ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি লালপুরে নৌকায় পড়ে ছিল জেলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
Nagad desktop

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব
প্রতীকী ছবি

বিচারকার্য পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জটিল কাজও বটে। চিন্তা-ভাবনা ও প্রজ্ঞার সঠিক বাস্তবায়নই সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এজন্য একজন বিচারককে সর্বদা অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হয়। অনেক বেশি জ্ঞান, বুদ্ধি ও সুচিন্তিত মন-মানসিকতার অধিকারী হতে হয়। হতে হয় নিরপেক্ষ। পক্ষপাতমুক্ত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। পূর্ণ স্বাধীন, অমুখাপেক্ষী ও আমানতদার। একজন বিচারকের জন্য কখনোই পক্ষপাতিত্ব করা উচিত নয়। 


প্রাচীনকাল থেকেই যাবতীয় অন্যায়-অনাচার ও অপরাধ দমনের জন্য বিচারব্যবস্থার প্রথা প্রচলিত হয়ে আসছে। বিশেষত মুসলিম শাসকদের যুগে বহু মুজতাহিদ, গবেষক, ফকিহ, ইলমে ফিকহে পারদর্শী ব্যক্তি বিচারকের আসন অলংকৃত করেছেন। এর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বিশেষ শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) দ্বিতীয় হিজরিতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ইমাম আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম (রহ.) খলিফা হারুনুর রশিদের রাজত্বকালে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। (তারিখে ফিকহে ইসলামি) 

সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে এই বিচারকার্য পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় এখন অনেক বেশি বিকশিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় আধুনিক নানা বিষয় যুক্ত হয়েছে। তবে ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষাই হলো বিচারের মূল উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তোমরা লোকদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করো, তখন ন্যায়বিচার করো। অবশ্যই আল্লাহতায়ালা তোমাদের উত্তম উপদেশ দান করছেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)

উল্লিখিত আয়াতটি যারা বিচারকার্য পরিচালনা করেন, তাদের সঠিকভাবে বিচার করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এ হচ্ছে, কোরআনের ভাষায় উত্তম উপদেশ। তাই ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। আমাদের সমাজে যারা পারিবারিক ও বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়েরও বিচারক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় বিচারকের ভূমিকা পালন করেন, তাদেরও এখান থেকে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করা কর্তব্য। 
ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা উচিত। কখনো কোনো পক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়া উচিত নয়। আর অন্যায় পক্ষপাতিত্ব করার তো সুযোগই নেই। মনে রাখা জরুরি, অন্যায় পক্ষ অবলম্বন করা পরিষ্কার জুলুম ও অন্যায়। দুই ব্যক্তির মধ্যে ইনসাফ করাও সদকা। আর ন্যায় বিচারক এবং ইনসাফকারীদের সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বিচারক যতক্ষণ পর্যন্ত জুলুম করেন না, (কারও ওপর অন্যায় জোর-জবরস্তিমূলক কোনো রায় বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না) ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা তার সঙ্গে থাকেন। অতঃপর সে যখন জুলুম শুরু করে দেয়, তখন আল্লাহতায়ালা তাকে তার নিজের ওপর ছেড়ে দেন।’ (ইবনে মাজাহ)। আরেক হাদিসে এসেছে, ‘সুবিচারক আল্লাহতায়ালার কাছে তার ডান হাতের দিকে নুরের মিম্বরের ওপর উপবিষ্ট থাকবে। যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবারে ও দায়িত্বভুক্ত বিষয়ে ইনসাফ রক্ষা করে বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।’ (নাসায়ি)

আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজে যারাই বিচারকার্য পরিচালনা করেন, তাদের সবার জন্য আবশ্যক হলো, অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে; পরিপূর্ণ বিশ্বস্ততা পালন করে এ জাতীয় কাজ সম্পন্ন করা। আল্লাহতায়ালা আমাদের শাসক ও বিচারকদের আল্লাহর ভয় ও পরকালীন জবাবদিহি সামনে রেখে যাবতীয় বিচারকার্য পরিচালনা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার তৌফিক দান করুন। 

 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

 

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়। আদম (আ.)কেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও ঘটে এই দিনে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীদের হত্যা করা হয় এই দিনে।

 

১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিজের অধিকারের সীমানা চেনা উপায়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
নিজের অধিকারের সীমানা চেনা উপায়
ছবি: সংগৃহীত

মানবসমাজের শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক অধিকারের ভারসাম্য রক্ষায় ইসলাম যে কতটা বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক, তা ফুটে উঠেছে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর আইনি প্রজ্ঞাপূর্ণ এই বাণীতে। আমরা অনেক সময় আবেগের বশে বা অজ্ঞতাবশত এমন কিছু কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যা করার কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার আমাদের নেই। এই মানসিকতা ও ভুল প্রবণতাকে সুনির্দিষ্ট সীমারেখায় এনেছেন বিশ্বনবি (সা.)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি বিশেষ উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও মালিকানার একটি চিরন্তন মূলনীতি স্পষ্ট করেছেন:
একজন মানুষের নিজের যা সামর্থ্য বা মালিকানায় নেই, তা নিয়ে আল্লাহর নামে মান্নত করা সম্পূর্ণরূপে অর্থহীন। যেমন- কারও হয়তো নিজের কোনো গবাদি পশু বা অর্থ নেই, অথচ সে মান্নত করল যে অন্য কারও সম্পদ বা অলীক কোনো বস্তু আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেবে। নিজের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এমন মান্নতের কোনো ধর্মীয় কার্যকারিতা নেই।

প্রাচীন সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে নবিজি (সা.) স্পষ্ট করেন, যে দাস বা বন্দি নিজের অধীনে নেই, তাকে মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। এটি মূলত মানুষের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। পারিবারিক ও বৈবাহিক আইনের ক্ষেত্রে এটি একটি বৈপ্লবিক সামাজিক মূলনীতি। যে নারী এখনো কারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি অথবা যে নারী অন্য কারও স্ত্রী, তাকে তালাক দেওয়ার কোনো অধিকার কোনো পুরুষের নেই। অর্থাৎ, বিবাহ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে বা সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো নারীকে লক্ষ্য করে তালাকের ঘোষণা দেওয়া এক প্রকার হাস্যকর ও বাতিল প্রচেষ্টা মাত্র।

এই হাদিসটি আমাদের একটি আধুনিক আইনি ধারণা দেয়, যাকে আমরা বলি ‘মালিকানা ও কর্তৃত্বের অধিকার’ (Right of Ownership and Jurisdiction)। ইসলাম আমাদের শেখায়, অবাস্তব কল্পনা বা অন্যের ওপর অনধিকার চর্চা করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যাবে না। নিজের অধিকারের সীমানা চেনা এবং সেই সীমানার ভেতরে থেকে দায়িত্ব পালন করাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

জাহান্নামের আগুন যার জন্য হারাম

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
জাহান্নামের আগুন যার জন্য হারাম
ছবি: সংগৃহীত

রুক্ষতা এবং অহংকারের এই আধুনিক যুগে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি কী হতে পারে? প্রচলিত সমাজ যেখানে কঠোরতাকে ক্ষমতা মনে করে, সেখানে ইসলামের পরম শিক্ষা বলছে–নম্রতা, লজ্জা এবং সরলতাই হলো ইহকাল ও পরকালের সবচেয়ে বড় বিজয়ের চাবিকাঠি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুমহান বাণীগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সামান্য আচরণগত পরিবর্তন কীভাবে একজন মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে পারে।

কঠোরতা নয়, বরং কোমলতাই মহান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় গুণ।দ উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতাকে ভালোবাসেন। আর তিনি কোমলতার প্রতি যত অনুগ্রহ করেন, কঠোরতা এবং অন্য কোনো আচরণের প্রতি তত অনুগ্রহ করেন না (মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৬৮)।

রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নম্রতা মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং কঠোরতা মানুষের স্বভাবকে দোষনীয় করে তোলে। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, যাকে নম্রতার কিছু অংশ দেওয়া হয়েছে, তাকে মূলত দুনিয়া ও আখেরাতের বিরাট কল্যাণের অংশ দেওয়া হয়েছে (শরহু সুন্নাহ, মিশকাত হা/৫০৭৬)।

ইসলামে লজ্জা কেবল একটি অনুভূতি নয়, এটি ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। ইবনু ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক আনসারি ব্যক্তি তার ভাইকে লজ্জা করার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিলেন; তা দেখে রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা হলো ঈমানের অংশ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৭০)।

বিপরীতে সমাজে যারা মুখোশধারী বা দ্বিমুখী, তাদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে সেই দ্বিমুখী ব্যক্তি, যে একেকজনের কাছে একেক মুখ নিয়ে হাজির হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২২)।

মানুষ হিসেবে ভুল বা পাপ হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে তা থেকে মুক্তির পথও সহজ। আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপদেশ দিয়েছেন–যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো (যা পাপকে মুছে দেবে) এবং সদাচরণের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মিশে থাকো (তিরমিজি, মিশকাত হা/৫০৮৩)।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন এক পরম সৌভাগ্যের কথা। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম, যার মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং আচরণ সরল সহজ (আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত হা/৫০৮৪)। রুক্ষতা বর্জন করে সরলতা ও কোমল আচরণের মাধ্যমে মানুষের নিকটবর্তী হওয়াই হোক আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় আদর্শ।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল নবিজির মাথায় ও দাড়িতে কয়টি সাদা চুল ছিল?

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
নবিজির মাথায় ও দাড়িতে কয়টি সাদা চুল ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল-দাড়ি পেকে যাওয়া পৃথিবীর চিরন্তন নিয়ম। কিন্তু আপনি কি জানেন, সৃষ্টির সেরা মানুষ হওয়া সত্ত্বেও প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র শরীরে বার্ধক্যের ছাপ কেমন ছিল? তাঁর মাথা ও দাড়িতে ঠিক কতটি সাদা চুল ছিল–চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই দুর্লভ ইতিহাস নিয়ে চমৎকার তথ্য।

প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক অবয়ব ও সৌন্দর্যের বর্ণনা সাহাবিরা এত সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষণ করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায় না। নবিজির (সা.) বার্ধক্যের আগমন এবং তাঁর পবিত্র মাথা ও দাড়ির সাদা চুলের সংখ্যা নিয়েও রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার এবং নিখুঁত বিবরণ।

আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর চুল ও দাড়ি এত বেশি সাদা হয়নি যে তাঁর কৃত্রিম রঙ বা খেজাব ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে। তাঁর শ্বেতকেশের অবস্থান ছিল মূলত গণ্ডদ্বয়ের পাশে এবং কানের মধ্যবর্তী অংশে।
কাতাদা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) কি খেজাব ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, তিনি ওই পর্যন্ত পৌঁছাননি (অর্থাৎ তাঁর দাড়ি ও চুল এতদূর সাদা হয়নি, যাতে খেজাবের প্রয়োজন হয়)। কেবল তাঁর চোখ ও দুই কানের মধ্যবর্তী অংশের কিছু চুল সাদা হয়েছিল। তবে আবু বকর (রা.) মেহেদি পাতা ও কাতাম দ্বারা খেজাব লাগাতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬২১৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৮৫১; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস: ৬৭৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস: ৩১৭৬; মুসনাদে আবু ই’আলা, হাদিস: ২৮৯৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা ও পর্যবেক্ষণ কতটা গভীর ছিল, তা বোঝা যায় সাদা চুলের সংখ্যা গণনার দিকে তাকালে। হযরত আনাস (রা.) স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাথা ও দাড়ির সাদা চুল গণনা করেছিলেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মাথা ও দাড়িতে মাত্র ১৪টি সাদা চুল গণনা করেছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১২৭১৩; শারহুস সুন্নাহ, ৩৬৫৩; ইবনে হিব্বান,৬২৯৩; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, ২০১৮৫)

বিভিন্ন বর্ণনায় এই সংখ্যার কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কোনো হাদিসে ১৪টি, কোনোটিতে ১৭টি, ১৮টি, আবার কোনো বর্ণনায় ২০টি সাদা চুলের কথা এসেছে। মুহাদ্দিসগণের মতে, এই বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা অমিল নেই। কারণ, সাহাবিরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই চুলগুলো গণনা করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই-একটি চুল বাড়াটা স্বাভাবিক। তবে সব বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য একটাই–নবিজি (সা.)-এর সাদা চুলের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং তা তাঁর চিরন্তন সৌন্দর্যে কোনো ঘাটতি তৈরি করেনি, বরং এক সৌম্য গাম্ভীর্য এনে দিয়েছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক