আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবি) বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১)। আল্লাহকে পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো মুহাম্মাদ (সা.)-কে ভালোবাসা। মুহাম্মাদ (সা.)-এর উত্তম আদর্শের কাছে নিজেকে পরিপূর্ণ সমর্পণ করা। তাঁর আদর্শের কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়া যায়। আল্লাহর প্রিয় হওয়া যায়। মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো উত্তম আদর্শের জনক পৃথিবীতে আর কেউ নেই। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সব মানুষের জন্য রহমত। তিনি পৃথিবীতে বিপুল রহমত নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর হৃদয় ছিল পৃথিবীর সব কালের সব মানুষের জন্য দয়ামায়ায় পরিপূর্ণ।
যারা মুহাম্মাদ (সা.)-কে দিয়েছে অবর্ণনীয় কষ্টক্লেশ, তিনি তাদের জন্য ঘোষণা করেছেন গণক্ষমা। যারা তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছে দুয়ার থেকে, পাথরে পাথরে করেছে জর্জরিত, তিনি তাদের জন্য করেছেন কল্যাণের দোয়া। কারণ তিনি রহমতের নবি। রহমতের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সয়েছেন লাঞ্ছনা, হয়েছেন নির্বাসিত, হারিয়েছেন আত্মীয়-স্বজন। তবুও তিনি আশা হারিয়ে ফেলেননি মানুষের ওপর থেকে, নিরাশ হয়ে যাননি রবের করুণা থেকে। ফলে আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করেছেন অভাবিত বিজয়ে, ভূষিত করেছেন রহমাতুল-লিল আলামিন অভিধায়।
রহমতের নবির সে মহাকাব্যিক জীবনের আনন্দ-বেদনার ঘটনাবলি দিয়ে সাজানো হয়েছে অসামান্য সিরাতগ্রন্থ নবিয়ে রহমত। বইটি লিখেছেন প্রখ্যাত আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক, সুসাহিত্যিক সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদভি। বইটি নবিজির মহাকাব্যিক জীবন, সুমহান চরিত্র, অনুপম আদর্শ, অমূল্য পাথেয়ের আলোকিত পাঠ ও অসাধারণ বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। এ বই সিরাতের প্রাচীন মৌলিক বইগুলোর ওপর ভিত্তি করে আধুনিক ভাষা ও জ্ঞান-গবেষণার রীতিতে লেখা হয়েছে। লেখক এখানে শুধু নবিজীবনের ঘটনাপ্রবাহের ওপর থেমে থাকেননি; বরং বিশ্লেষণের সূত্র ধরে গভীর থেকে তুলে এনেছেন শিক্ষণীয় উপাদান ও দার্শনিক ফলাফল।
বইটিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সচরাচর অন্যান্য সিরাতবইয়ে পাওয়া যায় না—
- বইটি আধুনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শৈলীতে লেখা।
- প্রাচীন ও আধুনিক— সব ধরনের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য আহরণ করে বইটি লেখা হয়েছে।
- লেখক বইটি রচনায় আবেগ ও বিবেক দুটোই সমানভাবে কাজে লাগান।
- তিনি মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে সামনে রেখে বইটি রচনা করেন।
- বইটিতে নবিজীবনের বুদ্ধিবৃত্তিক দিক এবং উম্মাহর গঠন ও দাওয়াতের দিক— উভয়টি সমানভাবে উঠে এসেছে।
- বইয়ের শেষ অধ্যায়ে লেখক গোটা বিশ্বের ওপর নবিজির (সা.) অসামান্য অবদান তুলে ধরেছেন।
নবিয়ে রহমত মূলত আরবি ভাষায় রচিত। বইটির মূল নাম আস-সিরাতুন নাবাবিয়া। ১৯৭৭ সালে এ নামেই বইটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি, তুর্কি ও ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় বের হয়েছে এর অনুবাদ। এভাবেই বইটি নানা দেশের অগণিত পাঠকের হাতে পৌঁছায়। বিশেষ করে আরবি সংস্করণটি আরব বিশ্বের কয়েকটি জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। বইটি আপনার সিরাতপাঠের মননকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বইটি লিখেছেন সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদভি। অনুবাদ করেছেন আব্দুল্লাহ আল-ফারুক। অনুবাদের ভাষা সহজ-সাবলীল, ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত। সব শ্রেণির পাঠক বইটি সহজে বুঝতে পারবেন এবং উপকৃত হতে পারবেন। সম্পদনা ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মূল আরবি বইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। যুক্ত করা হয়েছে প্রয়োজনীয় টীকা-টিপ্পনী, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তথ্যসূত্র। ব্যক্তি, স্থান ও স্থাপনার বিশুদ্ধ নাম তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আকরগ্রন্থগুলোর সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
বইটি প্রকাশ করেছে সমকালীন প্রকাশন। ৬১৬ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য ৮৫০ টাকা। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি সমকালীন প্রকাশন থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেজে।
বই: নবিয়ে রহমত
লেখক: সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদভি
অনুবাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৬
মুদ্রিত মূল্য: ৮৫০ টাকা
মোবাইল: ০১৪০৯-৮০০৯০০
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক