ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ডাক সেবায় আসছে অটোমেশন পদ্ধতি: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী চীনের উসিতে চালু হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিনেমা হল প্রশিক্ষণ মাঠেই থেমে গেল এসআই জীবন রহমানের জীবনযাত্রা তানিয়া বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে যা জানা গেল বাড়ি নির্মাণে ঋতুপর্ণাকে অর্থ সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নীরবতার কণ্ঠস্বর ‘ভাসানে উজান’ মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্র্যাক ‘সির সির’ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীর নামে মামলা, আটক ৩ টেলিমেডিসিনের গুরুত্ব বর্তমানে বৈধ সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সংসদ সদস্যের পদ ছাড়ছেন কোয়েল বিচার চাইব কার কাছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আরও ঝলমলে রঙিন হচ্ছে পাহাড়ি শহর ছোংছিংয়ের রাত আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন? নাটোরে স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ মরদেহ ফ্রিতে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিদেশে শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে: অর্থমন্ত্রী নোবিপ্রবির নতুন উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার অপরিবর্তিত থাকবে: অর্থমন্ত্রী ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৬ সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রামিসা ও নূরজাহান হত্যা: আমাদের মূল্যবোধের পচন
Nagad desktop

লেখক ফোরাম গ্রন্থ সম্মাননা পেলেন খবরের কাগজের মিরাজ রহমান

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:১১ এএম
আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:১৪ এএম
লেখক ফোরাম গ্রন্থ সম্মাননা পেলেন খবরের কাগজের মিরাজ রহমান
অতিথিদের কাছ থেকে সম্মাননা নিচ্ছেন দৈনিক খবরের কাগজের ইসলাম বিভাগীয় প্রধান মিরাজ রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৪ পেয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের ইসলাম বিভাগীয় প্রধান মিরাজ রহমান। দ্য গ্রেটেস্ট অন্ট্রাপ্রেনর মুহাম্মাদ (সা.) বইয়ের জন্য গবেষণামূলক ক্যাটাগরিতে তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও নয়জন গ্রন্থ সম্মাননা ও তিনজন ফিচার সম্মাননা পেয়েছেন।  

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক মিরাজ রহমানের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। 

ফোরাম সভাপতি কবি মুনীরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমিন ইকবালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য লেখক ও মুহাদ্দিস মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, মাসিক আদর্শ নারীর সম্পাদক আবুল হাসান শামসাবাদী, লেখক অনুবাদক জুবাইর আহমদ আশরাফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বার্তা টুয়েন্টিফোরের সহকারী সম্পাদক ও ইসলামি লেখক ফোরামের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মুফতি এনায়েতুল্লাহ, ঢাকামেইলের বার্তা সম্পাদক ও ইসলামি লেখক ফোরামের সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর, আওয়ার ইসলাম টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব, লেখক সাংবাদিক মাসউদুল কাদির প্রমুখ। 

মিরাজ রহমান এর আগে তিন বছর রকমারি.কম বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড ও ২০২৩ সালে বইফেরী অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: লেখক ফোরাম গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৪ পেলেন যারা

মিরাজ রহমান দৈনিক ডেসটিনি, দৈনিক কালের কণ্ঠ, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও প্রিয়.কমে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইসলামবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ‘প্রিয় ইসলাম’-এর সৃষ্টি ও পথচলা তারই হাতে। টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দৈনিক খবরের কাগজে ইসলাম বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মিরাজ রহমানের লেখা বইয়ের সংখ্যা ১২টি। প্রোডাক্টিভ মুসলিম, মুসলিম সভ্যতার ১০০১ আবিষ্কার ও দ্য গ্রেটেস্ট অন্ট্রাপ্রেনর মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো তিনটি বেস্টসেলার বইয়ের লেখক মিরাজ রহমান।

আরআর

আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?
ছবি: সংগৃহীত

আজকের আধুনিক ব্যাংকিং, পুঁজিবাদ কিংবা ক্ষুদ্রঋণের এই যুগে সুদ শব্দটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক বা করপোরেট সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এই সুদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক অবক্ষয় কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী ও সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুদের পাপের ৭০টি স্তর বা শাখা রয়েছে; আর তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বা নিম্নতম স্তর হচ্ছে আপন মাতাকে বিবাহ করার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া (ইবনে মাজাহ, ২৮২৬)।

অনেকেই মনে করেন, নিরুপায় হয়ে সুদের চুক্তিপত্র বা দলিলে স্বাক্ষর করলে কিংবা কেবল সাক্ষী থাকলে হয়তো বড় কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু ইসলামের অর্থনৈতিক নীতিতে অপরাধের সহযোগিতা করাও সমান অপরাধ। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং সুদের দুই সাক্ষীর ওপর অভিশাপ বা লানত করেছেন। নবিজি (সা.) স্পষ্ট করে বলেন, এই ভয়ংকর অভিশাপ ও পাপের ভাগীদার হিসেবে তারা সবাই সমান (মুসলিম, ২৮০৭)।

আজকের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ‘স্পিড মানি’ বা উপহারের নামে টেবিলের নিচ দিয়ে যে অর্থ লেনদেন হয়, তাকে আমরা বকশিশ বলে বৈধ করতে চাই। অথচ প্রশাসনিক সততার মাপকাঠি নিয়ে বুরায়দাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমি যাকে নির্দিষ্ট ভাতা বা বেতন দিয়ে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছি, সে যদি সেই নির্ধারিত ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু (বকশিশ বা অতিরিক্ত অর্থ) গ্রহণ করে, তবে তা হবে স্পষ্ট ‘খিয়ানত’ বা চরম বিশ্বাসঘাতকতা (আবু দাউদ, ৩৭৪৮)।

বর্তমান সময়ে সরকারি অনুদান, জনকল্যাণের বাজেট কিংবা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার প্রবণতা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অথচ পরকালের আদালতে এর হিসাব অত্যন্ত কঠিন। হযরত খাওয়ালাহ আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদ (জনগণের বা রাষ্ট্রের সম্পদ) অন্যায় ও অবৈধভাবে ভক্ষণ বা ভোগ করে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য অবধারিতভাবে রয়েছে জাহান্নামের আগুন (বুখারি, ৩৭৪৬)।

জীবনের প্রতিটি উপার্জনকে হালাল ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত। আসুন, সুদের ভয়াবহতা ও আমানতের খিয়ানত থেকে নিজেকে দূরে রাখি, যেন আমাদের প্রতিটি লোকমা হয় পবিত্র ও বরকতময়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

আধুনিক সমাজে অপরাধ আড়াল করতে মানুষ কত ফন্দিই না আঁটে! কিন্তু এমন এক অলৌকিক বিচারব্যবস্থার বিধান রয়েছে, যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হযরত উবাদাহ ইবনু ছামেত (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচারের কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, অবিবাহিত অপরাধীদের জন্য একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন এবং বিবাহিতদের জন্য চরম শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপের বিধান নির্ধারিত (মুসলিম, ৩৫৫৮)। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসেও বিবাহিত ব্যভিচারী, খুনি এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে (আবু দাউদ, ৪৩৫৩)।

সমাজে কিছু অপরাধের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা এতটাই কুৎসিত যে, স্রষ্টা স্বয়ং তাদের প্রতি বিমুখ হন। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির লোকের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলেন, বার্ধক্যে উপন্ন হওয়া ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহঙ্কারী দরিদ্র ব্যক্তি (মুসলিম, ৫১০৯)।

অপরাধ স্বীকার করে নিজেকে শুধরে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য মনস্তাত্ত্বিক খণ্ডচিত্র পাওয়া যায় সাহাবি মায়েয ইবনে মালেক (রা.) এবং গামেদি গোত্রের এক নারীর ঘটনায়। তারা নিজে থেকে রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে নিজেদের ব্যভিচারের অপরাধ স্বীকার করে পবিত্র করার আকুতি জানান। রাসুল বারবার তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিলেও তারা নিজেদের দাবিতে অটল থাকেন। এমনকি গামেদি নারী গর্ভবতী থাকায় সন্তান প্রসব এবং পরে তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত রুটির টুকরো হাতে না আসা অবধি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ও শাস্তি মাথা পেতে নেন। তাদের এই খাঁটি অনুশোচনা দেখে রাসুল (সা.) বলেন, তারা এমন খালেছ তওবা করেছে, যা সমস্ত উম্মত বা কোনো বড় জালেমের মাগফিরাতের জন্যও যথেষ্ট (মুসলিম, ৩৫৬২)।

লোকচক্ষুর আড়ালে করা পাপের পরকালীন পরিণতি কেমন হতে পারে, তা রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি অলৌকিক স্বপ্নে স্পষ্ট হয়। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে দেখা যায়–তন্দুরের মতো এক সংকীর্ণ ও লেলিহান অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষরা জ্বলছে। সঙ্গী ফেরেশতা জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) জানান, তারা মূলত দুনিয়ার ব্যভিচারী বা জেনাকারীর দল (বুখারি, ৪৬২১)। সেই স্বপ্নে কোরআন থেকে গাফেলদের মাথায় পাথর নিক্ষেপ এবং মিথ্যাবাদীদের গাল সাঁড়াশি দিয়ে চেরার দৃশ্যও দেখানো হয়।

আইন ও সমাজের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও নিজের কর্ম ও বিবেকের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। সাময়িক মোহের পেছনে না ছুটে মায়েয বা গামেদি নারীর মতো অনুতপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে পবিত্র রাখাই হোক আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো নয়নের কথা কল্পনা করেছেন, যার শুভ্রতার মাঝে লুকিয়ে ছিল এক মায়াবী লালিমা? কিংবা এমন এক অনন্য বাচনভঙ্গির কথা, যা কোনো কৃত্রিম মাইক্রোফোন ছাড়াই হাজারও মানুষের জনসমুদ্রে স্পষ্ট শোনা যেত? সাহাবি হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকাতেন, তাঁর দৃষ্টি থমকে যেত নবিজির চোখ এবং মুখের এক অপার্থিব সৌন্দর্যের কাছে। চলুন, আজ নবিজির মুখাবয়ব, ডাগর চক্ষু এবং পায়ের গোড়ালির চমৎকার এক শারীরিক রহস্য উন্মোচন করি।

হাদিসের নিখুঁত পরিভাষা ও সাহাবিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মুখ মোবারক ছিল বেশ প্রশস্ত (মুসলিম,৬২১৬)। আরবের প্রখ্যাত বর্ণনাকারী সিমাক (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর অর্থ হলো– তিনি ‘বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট’ বা সুন্দর ও সুললিত বাচনভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। মানব শরীরের গঠনশৈলী ও প্রাচীন আরবের অলঙ্কারশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রশস্ত মুখগহ্বর হওয়া উচ্চ কণ্ঠস্বর, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং অসাধারণ বাগ্মিতার লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যখন কথা বলতেন, তখন প্রতিটি শব্দ মুক্তোর মতো ঝরে পড়ত এবং দূর-দূরান্তের মানুষও তা কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই শুনতে পেত।

নবিজি (সা.)-এর চোখের গঠন ছিল অতুলনীয়। তিনি ছিলেন ডাগর বা বড় চক্ষুর অধিকারী (মুসলিম,৬২১৬)। তাঁর চোখের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল, চোখের সাদা অংশের মাঝে এক ধরনের হালকা ও সূক্ষ্ম লালিমার আভা ছড়িয়ে থাকত (মুসনাদে আহমাদ, ২১০২৪)। এটি কোনো ক্লান্তির লক্ষণ ছিল না, বরং এই স্বাভাবিক লালিমা তাঁর ডাগর চোখ দুটিকে এক অনন্য তেজস্বী, গম্ভীর এবং মায়াবী রূপ দান করেছিল, যা দেখামাত্রই মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হতো।

নবিজি (সা.)-এর পায়ের গোড়ালি মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বল্প মাংসল বা সরু (সহিহ ইবনে হিব্বান,৬২৮৯)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পায়ের গোড়ালি হালকা ও সরু হওয়া দ্রুত হাঁটার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং ক্লান্তিহীন পথ চলার শারীরিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। এই চমৎকার শারীরিক কাঠামোর কারণেই তিনি আরবের উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর দিয়ে মাইলের পর মাইল ক্লান্তিহীনভাবে হেঁটে দাওয়াতের কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন (জামেউস সগির, ৮৯৫২)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম
৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১০ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.)

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.)
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের জীবনে আনন্দ ও উদযাপনের মুহূর্তগুলো নানা রূপে আসে। কখনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, কখনো চাকরিতে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি, ব্যবসায়িক সাফল্য কিংবা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন—সবই মানুষের মনকে এক অনাবিল প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। বিজয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে মানুষ সাধারণত উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। কিন্তু একজন মুমিনের আনন্দ প্রকাশের ধরণ সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো অর্জনের পেছনে নিজের মেধার চেয়ে মহান আল্লাহর অনুগ্রহই প্রধান। তাই সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর দরবারে বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো বড় সাফল্য, বিজয় বা কাঙ্ক্ষিত অর্জন লাভ করতেন, তখনই তিনি পরম স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের মতো মহিমান্বিত মুহূর্তেও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অবয়বে কোনো অহংকার ছিল না, বরং তাঁর হৃদয় ছিল আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় নত।

বিজয় ও সাফল্যের সেই বিশেষ মুহূর্তে রাসুল (সা.) যে দোয়াটি নিয়মিত পড়তেন, তা নিচে দেওয়া হলো: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَصَرَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ
বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি নাসারা আবদাহু ওয়া আ-আজ্জা দ্বীনাহ।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে (জীবনবিধানকে) শক্তিশালী ও সম্মানিত করেছেন।

আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে আমরা যখনই কোনো সফলতা পাই, মনের অজান্তেই আমাদের ভেতর আমি বা অহংকারবোধ জাগ্রত হয়। আমরা মনে করি, এই অর্জন কেবলই আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। অথচ আমাদের চারপাশে কত মানুষই না রাতদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। তাই যেকোনো বড় অর্জনে এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং সমস্ত সফলতার কৃতিত্ব মহান আল্লাহকে উৎসর্গ করে। এটি মানুষের মন থেকে অহংকার দূর করে তাকে বিনয়ী করে তোলে।

কৃতজ্ঞতা কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক পরম ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। (সুরা ইবরাহিম, ৭)

লেখক: শিক্ষিকা, মাদরাসা ফাতেমাতুজ জাহরা, মুহাম্মদপুর।