পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন জাতি, বর্ণ, প্রাচীন বহু নগরীর আলোচনা করেছেন। এমন সব জনপদের আলোচনা করেছেন, যাদের মতো শক্তিশালী জনপথ পৃথিবী আর দেখেনি। এমন জনপদের আলোচনাও করেছেন, যাদের শাসকরা ছিল জুলুমবাজে সেরা। ইনসাফ ও ন্যায়বিচারে যারা উদাহরণ রেখেছিল, তাদের আলোচনাও কোরআনের বিভিন্ন সুরায় এসেছে। আপনি কি জানেন—এসব জাতির মানুষেরা কোথায় বাস করত? তাদের নগরী, জনপদ এখন কোথায় অবস্থিত? তাদের শহর আর রাজ্যগুলোর কোনো স্মৃতিচিহ্ন কি এখন বিদ্যমান আছে? বা সে জায়গাগুলো এখন কেমন আছে? কোরআনের এসব জাতি, গোষ্ঠী, শহর, এলাকার ভৌগোলিক ইতিহাস জানতে সংগ্রহ করুন সাইয়েদ সুলাইমান নদভির রচিত আল কুরআনের ভৌগোলিক ইতিহাস।
পবিত্র কোরআন ২০টি আরব জাতিগোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেছে, তাদের শহর ও আবাসভূমির কথাও বিবৃত করেছে। এগুলোর প্রত্যেকটির বিশুদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তো জানেই না, অধিকাংশ আলেমও জানে না। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, ১৩শ বছরের মধ্যে এ বিষয়ে একটিও স্বতন্ত্র গ্রন্থ লেখা হয়নি। ফলে একদিকে মুসলিমরা এই ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে গেছে, অন্যদিকে তাদের শত্রুরা এই ইতিহাসকে রূপকথা ও কল্পকাহিনি (কিংবদন্তি) বলে উড়িয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে।
তাফসিরের গ্রন্থাবলিতে তাদের নাম এসেছে সাধারণভাবে, ইতিহাসের গ্রন্থাবলিতেও তাদের নাম বর্ণিত হয়েছে ভূমিকা হিসেবে; কিন্তু এসব জাতিগোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে নিয়ে গবেষণায় ও নিরীক্ষায় বিশেষ প্রচেষ্টা কেউ করেনি। সাইয়েদ সুলাইমান নদভি সেই কাজটি করেছেন।
এ বইয়ে প্রাচীন বর্ণনা ও আধুনিক গবেষণার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কোরআনের ভূমির (আরব ভূ-ভাগ) ইতিহাস এমনভাবে নিরীক্ষণ করা হয়েছে, যাতে পবিত্র কোরআনের বক্তব্যের সত্যতা এবং অভিযোগকারীদের ভ্রান্তি ও স্খলন দ্বিপ্রহরে সূর্যালোকের মতোই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ গ্রন্থ সেসব জাতির বিশুদ্ধ ইতিহাস জানতে এবং ইসলামের শত্রুদের মনগড়া কথার জবাব দেওয়ার উৎকৃষ্ট নথি।
কোরআনকে ভূগোলের চোখে দেখার জন্য এই বইটি অত্যন্ত চমৎকার। প্রকাশের পর থেকেই বইটি নিয়ে আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি., আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি, ওস্তাদ শামস তাবরিজ খান, সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)-সহ বিশ্ববরেণ্য অনেক উলামায়ে কেরাম এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি (রহ.) আরদুল কুরআন-এর প্রতি তাঁর মুগ্ধতা ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি এই গ্রন্থ থেকে তথ্য গ্রহণের পর বলেন, ‘আরদুল কুরআনের লেখক এই ক্ষেত্রে গবেষণার সমাপ্তি সাধন করেছেন...।’ তাঁর রচনাবলিতে এই গ্রন্থ তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।
সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.) বলেন, ‘আরদুল কুরআন একটি অনন্য ও অসাধারণ গ্রন্থ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এ ধরনের গ্রন্থ রচিত হয়নি। আমাদের জ্ঞানভাণ্ডারে গ্রন্থটি অত্যন্ত মূল্যবান ঐশ্বর্য।’
উস্তাদ শামস তাবরিজ খান বলেন, ‘গবেষণায় ও নিরীক্ষণে সাইয়েদ নদভির মনোনীত পদ্ধতির সর্বোচ্চ শিখর হলো তারিখে আরদুল কুরআন। আরবি ও ইংরেজি উৎস, ইসলামি, ইহুদি, রোমান ও গ্রিক গ্রন্থপঞ্জি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যাবলির ব্যবহারের পাশাপাশি কোরআনুল কারিমের আলোকে আরবের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার বিবরণ ও বিশ্লেষণ এ গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য।’
এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে আলোচিত হয়েছে আরদুল কোরআনের ভূগোল এবং আরবের জাতিগোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক এবং বংশগত ও গোত্রগত অবস্থা; পবিত্র কোরআনের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এসব আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামের পূর্বে আরবের জাতিগোষ্ঠীগুলো পৃথিবীতে কী কী কীর্তি সাধন করেছিল; ইয়ামানে, শামে ও ইরাকে তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি কী পরিমাণ বিস্তৃতি লাভ করেছিল—তা এসব আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গ্রন্থটির দ্বিতীয় খণ্ডে আরবের জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, ধর্মাদর্শ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতির রীতিনীতি ইত্যাদির পর্যালোচনা রয়েছে।
২ খণ্ডের ৭০৪ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করছে অর্পণ প্রকাশন। অনুবাদ করেছেন আবদুস সাত্তার আইনী। রকমারি.কম ও ওয়াফিলাইফ.কমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বইটি পাওয়া যাবে। সরাসরি অর্পণ প্রকাশন থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে।
বই : তারিখে আরদুল কুরআন
লেখক : সাইয়েদ সুলাইমান নদভি
অনুবাদক : আবদুস সাত্তার আইনী
প্রকাশক : অর্পণ প্রকাশন
পৃষ্ঠা : ৩৮৪ (১ খণ্ড), ৩২০ (২ খণ্ড)
মুদ্রিত মূল্য: ৯২০ টাকা (২ খণ্ড)
মোবাইল : ০১৯১২৩৯৫৩৫১
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক