পরিবার, সমাজ ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতার প্রধান বাধা বৈষম্য। বৈষম্যের কারণে পরিবার, সমাজ ও দেশ বুক টান দিয়ে দাঁড়াতে পারে না। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যের নানা রূপ দেখা যায়। ইসলামে বৈষম্য হারাম। ইসলাম তার সূচনা থেকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। আঘাত করেছে বৈষম্যের মূলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক হকদার বা মর্যাদার অধিকারীকে তার প্রাপ্য অনুযায়ী হক বা মর্যাদা দাও।’ (বুখারি, হাদিস: ১৯৬৮)
একই ভাবে বেইনসাফ, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত, বর্ণবাদ, দ্বেষ-বিদ্বেষ, বিবাদ-বিসম্বাদ, অকল্যাণ কামনা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈষম্য। অন্যদিকে বৈষম্যহীনতার প্রকাশ ঘটে ইনসাফ, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা ইত্যাদি উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাঁর পবিত্র আলোয় জীবন সাজাতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে ন্যায়বিচার, অধিকার আদায়ে সমতা, সাম্য ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের শাশ্বত আদর্শ মোতাবেক মহানবি (সা.) আদর্শ সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন। ঐতিহাসিক রেমন্ড লার্জ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সূচনাকারী হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম ইতিহাসে প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে।’
বৈষম্যঘেরা পৃথিবীর মুক্তির জন্য নবির আদর্শের বিকল্প নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন দূর করতে প্রধান নিয়ামক। পবিত্র কোরআনে তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত বলা হয়েছে। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)
ইসলামের পূর্ববর্তী আরবসহ সারা বিশ্ব-সমাজে বৈষম্য ছিল চরমে। কিন্তু মহানবির আদর্শের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার, অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিক রেমন্ড লার্জ বলেন, প্রকৃতপক্ষে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সূচনাকারী হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম ইতিহাসে প্রথম উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে মানবতার মুক্তির দূত মহানবি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ অপরিহার্য। তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা
, , ,