পোশাক কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অন্য রকম অসুস্থ প্রতিযোগিতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক পরিবার সামাজিক মর্যাদা রক্ষার নামে সাধ্যের বাইরে গিয়ে পোশাক কিনতে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন শপিংমল ও ব্র্যান্ডের প্রচার-প্রচারণা এ প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন পোশাক প্রদর্শনের প্রবণতা এ প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলছে। সে সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংখ্যক জামা কাপড় থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস কেনার ব্যাপারটা স্বাভাবিক প্রচলনে পরিণত হয়েছে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে রমরমা ব্যবসা। ফলে প্রতিনিয়ত সংবাদপত্রে দেখা যায় ভয়াবহ দৃশ্য। প্রচলিত অনেক ব্র্যান্ডের পণ্যের গুণগত মানের তুলনায় অতিরিক্ত দামের বিষয়টা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের পণ্যের দাম দোকানভেদে অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন হয়। দিনের পর দিন যা বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমেও নির্মূল করা অসম্ভব হয়ে পড়তেছে। এতে করে কিছু ব্যবসায়ীর আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতার আরেকটা ভয়াবহ দিক সব সময় আলোচনার আড়ালে রয়ে যায়। তা হলো- উচ্চশ্রেণির মানুষজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক ও অন্যান্য জিনিস কিনলেও হয়তোবা তার পাশের একজন দরিদ্র প্রতিবেশী এসবের কিছুই কিনতে পারে না। এর ফলে শ্রেণিবৈষম্য প্রকট হচ্ছে। মানুষ তার মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে ফেলছে। এ ছাড়া অনেক পথ শিশু আছে যারা এ ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যা তাকে হতাশাগ্রস্ত করে। এ সামগ্রিক ঘটনা ঈদের প্রকৃত মূল্যবোধের পরিপন্থি।
আবিদ হাসান
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]