জাহান্নাম হলো শাস্তির জায়গা আর জান্নাত হলো শান্তির স্থান। মানুষ তার কৃতকর্মের ফলাফল হিসেবে জান্নাত-জাহান্নামে যাবে—এমনটাই ইসলামের বিধান। তবে আল্লাহতায়ালার রহমতে কিছু মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য জাহান্নামে যাবে ঠিকই কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় শাস্তি পাওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমিত পাবে। কারা তারা? আসুন বিষয়টি আমরা হাদিসের বর্ণনার আলোকে জেনে নেই—
প্রবৃত্তির তাড়নায় কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় যে সকল মুসলিম পাপ-গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তারা নির্দিষ্ট মেয়াদে শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যারা জাহান্নামের স্থায়ী বাসিন্দা, তারা সেখানে মরবেও না, বাঁচবেও না; বরং জীবস্মৃত হয়ে থাকবে। তবে যে সকল মুমিন নির্দিষ্ট গুনাহের কারণে আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়েছিল, তাদের আল্লাহতায়ালা আপেক্ষিক মৃত্যু প্রদান করবেন। একপর্যায়ে যখন তারা কয়লায় পরিণত হবে, তখন আল্লাহতায়ালা তাদের ব্যাপারে সুপারিশের অনুমতি দেবেন। তখন তাদেরকে দলে দলে সমবেত করা হবে। জান্নাতের প্রস্রবণে মেলে ধরা হবে। অতঃপর বলা হবে, তোমরা তাদের ওপর পানি ঢেলে দাও। তখন তারা পলিমাটিতে বীজ থেকে জন্ম নেওয়া সজীব চারা গাছের মতো নতুন জীবন লাভ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৮৫)
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আগুনে জ্বলে সম্পূর্ণরূপে ভস্ম হওয়ার পর কিছু মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তাদের চেহারার কাঠামো শুধু বাকি থাকবে। একপর্যায়ে তারাও জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৯১)
এছাড়া একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহতায়ালা এমন ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের করবেন, যার হৃদয়ে এক দিনার, অর্ধ দিনার কিংবা অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি এমন লোকদেরও একসময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন, যারা জীবনে কখনোই কোনো ভালো কাজ করেনি।
আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ জান্নাতবাসীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—যাকে ইচ্ছা, তাকেই শুধু আপন অনুগ্রহে প্রবেশ করাবেন। তিনি জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। এরপর (ফেরেশতাদের) বলবেন, খেয়াল রেখো, যার হৃদয়ে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান পাবে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৮৪)
লেখক : আলেম ও গবেষক