ঢাকা ২ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিল নবাগত কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ অভিষেকে রেকর্ড গড়ল কেপ ভার্দে দুই ছেলের নামে ২ ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে যা জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী প্রথমার্ধে স্পেনকে আটকে দিল কেপ ভার্দে চট্টগ্রামে মেরিন সার্ভেয়ারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মতলবে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে শুরুতেই বড় হার, ম্যাচ শেষ হতেই কোচ বরখাস্ত নবজাতকের মরদেহ টানাটানি করছিল কুকুর, উদ্ধার করল পুলিশ গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হুইলচেয়ারে মাঠ ছাড়লেন কুবো, জাপান শিবিরে উদ্বেগ মৌলভীবাজারে তিন মাসের ভোগান্তির পর চিকিৎসাসেবা পেল চা-বাগানবাসী শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামেও বসবে এআই ক্যামেরা: চসিক মেয়র স্পেনের একাদশে নেই ইয়ামাল ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত জন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি’ রাজশাহীকে বাসযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত শহর গড়ার প্রত্যয় আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনই হোক অর্থনৈতিক রূপান্তরের শক্তি শ্রমিকদের ‘চাকরি’ স্থায়ী করুন রাজনীতিকে সরল সমীকরণে দেখা যায় না ইস্তিগফারের এমন ক্ষমতা জানলে আপনি অবাক হবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় শ্রমিক দল নেতা নিহত জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পর্তুগালের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোর আইসিইউতে সোনালী লাইফের ‘M.G.Q Leaders Club Awards Program 2024-2025’ অনুষ্ঠিত বাউয়েটের ২৩তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত পুশইন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে একমত উভয় পক্ষ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুলড্রেস দেওয়া হবে জুলাই মাসে: শিক্ষামন্ত্রী
Nagad desktop

মুসলিম দেশ ও ব্যক্তিত্বদের অজানা ইতিহাস জানার বই ‌‘দেশ দেশান্তর’

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৩ এএম
মুসলিম দেশ ও ব্যক্তিত্বদের অজানা ইতিহাস জানার বই ‌‘দেশ দেশান্তর’
দেশ দেশান্তর বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

আল্লাহর সৃষ্টি এই জগৎ কল্পনাতীত বিশাল। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ, দিক-দিগান্তজুড়ে কত দেশ, নগর, সভ্যতা ও কত রঙ-বেরঙের মানুষ আছে—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভ্রমণ মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। জ্ঞানের দুয়ার খোলে। ভ্রমণের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষার ভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। ভ্রমণ মানুষের মন উদার করে, চোখ খুলে দেয়। চেনা জগতের ছোট পরিসর থেকে নিয়ে যায় বিশাল ময়দানে। ইসলামে ভ্রমণের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনে তেরো বারের বেশি ভ্রমণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ না করলে মানুষ আল্লাহর সুন্দর সৃষ্টি, তাঁর নিদর্শন, ভাষা ও মানুষের বৈচিত্র্য জানতে পারবে না। কিন্তু অনেকে নানাবিধ কারণে ভ্রমণ করতে পারে না। কিন্তু তাদেরও তো এসব জানার প্রয়োজন। তাদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও উপযোগী বই হলো কিংবদন্তি আলেম শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানির দেশ দেশান্তর

শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে নিরন্তর দেশ-দেশান্তে ভ্রমণ-পরিভ্রমণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসব ভ্রমণে তার অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তিনি সযত্নে লিখে রাখেন। তার লিখিত এ রচনাসম্ভারের প্রথম সংকলনটি প্রকাশিত হয় জাহানে দিদা নামে। এর পর তিনি দুনিয়া মেরে আগেসফর দর সফর নামে আরও দুটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এ তিনটি গ্রন্থে তিনি পৃথিবীর নানা স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জীবনকথা তুলে ধরেছেন। তাঁর এ সফরনামা বাংলা ভাষায় চারটি কলেবরে প্রকাশিত হয়েছে। 

এ ভ্রমণকাহিনি সম্পর্কে তকি উসমানি বলেন, ‘আমার ভ্রমণকাহিনিতে ভ্রমণবৃত্তান্ত কম ছিল এবং ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিষয়ে আলোচনাই ছিল বেশি। এই গ্রন্থে আমার এ পর্যন্ত লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকাহিনিগুলো সন্নিবেশিত হলো। ভ্রমণকাহিনিগুলো সফরের ধারাক্রমে বিন্যস্ত হয়নি; বরং আগে ইসলামি বিশ্বের এবং পরে অমুসলিম দেশগুলোর ভ্রমণকাহিনি পরিবেশিত হয়েছে।’

প্রথম খণ্ডে দজলা-ফোরাতের তীরে, মিসর ও আলজেরিয়ায় কয়েক দিন, সুলতান সালাহুদ্দিনের কেল্লা, উহুদ থেকে কাসিয়ুন, রোম স্টেডিয়াম, আসহাবে কাহাফের গুহা এবং দামেস্ক নগরীর বিবরণ রয়েছে। 

দ্বিতীয় খণ্ডে তুর্কিস্তান ভ্রমণ, দ্বীপের দেশে, বাংলাদেশে কয়েক দিন, কাতার সিরাত সম্মেলন, চীন ভ্রমণ, আমেরিকা ও ইউরোপ, ভারত সফর, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি সফর ও পাশ্চাত্য জগতে তিন সপ্তাহের আলোচনা রয়েছে। 

তৃতীয় খণ্ডে স্পেনে কয়েক দিন, ব্রুনাই সফর, তুরস্কে কয়েক দিন, পাশ্চাত্যে দুই সপ্তাহ, রিইউনিয়ন দ্বীপে, দক্ষিণ আফ্রিকায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিম, সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহের শহরে, বিশ্ব-পরিভ্রমণ, অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক দিন, মালয়েশিয়ায় কয়েক দিন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ, এক সপ্তাহ : আয়ারল্যান্ড ও অক্সফোর্ডে, ইয়েমেনের সানআ নগরীতে, মধ্যরাতের সূর্য এবং জার্মানি ও ইতালিতে ভ্রমণ বিষয়ে বর্ণনা আছে।

চতুর্থ খণ্ডে সূর্যোদয়ের দেশ ফিজিতে একটি ভ্রমণ, ইরানে এক সপ্তাহ, নিউজিল্যান্ডে একটি ভ্রমণ, দ্বিতীয়বার সিরিয়ায় ভ্রমণ, কিরগিজিস্তান ভ্রমণ, আলবেনিয়ায় কয়েক দিন, রাশিয়ায় নয় দিন, জাপানে দশ দিন, ল্যাটিন আমেরিকায় ভ্রমণ, তাজিকিস্তান ভ্রমণ, ভারত ভ্রমণ এবং জর্দান ভ্রমণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। 

বইটির প্রথম খণ্ডের অনুবাদ করেছেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের অনুবাদ করেছেন আবদুস সাত্তার আইনী এবং চতুর্থ খণ্ডের অনুবাদ করেছেন কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক। হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল ইসলাম। ৪ খণ্ডের এ বইয়ে মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪১৬। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি মাকতাবাতুল ইসলাম থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে

বই: দেশ দেশান্তর
লেখক: শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানি
অনুবাদক: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আবদুস সাত্তার আইনী ও কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইসলাম 
পৃষ্ঠা: ৩৬০ (১ খণ্ড), ৩২৮ (২ খণ্ড), ৩৮৪ (৩য় খণ্ড), ৩৪৪ (৪র্থ খণ্ড) 
মুদ্রিত মূল্য: ২৬৯০ টাকা (৪ খণ্ড) 
মোবাইল: ০১৯১১৬২০৪৪৭

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

ইস্তিগফারের এমন ক্ষমতা জানলে আপনি অবাক হবেন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ইস্তিগফারের এমন ক্ষমতা জানলে আপনি অবাক হবেন
ছবি: সংগৃহীত

তওবা ও ইস্তিগফারে জীবনের অন্ধকার ঘরে আলোর দ্যুতি নেমে আনে। যখন একজন মানুষ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে শুধু পাপ মুছে ফেলে না, বরং আল্লাহর রহমতের দরজা খুলে দেয়। ফলে জীবনে বারাকাহ নেমে আসে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আর তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগবাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা।’ (সুরা নুহ, ১০-১২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরবে মানে যত্নের সঙ্গে, আল্লাহ তাকে প্রত্যেক সংকীর্ণতায় প্রশস্ততা দান করবেন এবং প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করে দেবেন। আর তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন, যার ব্যাপারে তার কোনো কল্পনাও ছিল না। (আবু দাউদ, ১৫১৮; মুসনাদ আহমদ, ২২৩৩৮)

একবার ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল (রহ.) সফররত অবস্থায় এক রাত কোথাও কাটানোর জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজছিলেন। তিনি এক মসজিদে গেলেন, কিন্তু মসজিদের পাহারাদার তাকে চিনতে পারলেন না এবং মসজিদে ঢুকতে দিলেন না। ইমাম অনেকবার বিনীতভাবে অনুরোধ করলেন, তবুও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি রাত কাটানোর জন্য মসজিদের বারান্দায় বসার সিদ্ধান্ত নিলেন।

এই দৃশ্য কাছাকাছি থাকা এক রুটি প্রস্তুতকারক দেখলেন। তিনি ইমামকে নিজের বাসায় আমন্ত্রণ জানালেন। ইমাম সেখানে আসার পর দেখলেন, লোকটি ক্রমাগত ইস্তিগফার করছে এবং তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। 

ইমাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি প্রতিনিয়ত এভাবে ইস্তিগফার করেন? 

লোকটি বলল, জি চেষ্টা করি।

ইমাম জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আপনার ইস্তিগফারের কোনো ফল পেয়েছেন?

লোকটি উত্তর দিল, আল্লাহর কসম! আমি যা দোয়া করেছি, একটি দোয়া ছাড়া আল্লাহ সব দোয়া কবুল করেছেন। 

ইমাম আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, মাত্র একটি দোয়া? লোকটি বলল, জি একটি দোয়া আমার এখনো কবুল হয়নি। 

ইমাম বললেন, কোন দোয়াটি কবুল হয়নি এখনো? 

লোকটি বলল, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, জীবদ্দশায় ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বালের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করতে চাই। আমার এ দোয়া এখনো আল্লাহ কবুল করেননি। 

ইমাম আশ্চর্য হয়ে বললেন, প্রিয় ভাই আমার! আপনার সামনে যে অধম বান্দা বসে আছে, তিনিই আহমদ ইবনে হাম্বাল! আল্লাহ আপনাকে আমার সঙ্গে মেলানোর ব্যবস্থা করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। সুবহানাল্লাহ, এটাই ইস্তিগফারের বরকত।

লেখক: আলেম  

যে আশ্বাস শুনলে সব ভয় দূর হয়ে যাবে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে আশ্বাস শুনলে সব ভয় দূর হয়ে যাবে
ছবি: সংগৃহীত

আকাশচুম্বী পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য স্রষ্টার সবচেয়ে বড় এবং পরম আশ্বাসের বাণীটি আসলে কী?
মানুষ মাত্রই ভুলের আবর্তে বন্দি। অনুশোচনা আর হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষের বুকে আশার আলো জ্বালাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শুনিয়েছেন এক অনন্য হাদিসে কুদসি। যেখানে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে পরম মমতায় সম্বোধন করে এক চিরন্তন ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহর ক্ষমার এই মহিমান্বিত রূপটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত:

প্রথমত, আল্লাহ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন যে, অতীতে সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, যখনই সে মন থেকে আল্লাহকে ডাকবে এবং আন্তরিকভাবে তাঁর দয়া ও ক্ষমার আশা রাখবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। বান্দার অতীতের মন্দ আমল বা তার সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল, মহান আল্লাহ তার কোনো পরোয়া করেন না।

দ্বিতীয়ত, মানুষের পাপের পরিমাণ যদি কল্পনাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মহাকাশের মেঘমালা বা আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে যায়, আর সেই চূড়ায় দাঁড়িয়েও যদি বান্দা অহংকার ভেঙে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তার সমস্ত পাপ মোচন করে দেন। আল্লাহর অসীম দয়ার সাগরে মানুষের পর্বতসম পাপও এক নিমেষে মিলিয়ে যায়।

তৃতীয়ত, এই ক্ষমার সবচেয়ে বড় শর্ত ও চমকপ্রদ দিকটি হলো, তাওহিদ বা একত্ববাদ। একজন মানুষ যদি পৃথিবীভর্তি পাপের বোঝা নিয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হয়, কিন্তু জীবনে কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক (শিরক) না করে থাকে, তবে আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুত ন্যায়বিচার ও দয়ার খাতিরে ঠিক সমপরিমাণ, অর্থাৎ পৃথিবীভর্তি ক্ষমা নিয়ে বান্দার দিকে এগিয়ে আসেন।

এই হাদিস আমাদের কেবল ক্ষমার আশাই দেখায় না, বরং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে, পাপের কারণে কখনো আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হতে নেই। তবে এই ক্ষমার চাবিকাঠি হলো ‘শিরকমুক্ত জীবন’। অর্থাৎ, সব অপরাধের ক্ষমা মিলতে পারে, যদি অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস অবিচল থাকে।

লেখক: আলেম ও সা

কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন?

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
কিয়ামতের আদালতে সবচেয়ে ভয়ংকর সাক্ষী কে জানেন?
ছবি: সংগৃহীত

সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা সাইবার নজরদারি এড়াতে আজকের দুনিয়ায় কত কৌশলী পথই না খোঁজে মানুষ! নামি আইনজীবীর চাতুর্য আর আইনের ফাঁক গলে অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনাও অহরহ। কিন্তু এমন এক মহাজাগতিক আদালতের মুখোমুখি আমাদের হতেই হবে, যেখানে কোনো জাগতিক প্রভাব, তদবির বা আইনজীবীর সওয়াল-জবাব খাটবে না। যেখানে বিচারক স্বয়ং মহাবিশ্বের একমাত্র অধিপতি।

আজকের সভ্যতায় মানুষ নিজের প্রাইভেসি নিয়ে তুমুল সচেতন। অথচ শেষ বিচারের দিন মুমিন বান্দার গোপনীয়তার এক অনন্য ও অলৌকিক নজির দেখা যাবে। হযরত ইবনু ওমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, হাশরের মাঠে আল্লাহতায়ালা তাঁর মুমিন বান্দাকে নিজের কাছাকাছি এনে কুদরতি চাদরে ঢেকে নেবেন, যাতে অন্য কেউ তার পাপের কথা জানতে না পারে। একান্তে গুনাহের স্বীকারোক্তি শেষে যখন বান্দা নিজেকে ধ্বংসোন্মুখ ভাববে, তখন পরম করুণাময় বলবেন, দুনিয়াতে আমি তোমার অপরাধ ঢেকে রেখেছিলাম, আজ তা মাফ করে দিলাম। (মিশকাত, ৫৫৫১)। বিপরীতভাবে, অহংকারী ও মোনাফিকদের অপরাধ পুরো সৃষ্টির সামনে উন্মোচন করে দেওয়া হবে।

কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ ছাড়া কেবল নিজের বাকপটুতা দিয়ে পার পাওয়ার শেষ চেষ্টা মানুষ করবে হাশরের মাঠেও। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এক বান্দা আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করবে, নিজের অঙ্গ বা আপনজন ছাড়া সে বাইরের কারও সাক্ষ্য মানবে না। আল্লাহ তার এই দাবি মেনে নিয়ে তৎক্ষণাৎ তার মুখের ওপর মোহর বা সিল মেরে দেবেন। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলা সেই মানুষের হাত, পা, চোখ আর ত্বক তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সমস্ত গোপন অপরাধের সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করবে। মুখের মোহর খোলার পর নিজের দেহের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতায় স্তম্ভিত হয়ে মানুষটি আক্ষেপ করে বলবে, তোদের ধ্বংস হোক! তোদের বাঁচানোর জন্যই তো আমি এতক্ষণ বিতর্ক করছিলাম! (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৫৪)।

এই কঠিন আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আগে যাপিত জীবনকে পাপাচারমুক্ত রাখার এক চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক দাওয়াই দিয়ে গেছেন সাহাবি জারির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.)। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তিনটি বিষয়ে বিশেষ শপথ নিয়েছিলেন, নামাজ আদায় করা, জাকাত দেওয়া এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ কামনা করা (বুখারি, ৫৭; মুসলিম ৫৬)।

অন্যের পেছনে লাগা, ক্ষতি করা এবং গোপন ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোর এই যুগে পরকালের মুক্তি লুকিয়ে আছে অন্যের দোষ আড়াল করার মধ্যে। আজ আমরা আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যেভাবে ব্যবহার করছি, শেষ বিচারের দিন ঠিক সেভাবেই তারা আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে জবানবন্দি দেবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে চুলের সিঁথি কাটতেন
তিনি কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না। ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশন বা স্টাইল নয়, আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল আঁচড়ানো ও সিঁথি কাটার পেছনেও ছিল এক চমৎকার আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক তাঁর চুলের সুন্নাহর এক অনন্য অধ্যায়। বিশ্বনবির কেশবিন্যাসের সেই অজানা ইতিহাস জানলে আপনি মুগ্ধ হবেন।

ইসলাম শুধু মানুষের ভেতরটা পরিবর্তনের কথা বলে না, বরং বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যেরও নিখুঁত পাঠ দেয়। প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অবয়ব, পোশাক এবং কেশবিন্যাসের প্রতিটি দিক ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। তাঁর চুল রাখার এবং সিঁথি কাটার অভ্যাসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এক সুন্দর ঐতিহাসিক বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

ইসলামের প্রথম যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পবিত্র মাথার চুল সামনের দিকে কপালে ও ঘাড়ের দিকে সোজা ঝুলিয়ে রাখতেন, কোনো সিঁথি করতেন না। সে সময় মক্কার মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করত, আর ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা (আহলে কিতাব) চুল ঝুলিয়ে রাখত। যেহেতু মুশরিকদের চেয়ে তাওহিদে বিশ্বাসী আহলে কিতাবদের প্রতি নবিজির (সা.) এক ধরনের পছন্দ ছিল, তাই যে বিষয়ে সরাসরি কোনো ওহি বা ঐশী নির্দেশনা আসত না, সে বিষয়ে তিনি আহলে কিতাবদের অনুকরণ করা পছন্দ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশ নিম্নদেশে ঝুলিয়ে রাখতেন (অর্থাৎ প্রথম দিকে তিনি সিঁথি করতেন না)। আর মুশরিকরা তাদের মাথায় সিঁথি করত। পক্ষান্তরে আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল ঝুলিয়ে রাখত। প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ব্যাপারে প্রত্যাদেশ না পেতেন, সেসব ব্যাপারে আহলে কিতাবদের অনুসরণ পছন্দ করতেন। এর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কেশকে সিঁথি করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৫৫৮; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নম্বর: ৫২৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৬০৫)

নবিজির (সা.) এই অভ্যাসে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন আসে। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশনা বা ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি চুল ঝুলিয়ে রাখা ছেড়ে দেন এবং মাথার মাঝখান থেকে সুন্দর করে সিঁথি করা শুরু করেন। জীবনের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি এই নিয়মই বজায় রেখেছিলেন। সাধারণত আমরা মনে করি বেণি করা কেবল নারীদের সৌন্দর্য। কিন্তু আরব সংস্কৃতি এবং সফরের সুবিধার্থে পুরুষদের দীর্ঘ চুল থাকলে তা গুছিয়ে রাখার চমৎকার এক পদ্ধতি ছিল এটি। মক্কা বিজয়ের সময় যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর চুল মোবারক চার ভাগে চমৎকারভাবে বিন্যস্ত ছিল।

উম্মে হানি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি চুলের চারটি বেণী বাঁধা অবস্থায় দেখেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৭৪৩০; আল-মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ২০৪৮৩)। নবিজির (সা.) অবয়ব সিরিজের এই অংশটি আমাদের শেখায় যে, চুলের যত্ন নেওয়া এবং তা পরিপাটি রাখা সুন্নাহ। তিনি যেমন কখনো চুল অবিন্যস্ত রাখতেন না, তেমনি প্রতিটি আচরণের পেছনে উম্মাহর জন্য রেখে গেছেন সুনির্দিষ্ট আদর্শ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন