তায়াম্মুম হলো পানির বিকল্প হিসেবে মাটি ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন করা। তায়াম্মুমের অনুমোদন দিয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাকো কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে, কিংবা নারীগমন করে থাকো, কিন্তু পরে পানি পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও। মুখ ও হাত মাসেহ করে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৪৩)
কোন কোন পরিস্থিতিতে তায়াম্মুম করা যাবে, এখানে এর বিরবণ তুলে ধরা হলো—
- পানির অবস্থান যদি এক মাইল বা এর চেয়ে বেশি দূরত্বে হয়। (দারাকুতনি, হাদিস: ৭৩১, ৭৩৪)
- পানি ব্যবহারের কারণে যদি নতুন রোগ সৃষ্টি বা বৃদ্ধির সমূহ আশঙ্কা থাকে অথবা প্রাণ বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে। (দারাকুতনি, হাদিস: ৭৩১)
- পানি যদি এত কম থাকে যে তা ব্যবহার করলে নিজে অথবা অন্যরা পিপাসাকাতর হয়ে পড়বে। (বাইহাকি, সুনানে কুবরা, হাদিস: ১১৪৯)
- কূপ বা পুকুর আছে, কিন্তু পানি এত নিচে যে সেখান থেকে তা উঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। (বুখারি, ২/৬১)
- পানি কাছেই আছে, কিন্তু শত্রু অথবা ভয়ংকর কোনো পশু-প্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কায় পানির কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। (বুখারি, ২/৭২)
- অজু করতে গেলে ঈদ বা জানাজার নামাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে। কারণ এসব নামাজের কাজা বা বিকল্প নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ১১৫৮৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৩/৩০০)
আরও পড়ুন : কখন তায়াম্মুম করতে হয়?
তায়াম্মুমের ধারাবাহিক সুন্নতসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। এখানে সেগুলো তুলে ধরা হলো—
- নিয়ত করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ১/২৩২)
- মাটি বা মাটিজাতীয় বস্তু নেওয়া। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ১৭১৬)
- বিসমিল্লাহ পড়া। (জামউল জাওয়ামে, ১/১৫৭৮৭)
- মাটির ওপর হাত রাখার সময় আঙুলগুলো খোলা রাখা এবং মাটির মধ্যে হাত দিয়ে আগে-পিছে নড়াচড়া করা। (দারাকুতনি, হাদিস: ৬৯৭)
- মাটির ওপর হাত মারার পর উভয় হাত ঝেড়ে ফেলা। (মুসলিম, হাদিস : ৫৫৩; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৫৬৩)
- সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ করা। (দারাকুতনি, হাদিস: ৭১২)
- মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করার মাঝে অন্য কাজ না করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭২)
- দুই হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করা। (দারাকুতনি, হাদিস: ৬৯৭)
- হাতের পুরো তালু অথবা বেশির ভাগ দ্বারা মাসেহ করা। যদি কেউ দুই আঙুল দ্বারা মাসেহ করে তা হলে তায়াম্মুম সঠিক হবে না। (দারাকুতনি, হাদিস: ৭১২)
- মাসেহ করার সময় চামড়ার ওপর কোনো প্রতিবন্ধক বন্ধক না থাকা। (বায়হাকি, হাদিস: ৩৬৭)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক