রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুধ পান করতে দেখা স্বপ্নদ্রষ্টার স্বভাবধর্ম বোঝায়। (মুসনাদে বাজজার, হাদিস: ১০০৫৯)
শায়খ আবু সাদ বলেন, স্বপ্নে পুরুষ বা নারীর স্তনে দুধ দেখার দ্বারা সম্পদ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। দুধের প্রবাহ সম্পদের প্রবাহের ইঙ্গিত।
কোনো নারী স্বপ্নে পরিচিত কোনো শিশু বা পুরুষ বা নারীকে দুধ পান করাতে দেখল, অথচ জাগ্রত ও স্বাভাবিক অবস্থায় তার স্তনে কোনো দুধ ছিল না, তা হলে সে পরিচিত কোনো লোকের জন্য ধাত্রীর কাজ করবে। কেননা, অন্য কোনোভাবে দুনিয়া উপার্জনের দরজা তার জন্য বন্ধ থাকবে। কারও মতে, কোনো নারীকে স্তন থেকে দুধ পান করাতে দেখলে, স্বপ্নদ্রষ্টা সম্পদ পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভবান হবে।
সাধারণ ঘোড়ী বা তুর্কী ঘোড়ীর দুধ পান করতে দেখলে বাদশা তাকে ভালোবাসবে এবং বাদশার পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভ করবে। কারও মতে, ঘোড়ীর দুধ পান করতে দেখলে সুনাম বৃদ্ধি পাবে। গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুর দুধ দেখার ব্যাখ্যা হলো, বাদশার পক্ষ থেকে বৈধ সম্পদ পাওয়া।
যদি কেউ দেখে তার ওপর কোনো মানুষের দুধ ঢেলে দেওয়া হয়েছে, তা হলে এটা তার বন্দিদশা ও দুরবস্থার লক্ষণ। নিজ স্তন থেকে দুধ পান করতে বা করাতে দেখলে উভয়ে যদি পরিচিত হয় তা হলে তাদের বন্দিদশা এবং দুরবস্থা আরও কঠিন হবে। কেননা দুই বছর অতিক্রমের পর দুধপানের সময়সীমা ফুরিয়ে যায়।
দুধ দোহন করতে দেখার ব্যাখ্যা হলো, প্রতারণা। উষ্ট্রীর দুধ দোহন করতে দেখা, জমিনে কৃষি কাজ বা পরিশ্রম করার ইঙ্গিত। মোটা-তাজা ও দ্রুতগামী উষ্ট্রীর দুধ দোহন করতে দেখা, অনারব দেশে শরিয়তসম্মত কৃষিকাজের আলামত।
দুধের স্থলে রক্ত বের হয়ে আসতে দেখলে বুঝতে হবে, সে তার রাজত্বে বা অধীনস্থদের ওপর জুলুম করবে। দুধের পরিবর্তে যদি বিষ দোহন করতে দেখলে, সে হারাম সম্পদ জোগাড় করবে। কোনো ব্যবসায়ী দুধ দোহন করতে দেখলে, হালাল রিজিক ও সফলতা অর্জন করবে। যে পরিমাণ দুধ স্তন থেকে প্রবাহিত হতে দেখবে, সেই পরিমাণ দুনিয়া ও সম্পদ পাবে।
আরও পড়ুন: স্বপ্নে টুপি দেখলে কী হয়?
ধাত্রী বা স্তন্যদায়িনীর দুধ বা বেশি দুধের উষ্ট্রীর দুধ দেখার ব্যাখ্যা হলো, স্বভাবধর্ম। ওই দুধ পান কেউ পান করলে বা এক দুই তিন চুমুক পরিমাণ পান করলে বুঝতে হবে, এটা নামাজ, রোজা, জাকাত ইত্যাদির দিক দিয়ে স্বভাবধর্মের লক্ষণ। এটা দুধ পানকারীর জন্য হালাল সম্পদ, ইলম ও প্রজ্ঞার মর্ম বহন করবে।
কারও মতে, যে ব্যক্তি উষ্ট্রীর দুধ দোহন করতে ও পান করতে দেখবে, সে বিয়ে করবে একজন সৎ নারীকে। স্বপ্নদ্রষ্টা ভদ্র হলে তার একটি ছেলেসন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যাতে বরকত পাবে।
গাভীর দুধ স্বপ্নে দেখা, বছরের প্রাচুর্য, বৈধ সম্পদ বা স্বভাবধর্ম অর্জনের লক্ষণ। কারও মতে, স্বপ্নদ্রষ্টা যদি গোলাম হয় তা হলে সে আজাদ হবে, দরিদ্র থাকলে ধনী হবে। বকরি বা ভেড়ার দুধ দোহান করতে দেখার ব্যাখ্যা হলো, হালাল সম্পদ ও কল্যাণ। তবে তুলনামূলকভাবে তা উট-গরুর দুধের চেয়ে কম হবে।
সিংহের দুধ পান করতে দেখা, স্বপ্নদ্রষ্টার শত্রুর ওপর বিজয়ের লক্ষণ। কারও মতে, সে অত্যাচারী বাদশার পক্ষ থেকে সম্পদ পাবে। কুকুরের দুধ স্বপ্নে দেখায় অত্যধিক ভয়ভীতি এবং তাৎক্ষণিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। চিতা-বাঘিনীর দুধ স্বপ্নে দেখার ব্যাখ্যা কুকুরের দুধের অনুরূপ। তবে কখনো জালেমের পক্ষ থেকে সম্পদ লাভেরও অর্থ বহন করে।
মহিষ, ভেড়া ও দুম্বার দুধ দেখার ব্যাখ্যা হলো কল্যাণ ও স্বভাবধর্ম। ভালুকের দুধ দেখা ক্ষতি এবং তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তার আলামত। জমিনে দুধ ছড়িয়ে পড়া বা জমিন থেকে দুধ বের হতে দেখা জুলুম প্রকাশের অর্থ বহন করে।
(স্বপ্নের ব্যাখ্যাবিদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বিখ্যাত বই তাফসিরুল আহলাম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে সংক্ষেপিত)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক